ডা. মোহাম্মদ আজিজুর রহমান: শরীরে অমিক্রনের লক্ষণ থাকা সত্ত্বেও অনেকে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। যাচ্ছেন এক জেলা থেকে অন্য জেলায়। মেলা, উৎসব ও সামাজিক অনুষ্ঠানেও অংশ নিচ্ছেন। অনেকে মনে করছেন, এটা সাধারণ সর্দি-জ্বর, শীতকাল বা মৌসুম বদলের সময় এসব হয়েই থাকে। তাই তাঁরা করোনা পরীক্ষায় আগ্রহী নন। যদি পজিটিভ হন, এই ভয় থেকেও অনেকে পরীক্ষা করানো থেকে বিরত থাকছেন। আবার অনেকে ভাবছেন, পরীক্ষা করানো ঝামেলা। আবার কেউ ভাবছেন, করোনা ধরা পড়লে দুশ্চিন্তা বাড়বে, বরং পরীক্ষা না করানোই ভালো। অথচ দিন দিন পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। বেড়ে চলেছে অমিক্রনের সংক্রমণ।
লক্ষণ
সাধারণ সর্দি–জ্বরের মতো উপসর্গ, যেমন নাক দিয়ে পানি পড়া, অল্প জ্বর ও ম্যাজম্যাজ ভাব, গলা খুসখুস করা, শুকনা কাশি ও কণ্ঠ বসে যাওয়া, পরিবারের সবার একসঙ্গে অসুস্থ হওয়া, হজমে সমস্যা; পিঠ, মেরুদণ্ড ও পেশিতে ব্যথা; চোখে সংক্রমণ, পায়ের আঙুলে র্যাশ, দুর্বলতা ও ক্লান্তি, ঘুম না হওয়া ও অস্থিরতা।
অমিক্রনের লক্ষণগুলোর সঙ্গে করোনার সাধারণ তিনটি লক্ষণের মিল পাওয়া গেছে। সেগুলো হলো—কাশি, জ্বর, স্বাদ ও গন্ধে পরিবর্তন। তবে এসবের পাশাপাশি মাথাব্যথা, রাতে ঘাম, বমি ও খাবারে অনীহা অমিক্রনের উপসর্গ হিসেবে দেখা গেছে।
করোনাভাইরাসের অন্যান্য ধরনের মতো অমিক্রনে প্রচণ্ড জ্বর বা স্বাদ ও গন্ধ একেবারে চলে যাওয়ার মতো সমস্যা হচ্ছে না। অক্সিজেনের মাত্রাও ঠিক থাকছে। তার মানে এই নয় যে ধরনটি একেবারেই দুর্বল। যাঁদের অন্যান্য জটিল রোগ আছে, তাঁদের জন্য যেকোনো ধরনই বিপজ্জনক।
তাই ঠান্ডার সমস্যা দেখা দিলে করোনা পরীক্ষা করানো উচিত। পরীক্ষার প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত ঘরে থাকুন। এতে অমিক্রনের সংক্রমণ ছড়ানো থেকে বিরত থাকতে পারবেন। সংক্রামিত হলে ১০ দিন ঘরে আলাদা কক্ষে থাকুন।
টিকা নেওয়ার পর স্বাস্থ্যবিধি না মানলেও সংক্রমণের শিকার হতে পারেন। তাই বুস্টার ডোজ নিলেও সতর্ক থাকতে হবে। এ ছাড়া এখনো বহু মানুষ টিকার আওতায় আসেননি। অমিক্রন যত বেশি ছড়াবে, তাঁদের বিপদ তত বাড়বে।