মস্তিষ্কে একটি বিশেষ ধরনের যন্ত্র বসিয়ে এক রোগীর গভীর মানসিক অবসাদ দূর করা হলো। মস্তিষ্কের যে অংশটির কাজকর্ম অস্বাভাবিক হয়ে পড়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরে গভীর মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন ওই রোগী, সেই অংশের একটি নির্দিষ্ট জায়গায় যন্ত্রটি থেকে পাঠানো বিদ্যুত্তরঙ্গই রোগীকে সারিয়ে তুলল। অন্য কোনো প্রচলিত চিকিৎসাপদ্ধতিতেই এটি সারিয়ে তোলা সম্ভব হচ্ছিল না।
সারাহ (৩৬) নামের ওই নারী রোগী গভীর মানসিক অবসাদগ্রস্ততা থেকে সব সময় আত্মঘাতী হওয়ার সুযোগ খুঁজতেন। মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশকে প্রয়োজনে সক্রিয় করে তোলার জন্য বানানো ব্যাটারিচালিত ওই যন্ত্র সারাহর মস্তিষ্কে স্থাপন করেন সান ফ্রান্সিসকোর ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল বিজ্ঞানী ও গবেষক। তাঁদের পরীক্ষাপদ্ধতি ও সাফল্যের ভিত্তিতে লেখা গবেষণাপত্রটি গত সোমবার প্রকাশিত হয়েছে আন্তর্জাতিক চিকিৎসা গবেষণা পত্রিকা নেচার মেডিসিনে।
ব্যাটারিচালিত এই যন্ত্র যে শুধু মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশকে প্রয়োজনে সক্রিয় করে তুলতে পারে, তা-ই নয়; মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশের ভেতরে বিদ্যুত্তরঙ্গের পরিমাণ আর তার কমা-বাড়ার ওপরও কড়া নজর রাখতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদ্ধতি একটি অভিনব উদ্ভাবন। এর ফলে গভীরভাবে মানসিক অবসাদে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা রোগীকে সারিয়ে তোলা সম্ভব হবে, যা এত দিন কোনো চিকিৎসায়ই করা যেত না। সারাহর মস্তিষ্কে এক বছর আগে ম্যাচবক্সের আকৃতির ওই যন্ত্র লাগানো হয়। তিনি জানান, যন্ত্রটি তাঁর জীবনই আমূল বদলে দিয়েছে।
ডর্টসমাউথের গাইসেল স্কুল অব মেডিসিনের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর পল হোলঝহেমার বলেছেন, এটি সত্যি সত্যিই অভিনব পদ্ধতি। তবে মাত্র একজন রোগীর ওপর পরীক্ষায় সাফল্য এসেছে। আরো বহু রোগীর ওপর এই পদ্ধতি পরীক্ষা করে দেখতে হবে, ভবিষ্যতে এর বহুল ব্যবহারের জন্য। সূত্র : গার্ডিয়ান।