চীনে মরণঘাতী করোনাভাইরাসে এখন পর্যন্ত ১০৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এছাড়াও নতুন করে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন আরও এক হাজার ৩০০ জন। ফলে এখন পর্যন্ত ৪ হাজার ১৯৩ জন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

এমন অবস্থায় রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে টানা কাজ করতে হচ্ছে চিকিৎসকদের। একটু বিশ্রাম বা ঘুমের সময়ও পাচ্ছেন না তারা।

সম্প্রতি একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, টানা কাজের চাপ আর ক্লান্তিতে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন অনেক চিকিৎসক। অনেকেই চিৎকার করছেন এবং কেঁদে যাচ্ছেন। এতে বোঝায় সেখানকার পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ।
চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আক্রান্তদের মধ্যে অধিকাংশই হুবেই প্রদেশের বাসিন্দা। মূলত চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে গত বছরের ডিসেম্বরে প্রথম এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়।

উহানে নজিরবিহীন পরিস্থিতির সঙ্গে লড়াই করতে হচ্ছে স্বাস্থ্যকর্মীদের। স্বাস্থ্যকর্মীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিশ্রাম ছাড়াই কাজ করে যাচ্ছেন। বেশ কিছু ভিডিওতে দেখা গেছে শহরের হাসপাতালগুলো লোকজনে পরিপূর্ণ। কোথাও পা ফেলারও জায়গা নেই। সব হাসপাতালেই রোগীর ভিড় লেগে আছে।

রোগীদের শরীর থেকে যেন এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে না পারে সেজন্য পুরো শরীর ঢাকা পোশাক এবং মাস্ক পরে চিকিৎসায় নিয়োজিত রয়েছেন হাসপাতালের কর্মীরা। এই পোশাক বার বার খোলাটাও বেশ কঠিন ও সময় সাপেক্ষ। এমন পরিস্থিতিতে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে বার বার পোশাক বদলাতে রাজি নন তারা।

একটি ভিডিওতে দেখা গেছে উহানের একটি হাসপাতালে এক নারী সাদা রংয়ের পোশাক পরে আছেন। এটি একটি মেডিকেল কোট। তিনি চিৎকার করে কাঁদছেন আর বলছেন, আমি আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারছি না। তার সহকর্মীরা তাকে শান্ত করার চেষ্টা করছেন কিন্তু কিছুতেই তার কান্না থামছে না।

অপর এক ভিডিওতে এক চিকিৎসককে হতাশা প্রকাশ করতে দেখা গেছে। হাসপাতালে প্রয়োজনীয় জিনিসের অভাব দেখা দেওয়ায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। ওই হাসপাতালে রোগী এতো বেশি হয়ে গেছে যে, চিকিৎসা দেওয়ার জন্য যে পরিমাণ শয্যা দরকার তা নেই।

হুবেই প্রদেশের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সেখানে ২৪ জনের বেশি মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। সোমবার পর্যন্ত সেখানে এক হাজার ২৯১ জন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *