ডা. হুমায়ুন কবীর হিমু: মৃগীরোগ বা এপিলেপ্সি মস্তিষ্কের একটি রোগ, যাকে খিঁচুনিও বলে। ওষুধ সেবনের মাধ্যমে রোগটি যথেষ্ট নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। তবে কিছুদিন ওষুধ সেবন করে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজে নিজে ওষুধ বন্ধ করে দেন অনেক রোগী। এটা রোগীর জন্য বেশ ক্ষতিকর।

কারণ ও লক্ষণ
খিঁচুনি সাধারণত প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি এপিলেপ্সি—এই দুই ধরনের হয়। প্রাইমারি এপিলেপ্সির কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না। সাধারণত ৫-৫০ বছরের মধ্যে এটি দেখা দেয়। পরিবারে অন্য কারো এ রোগ থাকতে পারে।

প্রাইমারি খিঁচুনি শুরু হয় শরীরজুড়ে। খিঁচুনির সময় মাথা কাত হয় না, মাঝ বরাবর থাকে। সেকেন্ডারি এপিলেপ্সি সাধারণত পাঁচ বছরের কম ও ৫০ বছরের বেশি বয়সে হয়ে থাকে। মস্তিষ্কের টিউমার, স্ট্রোক, মাথায় আঘাত ইত্যাদি কারণে খিঁচুনির সমস্যা বেশি দেখা দেয়। শিশু জন্মের সময় মাথায় আঘাত পেলে বা দেরিতে কান্না করলেও খিঁচুনি হতে পারে। শরীরের কোনো অঙ্গ বা এক পাশ থেকেও হতে পারে। মাথা যেকোনো একদিকে কাত করা থাকে। আক্রান্তরাও খিঁচুনি শুরুর আগে বুঝতে পারেন খিঁচুনি হতে যাচ্ছে।

চিকিৎসা
প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি এপিলেপ্সির চিকিৎসা ভিন্ন ভিন্ন। প্রথমে পরীক্ষা করে জানতে হয়, রোগী কোন ধরনের খিঁচুনিতে আক্রান্ত। ওষুধ দিয়েই প্রাইমারি খিঁচুনি নিয়ন্ত্রণ করা যায়। ডোজও কম লাগে। চিকিৎসক ওষুধের মাত্রা ঠিক করে দেওয়ার পর খিঁচুনি রোগীদের নিয়মিত ওষুধ সেবন করা। সোডিয়াম ভ্যালপ্রোয়েট, লিমোট্রিজিন, ফেনিটয়িন বা ফেরিবারবিটন জাতীয় ওষুধ স্বল্প মাত্রায় প্রথমে সেবন করতে হয়। ধীরে ধীরে মাত্রা বাড়াতে হয়।

ঘন ঘন চিকিৎসক পরিবর্তন নয়
চিকিৎসা চলার পর ফের খিঁচুনি হলে অনেকে চিকিৎসক পরিবর্তন করে থাকেন। এটা কিন্তু ভুল। কেননা শুরুতেই বেশি মাত্রায় ওষুধ দিলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে। তাই ধীরে ধীরে ওষুধ বাড়ানো উচিত। ধৈর্য ধরে একই চিকিৎসকের পরামর্শ মানুন। এক ওষুধে কাজ না হলে এবং চিকিৎসক প্রয়োজন মনে করলে অন্য ওষুধ যোগ করবেন।

নিজে থেকে ওষুধ বন্ধ নয়
প্রাইমারি খিঁচুনির সুবিধা হলো, যদি অনেক দিন ধরে খিঁচুনি নিয়ন্ত্রণে থাকে তাহলে আস্তে আস্তে ওষুধ কমানো যায় এবং একসময় ওষুধ বন্ধও করা যায়। সাধারণত তিন-পাঁচ বছর পর ওষুধ বন্ধ করার চেষ্টা করা হয়। তাও করতে হয় কমপক্ষে ছয় মাস সময় নিয়ে। কিন্তু নিজে থেকে কখনো ওষুধ বন্ধ করবেন না। হঠাৎ ওষুধ বন্ধ করলে জীবননাশের কারণ হতে পারে। ওষুধ বন্ধ করার পর খিঁচুনি হলে আবার ওষুধ শুরু করতে হবে।

সেকেন্ডারি এপিলেপ্সিতে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্তদের মতো ওষুধ আজীবন সেবন করতে হবে। যে কারণে খিঁচুনি হচ্ছে তার যথাযথ চিকিৎসা করতে হবে। টিউমারের জন্য হলে অপারেশন করতে হবে।

মেডিক্যাল অফিসার, ইন্টারভেনশনাল নিউরোলজি বিভাগ, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হসপিটাল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *