রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত ইউনাইটেড হাসপাতালে আগুনে পুড়ে নিহত পাঁচ রোগীর মধ্যে চার রোগীর প্রত্যেকের পরিবারকে ২৫ লাখ টাকা করে মোট এক কোটি টাকা দিয়েছে সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এই টাকা দেওয়ার তথ্য দেশের সর্বোচ্চ আদালত আপিল বিভাগকে অবহিত করা হয়েছে। নিহতদের পরিবারের আইনজীবী ব্যারিস্টার অনীক আর হক ও অ্যাডভোকেট নিয়াজ মুহাম্মদ মাহবুব আজ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে অপর এক রোগীর পরিবারকে ২০ লাখ টাকা দিয়ে আপোষ করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের ছয় বিচারপতির বেঞ্চ গত ২৯ এপ্রিল এক আদেশে নিহত চার রোগীর পরিবারের প্রত্যেককে ২৫ লাখ টাকা করে দিতে নির্দেশ দেন। আদেশের কপি পাওয়ার একমাসের মধ্যে এই টাকা দিতে ইউনাইটেড হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রতি নির্দেশ দেওয়া হয়। এই নির্দেশের পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্থ চার পরিবারকে এক কোটি টাকা দিয়েছে।

হাইকোর্ট গতবছর ১৫ জুলাই এক আদেশে ক্ষতিগ্রস্থ চার পরিবারের প্রত্যেক পরিবারকে ৩০ লাখ টাকা করে দিতে নির্দেশ দেন। ইউনাইটেড হাসপাতালে ৫ জন রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা পৃথক দুটি রিট আবেদনের ওপর শুনানি শেষে এ আদেশ দেন আদালত। কিন্তু এ আদেশের বিরুদ্ধে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আবেদনে আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতির আদালত হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেন। পরবর্তীতে বিষয়টি আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে উঠলে আপিল বিভাগ হাইকোর্টকে রুল জারির পাশাপাশি শুনানির নির্দেশনা দেন। এরই ধারাবাহিকতায় মামলাটি হাইকোর্টে পুনরায় শুনানির জন্য উঠলে হাইকোর্ট গত ১১ জানুয়ারি ক্ষতিগ্রস্থ চার পরিবারের প্রত্যেক পরিবারকে আদেশের কপি পাবার ১৫ দিনের মধ্যে ৩০ লাখ টাকা করে দিতে অন্তবর্তীকালীন নির্দেশনা দেন। একইসঙ্গে প্রত্যেক পরিবারকে ১৫ কোটি টাকা করে দিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন। এ অবস্থায় ৩০ লাখ টাকা দেওয়ার আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এ আবেদনের ওপর গত ২৯ এপ্রিল শুনানি শেষে আপিল বিভাগ ৩০ লাখ টাকার পরিবর্তে ২৫ লাখ টাকা করে দিতে নির্দেশ দেন। ১৫ দিনের পরিবর্তে একমাসের মধ্যে এই টাকা দিতে বলা হয়।

গতবছর ২৭ মে রাতে রাজধানীর গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালের করোনা আইসোলেশন ইউনিটে এসি বিস্ফোরণের আগুনের সূত্রপাট ঘটে। ফায়ার সার্ভিস আগুণ নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে ঘটনাস্থল থেকে পাঁচটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মৃতদের মধ্যে ছিলেন চারজন পুরুষ এবং একজন নারী। মৃত ব্যক্তিরা হলেন মো. মাহবুব (৫৭), মো. মনির হোসেন (৭৫), ভেরুন এ্যান্থনী পল (৭৪), খাদেজা বেগম (৭০) এবং রিয়াজুল আলম লিটন(৪৫)। এ ঘটনায় গতবছর ৩০ মে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার নিয়াজ মুহাম্মদ মাহবুব ও ব্যারিস্টার শাহিদা সুলতানা শিলা। পরে পহেলা জুন ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের পক্ষ থেকেও পৃথক একটি রিট আবেদন করা হয়। তবে মৃত মনির হোসেনের পরিবারের সঙ্গে ২০ লাখ টাকা দেবার শর্তে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সমঝোতা হয়। অপর মৃত চারজনের পরিবার এতে রাজি হয়নি। এ অবস্থায় অপর চারজনের বিষয়ে আদেশ দেন আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ।

kalerkantho

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *