নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত এক সপ্তাহে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলেছে, নিপাহ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। তারা খেজুরের কাঁচা রস খাওয়া থেকে বিরত থাকতে দেশবাসীর প্রতি অনুরোধ করেছে।

সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক মীরজাদী সেব্রিনা গতকাল বুধবার বলেন, এ পর্যন্ত তিনজন নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত বলে আইইডিসিআর শনাক্ত করেছে। এর মধ্যে দুজন মারা গেছে।

একটি সূত্র বলছে, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে নিপাহ সন্দেহে বেশ কিছু রোগীর নমুনা আইইডিসিআরে এসেছে। ঢাকা শিশু হাসপাতালে একটি শিশুকে নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে পৃথক করে রেখেছে কর্তৃপক্ষ। তার রক্তের নমুনাও সংগ্রহ করেছে আইইডিসিআর।

নিপাহ একটি ভাইরাসজনিত রোগ। এই ভাইরাস বাদুড় বহন করে। বাদুড় খেজুরের রস খাওয়ার সময় এই ভাইরাস হাঁড়ির রসে যায়। সেই রস কাঁচা অবস্থায় পান করলে মানুষ আক্রান্ত হয়। পেয়ারাজাতীয় ফল থেকেও একইভাবে এই ভাইরাস ছড়াতে পারে। এর ভাইরাস মানুষ থেকে মানুষে ছড়ায়। আক্রান্ত ব্যক্তিদের মৃত্যুহার ৭৭ শতাংশ। ডিসেম্বর থেকে মে মাসের মধ্যে এর প্রাদুর্ভাব থাকে।

২০০১ সালে মেহেরপুর জেলায় প্রথম নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত মানুষ শনাক্ত হয়। প্রায় প্রতিবছরই কমবেশি নিপাহর প্রকোপ দেখা দেয়। জ্বরসহ মাথাব্যথা, খিঁচুনি, প্রলাপ বকা, অজ্ঞান হওয়াসহ কোনো কোনো ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্ট দেখা দেওয়া নিপাহর লক্ষণ। নিপাহর কোনো টিকা বা সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। সতর্কতা ও সচেতনতাই এই রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের প্রধান উপায়।

মীরজাদী সেব্রিনা বলেন, খেজুরের কাঁচা রস খাওয়া যাবে না। আংশিক খাওয়া ফল খাওয়া যাবে না। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশি থেকে দূরে থাকতে হবে। কোনো ধরনের সন্দেহ হলেই অসুস্থ ব্যক্তিকে নিকটস্থ হাসপাতালে নিতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *