ডা. রেহনুমা পারভীন : ক্যানসার প্রতিরোধে ব্যক্তিগত সচেতনতার বিকল্প নেই। তবে এর পাশাপাশি পারিবারিকভাবে সচেতন হওয়ার গুরুত্বও অপরিসীম। পারিবারিক সচেতনতা থেকে অনেক ধরনের ক্যানসারই প্রতিরোধ করা সম্ভব।

• ধূমপান সব সময়ই বর্জনীয়। বিশেষত ঘরোয়া পরিবেশে কিংবা পারিবারিক বা বন্ধুদের আড্ডায় ধূমপান থেকে বিরত থাকতে হবে। পরিবারে ছোট শিশু বা গর্ভবতী নারী থাকলে তো ধূমপান করাই যাবে না। মনে রাখতে হবে, পরোক্ষ ধূমপানে ফুসফুস, স্তন, গলা, কিডনি, পাকস্থলীর ক্যানসার, শিশুর ব্লাড ক্যানসার ও মস্তিষ্কে টিউমারের ঝুঁকি বাড়ে।

• হেপাটাইটিস বি ও সি ভাইরাস যকৃতের ক্যানসারের অন্যতম কারণ। স্বামী বা স্ত্রীর হেপাটাইটিস বি বা সি পজিটিভ হলে অবশ্যই অপরজনকে পরীক্ষা করাতে হবে। হেপাটাইটিস বি-এর টিকা নেওয়া না থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে পরিবারের সবাই তা নিতে হবে।

• বাল্যবিবাহ জরায়ুমুখ ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই বাল্যবিবাহকে ‘না’ বলুন।

• হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস জরায়ুমুখ ক্যানসারের অন্যতম কারণ। মুখের ও পায়ুপথের ক্যানসারেরও কারণ এটি। অনিরাপদ যৌনসংসর্গ, বহুগামিতা ইত্যাদি কারণে এই ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটে। তাই পারিবারিক মূল্যবোধের চর্চা জরুরি। মেয়েশিশুদের এইচপিভি টিকা দিন।

বেশি করে রঙিন শাকসবজি, তাজা ফলমূল, আঁশযুক্ত খাবার ক্যানসার প্রতিরোধে সহায়ক।
ধূমপান সব সময়ই বর্জনীয়।

• নিকটাত্মীয় কারও স্তন, ডিম্বাশয় বা কোলন ক্যানসার হয়ে থাকলে বংশগতভাবে এর ঝুঁকি বেড়ে যায়। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত স্ক্রিনিং করুন।

• পরিবারের প্রবীণ সদস্যটির অনেক ছোট ছোট উপসর্গ উপেক্ষা করা হয়। যেমন পেটব্যথা বা গ্যাস, কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়া, দীর্ঘমেয়াদি কাশি, অরুচি, ওজন কমে যাওয়া, শরীরে বা হাড়ে ব্যথা ইত্যাদি। বার্ধক্যজনিত উপসর্গ মনে করা হয় এসব সমস্যাকে। কিন্তু এগুলোও হতে পারে ক্যানসারের লক্ষণ। কাজেই এসব উপসর্গ দেখা গেলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

• নারীরা অনেক গুরুত্বপূর্ণ উপসর্গের কথা গোপন রাখেন। লজ্জা, অবহেলার কারণে এমনটা করেন তাঁরা। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, এসব কারণে নারীদের একেবারে শেষ পর্যায়ে ক্যানসার শনাক্ত হয়। একই কারণে অন্য কোনো রোগের ক্ষেত্রেও সময়ানুযায়ী সুচিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হন তাঁরা। কাজেই পরিবারের নারী সদস্যটি যেন নির্দ্বিধায় তাঁর সব সমস্যার কথা বলতে পারেন, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

• পরিবারে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলুন। বেশি করে রঙিন শাকসবজি, তাজা ফলমূল, আঁশযুক্ত খাবার ক্যানসার প্রতিরোধে সহায়ক।

লেখক: মেডিসিন ও ক্যানসার বিশেষজ্ঞ, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *