ডা. কামরুল হাসান সোহেল : রোববার রাত নয়টায় কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসকের উপর হামলা চালায় স্থানীয় কিছু সন্ত্রাসী, গুন্ডা, মাস্তান। তারা চিকিৎসককে আহত করে ও হাসপাতালে ভাংচুর চালায়। আজো আমরা নিরাপত্তাহীন আমাদের কর্মস্থলে, কিন্তু কেন? আমাদের নিরাপত্তা দেয়ার দায়িত্ব কি রাষ্ট্রের নয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নয়? আমাদের দেখ-ভালের দায়িত্ব কি কারো নয়? সবাই শুধু শাসন করতে আসেন। কিন্ত কেউ আমাদের দুঃখ শুনেন না, আমাদের কষ্ট বুঝেন না, বুঝতে চান-ও না।

২০১৯ সাল ছিল চিকিৎসক নিপীড়ন বছর। দেশের প্রায় প্রতিটি জেলায়, প্রায় প্রতিটি উপজেলায়, প্রায় সব চিকিৎসা সেবা প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসক শারিরীক নিপীড়নের শিকার হয়েছেন।

সন্ত্রাসীরা কারো হাত ভেংগেছেন,কারো পা ভেংগেছেন, কারো মাথা ফাটিয়ে দিয়েছেন, কারো নাক ফাটিয়ে দিয়েছেন, শারিরীক নিপীড়নের হাত থেকে রেহাই পায়নি নারী চিকিৎসকরা ও। সন্ত্রাসীরা কারো হাত কেটে দিয়েছে কাচ দিয়ে। আর নারী চিকিৎসকরা প্রতি মূহুর্তে কত শত বার ইভটিজিংয়ের শিকার হয়েছেন তার তো কোন হিসেবই নেই।

ইভটিজিং নিয়ে সবচেয়ে বড় দুর্ঘটনা ঘটেছিল ২০১৭ সালে বগুড়া শ.জি.মে.ক এ। ইন্টার্নরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন শুরু করেছিল কিন্তু আন্দোলনের পিঠে ছুরিকাঘাত করে আন্দোলনকে ব্যর্থ করে দেয়া হয়।

প্রতিবার চিকিৎসকরা শারিরীক নিপীড়নের শিকার হওয়ার পর আমাদের অভিভাবক স্থানীয় সংগঠন কেন্দ্রীয় বিএমএ প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে। কালো ব্যাজ, মানববন্ধন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে, কখনো কখনো আংশিক কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছে। কখনো কখনো আমাদের নেতারা আক্রান্ত চিকিৎসকদের শয্যা পাশে গিয়ে দাঁড়িয়েছেন।

আজো আমরা আমাদের নিরাপদ কর্মস্থলের দাবী আদায় করতে পারিনি। হয়তো আমাদের নেতারাও আমাদের এই দাবীকে সরকারের কাছে পৌঁছাতে পারেন নি। কিন্তু আমরা আর কত দিন মার খেয়ে যাব?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *