কুষ্ঠরোগে আক্রান্তদের হার শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে এবং আক্রান্তদের চিকিৎসা সহজ করতে দেশের বিভিন্ন ওষুধ প্রতিষ্ঠানগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, কুষ্ঠরোগীদের জন্য ওষুধ উৎপাদন ও বিনামূল্যে তা সরবরাহ করতে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে। ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহ করলে কুষ্ঠরোগের চিকিৎসা অনেক সহজ হবে এবং মানুষের স্বাভাবিক জীবন নিশ্চিত হবে।

বুধবার (১১ ডিসেম্বর) রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে আয়োজিত কুষ্ঠবিষয়ক জাতীয় সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কুষ্ঠরোগ সম্পর্কে আমাদের দেশের মানুষের ধারণা খুব বেশি ছিলো না। ফলে শুধু আমাদের দেশেই নয় বিশ্বের নানা দেশেই কুষ্ঠ রোগীকে অবহেলা করে দূরে সরিয়ে রাখা হতো। আমরা যখন থেকে সরকার গঠন করি, তখন থেকেই মানুষের মধ্যে এ রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যেগ নেই। যার ফলে এখন যেমন এ রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে, তেমনি কোষ্ঠ রোগীদের মনেও আত্মবিশ্বাস জাগ্রত হয়েছে। তাদেরকে নিয়ে আমাদের কাজ করতে হবে। তাদেরকে যথেষ্ট চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে।

কুষ্ঠ রোগকে প্রাথমিক পর্যায়ে চিহ্নিত করা এবং তাদের নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিতে সামাজিক সচেতনতার প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, যে সব এলাকায় কুষ্ঠরোগী বেশি, সে সব এলাকায় বিশেষ নজর দিলে ২০৩০ সাল নাগাদ এ রোগ নির্মূল করা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, কুষ্ঠরোগীদের ঘরে বাইরে আসার সুযোগ করে দিতে ও স্বাভাবিক জীবন দিতে আইনে পরিবর্তন আনা হয়েছে। আইন সংশোধনের মাধ্যমে তাদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা ও বাইরের পৃথিবী দেখার সুযোগ করে দিয়েছি। এ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতেও কাজ করছি।

স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে ১০ বেডের হাসপাতাল গড়ে তোলার পদক্ষেপ নিয়েছিলেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে ও দেশের প্রতিটি মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের পদক্ষেপ হিসেবে কমিউনিটি ক্লিনিক কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশের গ্রামগুলোতে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

কুষ্ঠ নির্মূলে গবেষণার প্রয়োজন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, কুষ্ঠরোগ কোনও অভিশাপ নয়। জীবাণুর সংক্রমণে এ রোগের বিস্তার। এর জন্য দেশীয় গবেষকদের ‍প্রয়োজনীয় গবেষণায় আত্মনিয়োগের আহ্বান জানান তিনি।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি, সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী শেখ ফজলুল করিম সেলিম, নিপপন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সাসাকাওয়া।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে কুষ্ঠরোগের ওপর একটি প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *