চীনের সাংহাই মেডিকেলের চিকিৎসক থেকে শুরু করে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সামনে থেকে করোনাভাইরাসের সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের অনেকেই বর্তমানে উহান শহরে গিয়ে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের চিকিৎসা দিচ্ছেন। নতুন করে আরো অনেক চিকিৎসক ও সেবাকর্মী উহানের পথে রওনা হয়েছেন।

করোনাভাইরাসের জেরে চীনের মানুষজন পারতপক্ষে এখন বাইরে বের না হয়ে বাড়িতেই অবস্থান করছে। অতি প্রয়োজনে বের হলেও সুরক্ষার ঘাটতি না রেখে তড়িঘড়ি কাজ শেষ করার তাড়া থাকছে।

তবে চিকিৎসকরা নিজেদের জীবন বাজি রেখে একটানা কাজ করে যাচ্ছেন। জানা গেছে, করোনাভাইরাসে নিহত এবং আক্রান্তের সংখ্যা লাফিয়ে বেড়ে যাওয়ার কারণে সাংহাইয়ের চিকিৎসাকর্মীরা উহানে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের সারিয়ে তোলার মিশনে নেমেছেন।

ল্যান্টার্ন নামক উৎসব পালনের জন্য প্রত্যেক বছর এই সময় সাংহাইয়ের কর্মীরা একত্রিত হন। তবে এ বছরের সেভাবে খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা না রেখে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য পুরো সময় দিচ্ছেন তারা।

চিকিৎসকদের পরিবারের কাছে এখন সবচেয়ে দামি উহার হলো- তাদের পাঠানো চিঠি। পরিবার থেকে চিকিৎসকদের কাছে চিঠি আসছে। সেসব চিঠি অনেকটাই আবেগমিশ্রিত।

একজন চিকিৎসককে তার মেয়ে লিখেছে- প্রিয় বাবা, নতুন বছরের শুরুতে বাড়িতে তুমি যখন আমাদের রেখে গেলে, তারপর আর তোমাকে দেখিনি। গত ১৫ দিন ধরে তুমি উহানে আছ। কেমন আছ তুমি? আমরা সবাই সাংহাইয়ে ভালো আছি। তোমার উহানে থাকার ব্যাপারে আমার ভয় লাগে। তোমাকে অনেক মিস করি বাবা। রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ার সময় নিজেদেরও খেয়াল রেখো। যদিও আমি তোমাকে অনেক মিস করি, তার পরেও উহানের মানুষদের জন্য কিছু করো। আমার মনে হয়, আমার চেয়ে উহানের মানুষের বেশি প্রয়োজন তোমাকে। আমি মনে করি, তোমরা এই যুদ্ধে জিতবে, এই যন্ত্রণা থেকে সবাইকে মুক্তি দেবে তোমরা।

বাবা, আমি মনে করি তুমি সত্যিকারের নায়ক। কারণ, তুমি ভয় পাওনি। ভবিষ্যতে আমিও ডাক্তার হবো। এসব রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করবো তোমার এবং দাদার মতো।

গু লিয়াংওয়াও নামের একজন পুরুষ নার্স সাংহাই হাসপাতালে কর্মরত আছেন। বর্তমানে তিনি উহানে সেবা দিচ্ছেন। তার মা লিখেছেন- প্রিয় লিয়াংওয়াও, খাবারের টেবিলে বসে থাকা অবস্থায় তুমি জানিয়েছিলে উহানে যাওয়ার কথা। তোমার বাবা এবং আমি একেবারে ব্যথিত হয়েছি। তুমি বাড়ি ফিরে না আসা পর্যন্ত আমার মস্তিষ্ক কাজ করবে না।

তিনি আরো লিখেছেন, আমরা তোমাকে নিয়ে ভীষণ শঙ্কিত। আমাদের মনে হয়, তুমি চাইলেই ফিরে আসতে পারো। তবে তোমার বাবা মনে করে যে, তুমি জীবনে অনেক ভালো একটা কাজ করার জন্য কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছ। আমি যেন তোমাকে ফিরে না আসতে বলি, সেটা চায় তোমার বাবা।

তুমি তো তোমার বন্ধুদের খুব ভালোবাসো। তাদের ফেলে আসতে পারোনি বলেই হয়তো সঙ্গে গেছ। উহান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছয় বছর কাটিয়েছ তুমি। সাইহাইয়ের চেয়ে সেখানেই তোমার বেশি বন্ধু। আমি নিজের এবং তোমার বাবার দেখভাল করবো। তবে তুমি প্রতিদিন মেসেজ দিও।

আমরা সংবাদে দেখলাম, সেখানে নার্সদের কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে লড়তে হচ্ছে। তুমি সাবধানে থেকো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *