করোনা ভাইরাসের মোকাবেলা ও চিকিৎসার জন্য প্রস্তুত রয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সংশ্লিষ্ট ভাইরোলজি বিভাগের চিকিৎসক ও নার্সসহ অন্যান্য জনবল। মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি ২০২০) বিশ্ববিদ্যালয়ের এ ব্লকের দ্বিতীয়তলায় অডিটোরিয়ামে “ নতুন করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ও করণীয় (2019-n COV: Emergency of a New Corona Virus)” শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএমএমএমইউ’র উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া এ কথা বলেন।
উপাচার্য জানান, বাংলাদেশে এখনও করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত কোনো রোগী সনাক্ত না হলেও করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে। এই ভাইরাস প্রতিরোধেই সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে। প্রাথমিক প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ও প্রয়োজনীয় জনসচেতনা সৃষ্টি এবং সময়োপযোগী ও জ্ঞানলব্ধ কার্যকরী গাইডলাইন তৈরির লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট্রাল সেমিনার সাব কমিটির উদ্যোগে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ও বিস্তার প্রতিরোধে করণীয় ও প্রস্তুতি নিয়ে একটি জরুরি বৈজ্ঞানিক সেমিনারের আয়োজন করা হ’ল। করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় সরকার ইতোমধ্যেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে এবং আমাদের সকলকেই সর্তক থাকতে হবে। করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রস্তুত রয়েছে। ইতোমধ্যে এ বিষয়ে একাধিক সভা করা হয়েছে।
সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মোঃ শহীদুল্লাহ সিকদার, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. সাহানা আখতার রহমান, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ রফিকুল আলম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান। আরো উপস্থিত ছিলেন মেডিসিন অনুষদের ডীন অধ্যাপক ডা. মোঃ জিলন মিঞা সরকার, শিশু অনুষদের ডীন ও সেমিনার সাব কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. চৌধুরী ইয়াকুব জামাল, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল হান্নান, ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. মোঃ আবদুর রহিম, ভাইরোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সাইফ উল্লাহ মুন্সী, অধ্যাপক ডা. শাহিনা তাবাসসুম, মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. চন্দন কুমার রায় প্রমুখসহ বিশেষজ্ঞগণ, শিক্ষক, চিকিৎসক, ছাত্রছাত্রী ও নার্সবৃন্দ।
করোনা ভাইরাইসের বিস্তার, রোগটি কীভাবে ছড়ায়, কারা আক্রান্ত হয় এবং ভাইরাসটি কীভাবে রোগ তৈরি করে তা নিয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ভাইরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মুনীরা জাহান। রোগের লক্ষণ, উপসর্গ, জটিলতা ও চিকিৎসা নিয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ব্যক্ষব্যধি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. শামীম আহমেদ।
করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়া থেকে রক্ষা পাওয়া, প্রতিরোধ, প্রতিকার ও প্রস্তুতি নিয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মোঃ নামজুল হাসান। সঞ্চালনা করেন সেমিনার সাব কমিটির সদস্য সচিব সহযোগী অধ্যাপক ডা. চঞ্চল কুমার ঘোষ।
ডা. মোঃ নাজমুল হাসান জানান, করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে নিয়মিত হাত পরিস্কার রাখতে হবে ও সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে ফেলতে হবে। মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। মুখ ঢেকে হাঁচি-কাশি দিতে হবে। সংশ্লিষ্ট অসুস্থ রোগীর সংস্পর্শে থাকা যাবে না। দেশের বাইরে থেকে কেউ আসলে দু সপ্তাহ প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের না হওয়া এবং রোগের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া জরুরি। কাঁচা বাজারে গেলে পশু-পাখির মাংস ধরা থেকে বিরত থাকতে হবে। মাংস ধরলে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে ফেলতে হবে। মাংস ধরে হাত না ধুয়ে মুখমন্ডল টাচ করা যাবেনা। মাংস ও ডিম ভালো করে সেদ্ধ ও রান্না করে খেতে হবে। পোষ্য প্রাণীদের সাথে থাকার ক্ষেত্রে সাবধান ও সতর্ক থাকতে হবে। প্রস্তুতির বিষয়ে তিনি জানান, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দেশের বাইরে থেকে আসা মানুষদের থার্মাল স্ক্যানারের মাধ্যমে শরীরের জ্বর আছে কিনা সেই তাপমাত্রা পরীক্ষা করা হচ্ছে। ২৭ জানুয়ারি ২০২০ইং পর্যন্ত ২৫০০ জনেরও বেশি জনের তাপমাত্রা পরীক্ষায় করা হয়েছে। জাতীয় বক্ষব্যাধি হাসপাতাল ও কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে আইসোলেশন ২টি ওয়ার্ড খোলা হয়েছে।
এ বিষয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বক্ষব্যাধি ও ভাইরোলজি বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের চিকিৎসক ও নার্সবৃন্দ প্রস্তুত ও সতর্ক রয়েছেন।
রোগের লক্ষণ, উপসর্গ, জটিলতা ও চিকিৎসা নিয়ে বক্ষব্যাধি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. শামীম আহমেদ জানান, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। এই রোগের লক্ষণের মধ্যে রয়েছে জ্বর, সর্দি, হাঁচি-কাশি, শরীর ব্যথা, দুর্বলতা, ডায়রিয়া ইত্যাদি। এসব লক্ষণ দেখা দিলে সকলকেই অধিক সতর্ক হতে হবে এবং যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। এই রোগে নিউমোনিয়া হয়ে ফুসফুস অকেজো হয়ে যায় এবং পরবর্তীতে কিডনী, হার্ট ও লিভার অকেজো হয়ে যায় এবং এতে রোগীর মৃত্যুও হতে পারে। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা না থাকলেও জ্বরের জন্য প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ সেবন করা যেতে পারে। তবে রোগীকে অবশ্যই আইসোলেটেড থাকতে হবে। এছাড়া তরল ও পুষ্টি জাতীয় খাবার বেশি খেতে হবে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বক্ষব্যাধি বিভাগের চিকিৎসক ও নার্সবৃন্দ এই ভাইরাসটির মোকাবেলায় ও চিকিৎসার জন্য প্রস্তুত রয়েছেন।