চিকিৎসকদের নিয়ে গান লিখেছেন এক চিকিৎসক। সেই গানে মডেল হয়েছেন দেশের প্রতিথযশা অনেক চিকিৎসক। সঙ্গে পুষ্টিবিদসহ স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মানুষ।

ন্যাশনাল ডক্টরস ডে উপলক্ষ্যে বুধবার (৩০ মার্চ) গানটি মুক্তি পেয়েছে। মেডিটেইনমেন্ট ইউটিউব চ্যানেলে মুক্তি পাওয়া ওই গানটি এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল।

হৃদয়গ্রাহী ওই গানের কথা লিখেছেন ডা. মুহিব্বুর রহমান রাফে। গানে কণ্ঠ দিয়েছেন ক্লোজ-আপ খ্যাত শিল্পী সাব্বির জামান। সুর করেছেন আকবর হোসাইন ইন্না, সঙ্গীতায়োজনে ছিলেন আশফাক টুলু এবং গানটিতে কণ্ঠে দিয়েছেন পরিচালনায় ছিলেন এইচ আল বান্না। সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন আবু হানিফ নোমান।

সুচিকিৎসাও একটি শিল্পকলা। একজন ডাক্তারের অর্থ শুধু চিকিৎসক নয়, বরং তিনিও একজন শিল্পী, আরোগ্য শিল্পী। আমরা এ সত্যটিকে তুলে ধরতে চেয়েছি। গানটির চিত্রায়নে একজন ডাক্তারের ছাত্র জীবন থেকে শুরু অদ্যবধি পরিচালিত অধ্যাবসায় ও সংগ্রামের গল্প তুলে ধরা, কোভিডের সময়ে ডাক্তারদের ডেডিকেশনকে ফোকাস করা, চিকিৎসকদের জীবনে ঘটে যাওয়া নানাবিধ স্মৃতি তুলে ধরা, ক্লান্তিহীন সেবা প্রদান এবং কোন কোন ক্ষেত্রে জীবন বাজি রেখে কাজ করে যাওয়া। এমন কিছু গল্প তুলে ধরা হয়েছে গানটিতে। বিভিন্ন দৃশ্যে অভিনয় করেছে ডা. সাকলায়েন রাসেল, ডা. সাঈদুল আশরাফ কুশল, ডা. সুষমা রেজা, পুষ্টিবিদ আয়েশা সিদ্দিকা, ডা. কানিজ ফাতেমা তন্বী, ডা. সুষ্মিতা, লাবিবা তাসনিম, আহমেদ সাব্বির, ফাইজুল ফাহিম, মিষ্টি ও রুদাবা নাফিস।

গানের ফিচারিংয়ে রয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক প্রখ্যাত চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. শরফুদ্দিন আহমদ, একুশে পদকপ্রাপ্ত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. সায়েবা আক্তার, প্রখ্যাত মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ও রিউমাটোলজিস্ট অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আতিকুল হক, প্রখ্যাত শিশু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. আবিদ হোসেন মোল্লা, প্রখ্যাত মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ও ঢাকা মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. খান আবুল কালাম আজাদ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. এ.বি.এম. মাকসুদুল আলম, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. চিত্ত রঞ্জন দেবনাথ।

আলোচিত ওই গানের গীতিকার ডা. মুহিব্বুর রহমান রাফে যুগান্তরকে বলেন, দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে বিভিন্ন সময়ে মনের ভেতরে আসা কথাগুলো এই গানটিতে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। চিকিৎসক আর রোগী পরস্পরের প্রিয়জন। এই গানটি তাদের মাঝে সেতুবন্ধন তৈরিতে যদি সামান্যতম ভূমিকা রাখতে পারে তাহলে আমার আমার চেষ্টা সার্থক হয়েছে বলে মনে করব।’

সঙ্গীত পরিচালক আশফাক টুলু বলেন, ‘গানটির মিউজিক করতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত। গানটির কথা, সুর ও গায়কী সবই অসাধারণ হয়েছে। গানটির সাথে সংশ্লিষ্ট প্রত্যেকেই ধারুণ চেষ্টা করেছে। আমিও সর্বোচ্চ দেয়ার চেষ্টা করেছি। আরোগ্য শিল্পী ও মেডিটেইনমেন্ট চ্যানেলের ধারাবাহিক সাফল্য কামনা করি।’

ক্লোজআপ খ্যাত শিল্পী সাব্বির জামান বলেন, ‘সাধারণত ডাক্তারদেরকে নিয়ে আমাদের দেশে খুব একটা গান নেই। ডাক্তাররা আসলে তাদের পুরো জীবনটাই রোগীর জন্য উৎসর্গ করে। এটা গুরুত্বের সাথে অনুধাবনের বিষয়। তাদেরও পরিবার আছে, ঘর সংসার আছে, প্রিয়জন আছে। কিন্তু ইমার্জেন্সি কল এলই তাদেও ছুটে যেতে হয় হসপিটালে। সত্যিকারের সুপার হিরোদের আত্মত্যাগের কথাই এগানে তুলে ধরা হয়েছে। গানের কথা ও সুর সুন্দর হয়েছে। আমিও নিজের ভালোটাই দেয়ার চেষ্টা করেছি। আশা করছি সবার ভালো লাগবে।’

গানটির পরিচালক এইচ আল বান্না বলেন, ‘গানটির আবেদন অত্যন্ত চমৎকার। সাধারণত আমাদের সমাজে কেউ কেউ ডাক্তারকে সৃষ্টিকর্তার আসনে বসান আবার কেউ কেউ তাদেরকে কসাই হিসাবে দেখেন। অথচ ডাক্তাররাও আমাদের মত মানুষ। এবং এই পেশাতেই মানুষ দিন রাত একটানা সার্ভিস দিয়ে যাচ্ছেন। মানুষ হয়ে মানুষের জন্য তাদের যে ত্যাগ ভালোবাসা ও মায়া সেইসব গল্পই এই গানটিতে চিত্রিত হয়েছে। আর তাছাড়া আমরা অনেক সময় ভুলে যাই তাদেরও পরিবার আছে, স্বজনেরা তাদের জন্যও অপেক্ষা করে। এইসব আবেগ অনুভুতি আর সুরের মাধুর্যে গানটি একটি অনন্য জায়গায় পৌঁছেছে। আমাদের ভিজ্যুয়াল টিম চেষ্টা করেছে সেই আবেদনকে ফুটিয়ে তুলতে। আশা করছি ডাক্তারদের ও রোগীদের মাধ্যে সত্যিকারের ভালবাসার সেতু বন্ধনে গানটি সমগ্র বাংলা ভাষাভাষি মানুষের অন্তরে দাগ কাটবে।’

গানটির সার্বিক তত্ত্বাবধানে থাকা আবু হানিফ নোমান বলেন, ‘প্রচলিত বিনোদন ধর্মী গান বাইরে আমাদের সুপার হিরো ডাক্তারদের নিয়ে এমন নির্মাণ একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে। গানটির গীতিকার নিজেও একজন ডাক্তার। যার ফলে হৃদয়নিংড়ানো বাস্তব কথাগুলোই গানটিতে স্থান পেয়েছে। নির্মাণের দীর্ঘ যাত্রায় অনেকের ছোঁয়ায় গানটি দারুণ সমৃদ্ধি পেয়েছে। গানটি আসছে থেকে। আশা করছি সবার ভালো লাগবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *