চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের নিউরোলজি বিভাগে থ্রম্বোলাইসিসসহ স্ট্রোক রোগীদের অত্যাধুনিক চিকিৎসায় চালু করা হয়েছে বিশেষায়িত স্ট্রোক ইউনিট। মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে হাসপাতালের নিউরোলজি বিভাগে সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ইউনিটটির উদ্বোধন করা হয়।

হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল এসএম হুমায়ুন কবির এটি উদ্বোধন করেন। সম্প্রতি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত নিউরোলজি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মো. ওয়াহিদুর রহমানের নামে ওয়াহিদুর রহমান মেমোরিয়াল স্ট্রোক ইউনিট নামকরণ করা হয়।

নিউরোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. হাসানুজ্জামানের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন চমেকের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. সাহেনা আক্তার, মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. এম এ হাছান চৌধুরী, রেডিওলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. সুভাষ মজুমদার, নিউরোসার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. এসএম নোমান খালেদ চৌধুরী, ফিজিক্যাল মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডা. শওকত হোসেন এবং অনুষ্ঠানে প্রয়াত চিকিৎসক ডা. ওয়াহিদুর রহমানের বাবা মাহফুজুর রহমান প্রমুখ।
নিউরোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মাহবুবুল আলম খন্দকারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. ফারহানা মোছলেহ উদ্দিন।

উপস্থিত ছিলেন হাসপাতালের উপ-পরিচালক আফতাবুল ইসলাম, সহকারী পরিচালক ডা. মো. সাজ্জাদ হোসেন, ডা. রাজিব পালিত, নিউরোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. প্রদীপ কুমার কায়স্তগীর, ডা. শিউলি মজুমদার, ডা. পঞ্চানন দাশ, সহকারী অধ্যাপক ডা. মশিহুজ্জামান আলফা, ডা. মো. তৌহিদুর রহমান, ডা. মো. আনোয়ারুল কিবরিয়া, ডা. জামান আহম্মদ, ডা. মো. একরামুল আযম শাহেদ, কনসালটেন্ট ডা. সীমান্ত ওয়াদ্দাদার, সিনিয়র স্টোর অফিসার ডা. হুমায়ুন কবির ও বিভাগের রেজিস্ট্রার ডা. পীযুষ মজুমদার প্রমুখ।

হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার এসএম হুমায়ুন কবির বলেন, স্ট্রোক ইউনিটের মাধ্যমে চট্টগ্রামের রোগীরা অত্যাধুনিক চিকিৎসা পাবেন। ঢাকার নিউরোসায়েন্স ইনস্টিটিউটের পর বাংলাদেশে সরকারিভাবে চমেক হাসপাতালে এই ইউনিট সংযোজিত হতে যাচ্ছে। এখানে বিশেষায়িত সেবা দেওয়ার জন্য হাসপাতালের ওয়ান স্টপ জরুরি সেবা কেন্দ্রে একটি নতুন সিটি স্ক্যান মেশিন খুব শিগগির সংযোজন করা হবে।

তিনি বলেন, নিউরোলজি ওয়ার্ডে স্থান সংকুলান না হওয়ায় অনেক সময় লিফটের পাশে বারান্দায় রোগী ভর্তি দিতে হয়, এটি অমানবিক। আমরা চেষ্টা করছি, এই ওয়ার্ডের একটি বর্ধিত ওয়ার্ড খুঁজে বের করার।

অধ্যাপক ডা. হাসানুজ্জামান বলেন, এই স্ট্রোক ইউনিট গঠনের মূল উদ্দেশ্য হলো খুব দ্রুত সময়ে যে সব রোগী চিকিৎসা নিতে আসে, তাদের থ্রম্বোলাইটিক থেরাপির মাধ্যমে একটি বিশেষায়িত চিকিৎসা প্রদান করা। এই থেরাপির মাধ্যমে স্ট্রোক রোগীর হাতে পায়ে প্যারালাইসিস হওয়া রোধ করা যাবে। এই থেরাপি এমন একটি সেবা যার প্রাপ্তির সময়সীমা খুবই সীমিত। স্ট্রোক হওয়ার সর্বোচ্চ সাড়ে ৪ ঘণ্টার মধ্যে আমরা যদি এই সেবা শুরু করতে না পারি, তাহলে তা ফলপ্রসূ হবে না।

বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধে ডা. ফারহানা মোছলেহ উদ্দিন উল্লেখ করেন, এই ইউনিটের মাধ্যমে অত্যাধুনিক থ্রম্বোলাইসিস চিকিৎসার মাধ্যমে স্ট্রোকজনিত মৃত্যুহার এবং শারীরিক অক্ষমতা অনেকাংশে কমে আসবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *