চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) স্যানিটারি ন্যাপকিনের আটটি ভেন্ডিং মেশিন উদ্বোধন করা হয়েছে। এখানে পাঁচ টাকার কয়েন ফেললেই পাওয়া যাবে ন্যাপকিন বা প্যাড। এই সেবা পাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১০ হাজার ছাত্রী।
আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ মিলনায়তনে এর উদ্বোধন করেন অনুষদটির ডিন অধ্যাপক এস এম সালামত উল্যা ভূঁইয়া।
মার্কেটিং বিভাগের সভাপতি ড. মো. জাভেদ হোসেনের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে সালামত উল্যা ভূঁইয়া বলেন, এই ভেন্ডিং মেশিন স্থাপনের মাধ্যমে নারী শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় চট্টগ্রাম বিশ্বিবদ্যালয়ে বিরাট অগ্রগতি সাধিত হবে। অনেক দেশের মতো আমাদের দেশে নারী স্বাস্থ্যের বিষয়ে কখনো কোনো কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয় না। সে জায়গা থেকে এরকম একটি উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে।
তিনি আরো বলেন, আমাদের দেশের নারীদের ১২ থেকে ৪০ বছর বয়সে শারীরিক প্রয়োজনে স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যাবহারের প্রয়োজন হয়। সেক্ষেত্রে তারা দোকান থেকে এটি কিনতে ইতস্ত বোধ করে। অধিকাংশ সময় দেখা যায় পরিবারের পুরুষদের দিয়ে এটা সংগ্রহ করা হয়। তাও আবার সেটি থাকে কাগজে মোড়ানো। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ে স্যানিটারি ন্যাপকিন চালুর মাধ্যমে মেয়েরা সেই উতস্তবোধ থেকে রেহায় পাবে বলে আশা করি। একই সঙ্গে তাদের স্বাস্থ্যও নিরাপদ থাকবে।
অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সভাপতি ড. মো. সাহিদুর রহমান, হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সভাপতি শাহনেওয়াজ মাহমুদ সোহেল, মার্কেটিং বিভাগের সাবেক সভাপতি ড. সজীব কুমার ঘোষ, এলজি কম্পানির বাংলাদেশ অ্যাম্বাসেডর ডি. কে. সন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মার্কেটিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এইচ এম কামরুল হাসান, চবি শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন টিপুসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
যার উদ্যোগে স্থাপন করা হয়েছে ভেন্ডিং মেশিন :
বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের এমবিএ’র শিক্ষার্থী তৌসিফ আহমেদের হাত ধরেই স্থাপন করা হয়েছে ভেন্ডিং মেশিনগুলো। তৌসিফ বলেন, ফেসবুকের কল্যাণে বিভিন্ন দেশের স্কুলগুলোতে ভেন্ডিং মেশিন আছে এমন সংবাদ দেখে এই বিষয়ে কাজ করার আগ্রহ জাগে। আর যেহেতু ভেন্ডিং মেশিনের ব্যবহার সম্পর্কে জানা ছিল না। তাই ২০১৯ সালে এলজি অ্যাম্বাসেডর প্রোগ্রামে এই প্রজেক্ট নিয়ে অংশগ্রহণ করি। পরে তারা আমার প্রজেক্টকে সিলেক্ট করে এবং এটি বাস্তবায়নে আর্থিক অনুদান দেয়। পুরস্কার স্বরূপ এলজি স্যানিটারি ন্যাপকিন ভেন্ডিং মেশিন স্থাপনে সাড়ে চার লাখ টাকা অনুদান পাই। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে শুরু করি মেশিন আমদানি কাজ। এক সপ্তাহ হলো যা হাতে এসে পৌঁছায়।
যেখানে যেভাবে সেবা মিলবে :
ভেন্ডিং মেশিন স্থাপন করা হয়েছে চবি ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ, সমাজবিজ্ঞান অনুষদ, কলা ও মানববিদ্যা অনুষদ, বিজ্ঞান অনুষদ, জীববিজ্ঞান অনুষদ, আইন অনুষদ, বন ও পরিবেশবিদ্যা ইনস্টিটিউট এবং জননেত্রী শেখ হাসিনা হলের ছাত্রীদের কমনরুমগুলোতে।
ভারত থেকে আমদানিকৃত প্রতিটি ভেন্ডিং মেশিনে ১০০টি প্যাড রাখা থাকবে। ভেন্ডিং মেশিনগুলো কয়েন অপারেটেড। প্রতিটি মেশিনের নির্দিষ্ট স্থানে পাঁচ টাকার কয়েন (ধাতব মুদ্রা) ফেললেই বেরিয়ে আসবে একটি প্যাড। সহজেই ছাত্রীরা এটি ব্যবহার করতে পারবে। ছাত্রীদের মধ্যে এটি ব্যবহারের প্রবণতা বাড়াতে উদ্বোধনের প্রথম দুই সপ্তাহ বিনামূল্যে ভেন্ডিং মেশিন থেকে প্যাড সংগ্রহ করা যাবে। এরপর থেকে নির্দিষ্ট মূল্যেই প্যাড সংগ্রহ করতে হবে। আর এই মেশিনগুলো পর্যবেক্ষণের জন্য থাকবে নিদিষ্ট লোকবল।