মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত মদ্যপ দুই যুবককে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করায় স্বজনদের লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত নারী চিকিৎসক ডা. উম্মে হাবিবা। এ সময় হাসপাতালেও ভাঙচুর চালায় গুন্ডারা।
মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) রাত ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী জানান, রাতে মদ্যপ অবস্থায় মোটরসাইকেল চালাতে গিয়ে উপজেলার বাঁশেরবাদা বাজার এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয় সাহাপুর মসজিদ মোড় এলাকার দুই যুবক। তারা হলেন: রায়েন উদ্দিনের ছেলে হৃদয় (২০) ও নান্টুর ছেলে নায়েম (১৯)। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনেন।
মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক উম্মে হাবিবা।
এ সময় তাদের কয়েকজন বন্ধু ক্ষুব্ধ হয়ে ৩৯তম বিসিএসে নিয়োগ পাওয়া এ চিকিৎসককে মারতে উদ্যত হয়। তারা হাসপাতালে হামলা চালিয়ে জানালার দুটি জানালা ভাঙচুর করেছে।
বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পুলিশ খবর পেয়ে হামলাকারীদের একজনকে ধরে নিয়ে গেছে।
কর্মস্থলে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা এখন সময়ের দাবি উল্লেখ করে ডা. মেহেদী ইকবাল বলেন, ‘নতুন যারা নিয়োগ পেয়েছেন, তাদের ব্যাপারে ওপর থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়, তারা যেন নিরাপদে থাকেন। কিন্তু এখানে এই যদি অবস্থা হয়, একজন নারী চিকিৎসকের ওপর যদি চড়াও হয়, তাহলে এটা তো দুঃখজনক।’
এ প্রসঙ্গে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. আসমা খানম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘দুর্ঘটনার শিকার দুই যুবককে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। এতে তাদের কয়েকজন বন্ধু কর্তব্যরত চিকিৎসকের সঙ্গে উচ্চ-বাচ্য শুরু করে। চিকিৎসকের অফিস কক্ষের টেবিল ভাঙচুর ও কাগজপত্রসহ বিভিন্ন মালামাল তছনছ করেছে। এক পর্যায়ে তারা চিকিৎসকের দিকে তেড়ে আসে।’