নূপুর দেব, চট্টগ্রাম: তিন দিন আগে শ্বাসকষ্ট নিয়ে ফেনী থেকে আসা আবুল কালাম (৬৫) ভর্তি হন চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের করোনা আইসোলেশন ওয়ার্ডে। পরীক্ষার ফল নেগেটিভ আসা ওই রোগী ওয়ার্ডের তিন নম্বর শয্যায় চিকিৎসাধীন। একই ওয়ার্ডের পাশাপাশি এক ও দুই নম্বর শয্যায় করোনা শনাক্ত রোগী ভর্তি। গতকাল শনিবার বিকেল ৩টার দিকে ওই ওয়ার্ডে গিয়ে এ চিত্র দেখা গেছে।

রোগীর স্বজনরা বলছেন, নেগেটিভ রোগীর সঙ্গে পজিটিভ রোগী রাখায় আক্রান্ত না হলেও করোনার ঝুঁকি রয়েছে।

চট্টগ্রাম নগরের সরকারি এই হাসপাতালে করোনা আইসোলেশন ওয়ার্ডের প্রবেশপথেও কোনো কড়াকড়ি নেই। অবাধে লোকজন আসা-যাওয়া করছে। কর্তব্যরত নার্সরা নিজেদের কক্ষে বসেছিলেন। ওই সময় কোনো চিকিৎসককে দেখা যায়নি।

তিন নম্বর শয্যায় চিকিৎসাধীন থাকা আবুল কালামের মেয়ে শিরিন বলেন, ‘আমার বাবার গত কয়েক বছর ধরে কাশির সমস্যা রয়েছে। একটু বাড়লে শ্বাসকষ্ট নিয়ে গত বুধবার সকালে ফেনী থেকে এসে এখানে ভর্তি করি। তখন করোনা রোগী এই ওয়ার্ডে ছিল না। আমার বাবার রিপোর্ট নেগেটিভ এলেও তার পরও উনাকে কেন এখানে ভর্তি রাখা হয়েছে তা-ও বুঝতে পারছি না। এখন এখানে কয়েকজন করোনা রোগী আছে। আমরা চলে যেতে চাচ্ছি।’

আবুল কালামের শয্যার বাম পাশে এক নম্বর ও দুই নম্বর শয্যায় চিকিৎসাধীন দুই করোনা রোগীর সঙ্গে আলাপের মধ্যে একজনকে নিয়ে মেয়ে ও স্ত্রী ওয়ার্ড থেকে বেরিয়ে যান। যাওয়ার আগে জানতে চাইলে তাঁরা বলেন, ওই রোগীকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁরা চলে যাচ্ছেন।

এ ছাড়া ওই ওয়ার্ডে ৬ ও ১২ নম্বর শয্যায় দুজনসহ আরো কয়েকজন করোনা রোগী রয়েছেন। করোনা আক্রান্ত এসব রোগী বলছেন, এখানে আলাদা কোনো (নন-কভিড) ব্লক দেখছি না। কয়েকজন নন-কভিড রোগীও আইসোলেশন ওয়ার্ডে রয়েছেন।

রোগীর বিষয়ে জানতে চাইলে এক সিনিয়র স্টাফ নার্স জানান, বর্তমানে ৫০ শয্যার (গত বছর দুই শর বেশি শয্যা ছিল) এই আইসোলেশন ওয়ার্ডে করোনা শনাক্ত ১১ জনের মধ্যে ১০ জন পজিটিভ পুরুষ এবং একজন নারী। করোনা সাসপেকটেড (সন্দেহভাজন) তিনজন পুরুষ ও তিনজন নারী চিকিৎসাধীন আছেন।

হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. রাজদ্বীপ জানান, অনেক দিন ধরে ফুসফুসের সংক্রমণে (সিওপিডি) ভুগছেন এক রোগী। গত ৫ জানুয়ারি কাশি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে কভিড সাসপেকটেড হিসেবে ভর্তি হয়েছিলেন। পরীক্ষার পর করোনা নেগেটিভ আসায় ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. রাজীব পালিত গতকাল দুপুরে কালের কণ্ঠকে জানান, কভিড ও নন-কভিড (সাসপেকটেড) মিলে তখন ৫৩ জন ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। গত এক সপ্তাহ ধরে করোনা রোগী বেড়েছে। এখন ১০০ শয্যা রাখা হয়েছে। রোগী বেড়ে গেলে শয্যা আরো বাড়ানো হবে বলে তিনি জানান।
কালের কণ্ঠ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *