করোনাভাইরাসের দক্ষিণ আফ্রিকান ভেরিয়েন্ট ‘ওমিক্রন’ ডেল্টা ভেরিয়েন্টের চেয়ে অধিক সংক্রামক। তাই করোনাভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা রয়েছে।

করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ‘ওমিক্রন’ এর বিরুদ্ধে বিদ্যমান কোভিড টিকা কতটা কার্যকর তা জানার জন্য জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা।

নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, ওমিক্রনের সামনে টিকার প্রতিরোধ কতটা টিকবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে ফাইজার ও মডার্নার মত যেসব টিকা এমআরএনএ কৌশলে তৈরি করা হয়েছে, সেগুলোকে প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন ভ্যারিয়েন্টের জন্য বদলে নেওয়ার সুযোগ থাকার কথা।

ফাইজার ও মডার্নাও বলেছে, প্রয়োজনে টিকার প্রক্রিয়াগত দিকটি নতুন করে সাজানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা।

ফাইজারের মুখপাত্র জেরিকা পিটস বলেন, ফাইজারের বিজ্ঞানীরা ছয় সপ্তাহের মধ্যে বিদ্যমান টিকার পরিবর্তন করতে পারবে এবং নতুন ভ্যরিয়্যান্টের জন্য ১০০ দিনের মধ্যে টিকা সরবরাহ করতে পারবে।

মডার্না বলছে, নতুন ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হওয়ার পরপরই গত মঙ্গলবার তাদের কাজ শুরু হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রেসিডেন্ট ড. স্টিফেন হোগে দাবি করেন, এ ধরনটির বিরুদ্ধে তাদের কোম্পানি সবার আগে কাজ শুরু করেছে।

স্টিফেন হোগে বলেন, যদি প্রয়োজন হয়, তবে দুই মাসের মধ্যে মডার্না তার টিকার নতুন সংস্করণ আনতে পারবে এবং কার্যকারিতা পরীক্ষার ফল জানাতে পারবে তিন মাসের মধ্যে।

সিয়াটলের ফ্রেড হাচিনসন ক্যান্সার রিসার্চ সেন্টারের জীববিজ্ঞানী জেসি ব্লুম বলেন, এই ভ্যারিয়েন্ট কতটা ছড়াচ্ছে এবং টিকার ক্ষেত্রে কী করা প্রয়োজনটা, সে বিষয়ে সম্ভবত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আমরা আরও ভালো একটা ধারণা পেয়ে যাব।

যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি মডার্না ও ফাইজারের পাশাপাশি জনসন অ্যান্ড জনসন ইতোমধ্যে ওমিক্রনের কৃত্রিম একটি সংস্করণের বিরুদ্ধে তাদের টিকার কার্যকারিতা পরীক্ষার পরিকল্পনা করেছে।

টিকার তৃতীয় ডোজ বা ‘বুস্টার ডোজ’ নতুন ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণ ঠেকাতে সক্ষম কি না কোম্পানি দুটি সেটাও পরীক্ষা করার পরিকল্পানা করেছে।

এর আগের ধরনগুলোর ক্ষেত্রে ফাইজার এবং মডার্নার টিকার বুস্টার ডোজ অ্যান্টিবডির মাত্রা উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বাড়িয়ে দিতে দেখা গেছে।

নিউইয়র্কের রকফেলার ইউনিভার্সিটির রোগতত্ত্ববিদ মাইকেল নুসেঞ্জভিগ জানান, তিনি এবং তার সহকর্মীরা ‘ওমিক্রন’ এর বিরুদ্ধে এমআরএনএ টিকার কার্যকারিতা পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

এছাড়া তারা জনসন অ্যান্ড জনসন এবং অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার পরীক্ষাও করবেন জানিয়ে এক মাসের মধ্যে ফলাফল পাওয়ার আশা জানিয়েছেন এই রোগতত্ত্ববিদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *