করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া। তিনি আজ বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের বহির্বিভাগের ৩য় তলায় অনুষ্ঠিত করোনা ভাইরাস (CoVID-19) প্রতিরোধে সচেতনতামূলক আলোচনা সভায় বক্তৃতাকালে এ আহ্বান জানান।

আলোচনায় অংশ নেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোঃ শহীদুল্লাহ সিকদার, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ডা. সাহানা আখতার রহমান, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান। সভাপতিত্ব করেন বক্ষব্যাধি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এ কে এম মোশাররফ হোসেন। উপস্থিত ছিলেন সম্মানিত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল হান্নান, প্রক্টর অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মোজাফফর আহমেদ, পরিচালক (হাসপাতাল) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে মাহবুবুল হক, ভাইরোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সাইফ উল্লাহ মুন্সী, পাবলিক হেলথ এন্ড ইনফরমেটিকস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. ফারিহা হাসিন প্রমুখসহ বহিবির্ভাগের আরপি, আরএস, চিকিৎসক, ছাত্রছাত্রী, নার্স, কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।

উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া বলেন, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ হল হাঁচি, সর্দি-কাঁশি থেকে নিউমোনিয়া। সেই সাথে প্রবল জ্বর এবং শ্বাস কষ্ট হয়ে থাকে। এটা প্রাণঘাতীও হয়ে ইঠতে পারে। প্রাথমিকভাবে এর উপসর্গ বোঝাকঠিন তাই নিজেকে সাবধান রাখাটাই শ্রেষ্ঠ উপায়। করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে জনসেচতনতা সৃষ্টি ও বৃদ্ধিতে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে। মাননীয় উপাচার্য বলেন, হাঁচি-কাশিতে আক্রান্ত রোগী কোথা থেকে এসেছেন, বিদেশে গিয়েছিলেন কিনা তা অবশ্যই জানতে হবে। সর্ব সাধারণকে বাসায় ফিরে সাথে সাথেই সাবান দিয়ে হাত ও মুখ ভালো করে ধুয়ে ফেলতে হবে।

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অভূতপূর্ব উদ্যোগ নিয়েছে। করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে সেমিনার-আলোচনা সভাসহ জনসচেতনতা সৃষ্টি ও প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমসহ করণীয় নির্ধারণে ধারাবাহিক কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়েছে।

উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোঃ শহীদুল্লাহ সিকদার বলেন, বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত কোনো রোগী সনাক্ত না হলেও আত্মতুষ্টি হওয়ার কারণ নাই। অবশ্যই এই বিষয়ে দেশবাসীকে সতর্ক থাকতে হবে।

উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ডা. সাহানা আখতার রহমান বলেন, করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ ও মোকাবেলায় যেখানে সেখানে থুথু ফেলা বন্ধ করতে হবে। হাঁচি-সর্দি-কাশি হলে সার্বিক হাইজেনিকের বিষয়টি মাথায় রেখে স্বাস্থ্যসম্মতভাবে চলতে হবে।

কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান বলেন, চীনে শুরু হওয়া করোনা ভাইরাসের বিষয়টি সারা বিশ্বে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এই ভাইরাসটি প্রতিরোধে আমাদেরকে আরো সচেতন হতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে বক্ষব্যাধি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এ কে এম মোশাররফ হোসেন বলেন, ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর করোনা ভাইরাসের কথা প্রথম জানা যায়। এই পর্যন্ত করোনা ভাইরাস ২৮টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। ৪৫ হাজার মানুষ আক্রান্ত হয়েছে এবং ১২ শত মানুষ মারা গেছেন। আক্রান্তদের মধ্যে ৪৫০০ মানুষ সুস্থ হয়েছেন।

অন্য বক্তারা করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে নিজেকে সবসময় পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, বার বার সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে ফেলা এবং প্রয়োজনে হ্যান্ড সেনিটাইজার ব্যবহার করা, হাত দিয়ে নাক বা মুখ ঘষা থেকে বিরত থাকা, আক্রান্ত ব্যক্তি হতে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা, হাঁচি-কাশির সময় টিস্যু ব্যবহার করা এবং ব্যবহারের পরে ডাস্টবিনে ফেলে দেয়া, অসুস্থ পশু-পাখির সংস্পর্শে না আসা, মাছ, মাংস ভালভাবে রানা করে খাওয়া এসকল বিষয় মেনে চলার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *