করোনাভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা কিছুটা কমে গেলেও চলতি ফেব্রুয়ারিতে তা চূড়ায় গিয়ে পৌঁছাতে পারে বলে দেশটির শীর্ষ চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন।

২০০৩ সালে সার্সের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে চিকিৎসা উপদেষ্টা জং ন্যানসানের ভূমিকা আন্তর্জাতিক খ্যাতি কুড়িয়েছিল।

রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বেশ কয়েকটি প্রদেশে পরিস্থিতির উন্নতি ঘটছে। নতুন আক্রান্তের সংখ্যা কমে আসছে।

তবে রোগ নিয়ন্ত্রণে উহানে যে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে, সেটাকে অপরিহার্য বলে আখ্যায়িত করেন এই চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ। আর বন্যপ্রাণীর ব্যবসা স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করা উচিত বলেও মনে করেন তিনি।

জং ন্যানসান বলেন, রোগ নিয়ন্ত্রণ কলাকৌশলে আরও উন্নতি করার দরকার চীনের। সংক্রামক রোগের ক্ষেত্রে বৈশ্বিক আগাম সতর্কবার্তার বিষয়ে জোর দিয়েছেন তিনি।

সরকারের পদক্ষেপ ও সাম্প্রতিক আক্রান্ত হওয়ার ঘটনাবলীর ওপর ভিত্তি করে এই পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে বলে তিনি বলেন।

এদিকে চীনে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে নতুন করে ১০৮ জন মারা গেছেন। এতে মঙ্গলবার সব মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে এক হাজার ১৬ জনে দাঁড়িয়েছে। তবে নতুন করে আক্রান্তের সংখ্যা কমে গেছে।

১০ ফেব্রুয়ারি চীনের মূল ভূখণ্ডে নতুন করে দুই হাজার ৪৭৪ জন আক্রান্ত হয়েছেন। যেটি আগের দিনের তুলনায় তিন হাজার ৬২ জন কম। দেশটির জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন বলছে, এতে মোটা আক্রান্তের সংখ্যা গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৪২ হাজার ৬৩৮ জন।-খবর এএফপির

আক্রান্তের সংখ্যা কমায় দ্বিতীয় দিন ছিল এটি। কিন্তু চীনের বাইরে এই ভাইরাস ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে হুশিয়ার করে দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। তারা জানিয়েছে, এই মহামারী নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে দেয়া উচিত হবে না।

করোনাভাইরাসে বিশ্বের ২৪ দেশে ৩১৯ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ ছাড়া চীনের মূল ভূখণ্ডের বাইরে হংকং ও ফিলিপিন্সে কেবল দুজন ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।

জাপানি বন্দর ইয়োকোহামায় ডায়ামন্ড প্রিন্সেস ক্রুজ শিপের তিন হাজার ৭০০ যাত্রী ও ক্রুদের কোয়ারিন্টিন করে রাখা হয়েছে। সেখানে ৬৫ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

মঙ্গলবার স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ বলছে, মহামারী বিস্তারের মূলকেন্দ্র হুবেইপ্রদেশে নতুন দুই হাজার ৯৭ জন আক্রান্ত হয়েছেন। মারা গেছেন ১০৩ জন।

ডিসেম্বরে উহানের একটি বন্যপ্রাণীর বাজার থেকে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ার পর সোমবার একদিনে সবচেয়ে বেশি রোগী মারা গেছেন। কিন্তু আগের তুলনায় আক্রান্ত সংখ্যা ২০ শতাংশ কমেছে বলে খবরে দাবি করা হয়।

সাংহাই ফিউডান ইউনিভার্সিটি মেডিকেল স্কুলের ভাইস ডিন উ ফ্যান বলেন, মহামারীর এই সন্ধিক্ষণে সেখানে কিছুটা আশা জেগেছে। কিন্তু অন্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আক্রান্তের হার ঘিরে এখনও অনেক অনিশ্চয়তা রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *