ডা. কামরুল হাসান সোহেল : জরাজীর্ণ, দেয়ালে দেয়ালে শ্যাওলা পরা, দেয়াল থেকে পলেস্তারা খসে পরা, মানুষের বসবাসের জন্য অনুপযুক্ত, পরিত্যক্ত একটি ভবন। সেই ভবনে সুনামগঞ্জের শাল্লার হাওরাঞ্চচলের রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন ভদ্র সমাজে যারা কসাই বলে খ্যাত- সেই চিকিৎসকরা।
ছবিতে দেখা যাচ্ছে কসাইদের খাওয়ার জন্য বসার চেয়ার, টেবিল, পানি পানের জন্য গ্লাস আর কলসি। থাকার জন্য নেই ভাল কোন ব্যবস্থা। খাওয়ার জন্য নেই কোন হোটেল, ভালমানের তো দূরের কথা খাওয়ার জন্য নেই একটি হোটেলও। হোটেলে খেতে হলে প্রায় ৩০ কি.মি. দুর্গম পথ পাড়ি দিতে হবে। নামে মাত্র খেয়ে জীবন ধারণের জন্য বুয়ার হাতের রান্নাই একমাত্র অবলম্বন।
এই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৌঁছাতে জেলা সদর থেকে আপনাকে সিএনজিতে যেতে হবে প্রায় ৩০ কি.মি। তারপর মোটর সাইকেলে যেতে হবে আরো প্রায় ৩০ কি.মি.। পুরোটা রাস্তাই খানাখন্দে ভরা, উঁচু নীচু, ভাংগা চুরা রাস্তা। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৌছাতে হলে দুইটা বা তিনটা খাল পার হতে হবে নৌকা দিয়ে। মানুষ আর মোটর সাইকেল নৌকায় খাল পার হয়ে বাকি রাস্তা আবার মোটর সাইকেলে চড়ে পৌঁছাতে হবে সেই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। বিসিএস করা পাপ, আর যারা এই পাপে পাপী তাদের কাউকে কাউকে এইখানে পোস্টিং দিয়ে পুরষ্কৃত করে সরকার।
একটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এত জরাজীর্ণ অবস্থা কেন হবে? যেখানে রোগীরা আসে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হতে, রোগীর সুস্থ হবে কিভাবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেরই যেখানে জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসা দরকার।
একজন ইউএনও বা এসিল্যান্ডের কার্যালয়ের এমন জরাজীর্ণ অবস্থা হয় কখনো? একজন ইউএনও বা এসিল্যান্ডের এমন বিরুপ পরিবেশে বসবাস করতে হয়?
মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়, মাননীয় সচিব মহোদয়, মাননীয় ডিজি মহোদয়- আপনারা কখনো গিয়েছেন এমন দুর্গম অঞ্চলে? কখনো থেকেছেন এমন পরিবেশে? কখনো খেয়েছেন এমন টেবিল, চেয়ারে বসে?