“স্যার একটু আসবেন ওয়ার্ডে” আমাদের রুমে এসে একজন রোগীর স্বজন বললেন। কেবিন ব্লকের থেকে আমি আর ওয়াসেক কেবলই নেমেছি তখন। রাত তখন বারোটা পাচ কি সাত।
রোগীর স্বজন কে বললাম, “ওয়ার্ড তো আমাদের ডক্টর( শিক্ষানবিশ) আছেন, আগে উনাকে দেখান। প্রয়োজন মনে করলে উনিই আমাদেরকে জানাবেন। ”
“না স্যার একটু সাথে আসতেই হবে” একটু অনুরোধের সুরে বললেন তিনি।
বছরটাকে কেবল শুরু হলো। চারিদিকে আতশবাজি আর হৈ-হুল্লোড়ের চাপা শব্দ জানান দিচ্ছিল 2020 শুরু হবার। মনে একটু দ্বিধা নিয়ে বললাম,
“আচ্ছা আসছি”
ওয়াসেক কে বললাম তুই এটেন্ড কর। ওয়াসেক ওয়ার্ডে যাবার কিছু সময়ের মধ্যেই, আমাকে ফোন, “ভাই তাড়াতাড়ি ওয়ার্ডে আসেন”
কোন খারাপ কিছু হিয়েছে কি না, এমন কিছু চিন্তা করছিলাম। খুব দ্রুতই ওয়ার্ডে ঢুকে ওয়ার্কিং স্টেশনের সামনে জটলা দেখে ভাবলাম হয়তো কোন অপ্রত্যাশিত গ্যাঞ্জাম হয়েছে। কিন্তু সামনে এগুতেই ভুল ভাঙলো।
হাজারো অকৃতজ্ঞের মাঝে আমাদের হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের একটি অংশ, নতুন বছরের শুরুতে কর্তব্যরত চিকিৎসকবৃন্দ, নার্স, ওয়ার্ড বয় সবার কথা চিন্তা করে, দুটো কেক এনেছে।
উদ্দেশ্য হল, হাসপাতাল অবস্থান করলেও সবার সাথে নতুন বছরের একটি শুভ সূচনা করা। মনের ভিতর একটি অন্যরকম অনুভূতি কাজ করলো। না, কাপাসিয়া, ঈশ্বরদীর মত অনেক অকৃতজ্ঞ সংখ্যালঘু। বাকি সবাই আমাদের আশার আলো। কর্তব্যরত নার্সরা সকালে থেকে দেয়া হবে এমন ভায়েলগুলো দিয়ে লিখে ফেলল, “Happy New Year 2020”.

কেককাটা পর্ব শুরু হওয়ার আগে, বাকি রোগীদের কথা চিন্তা করে, সবাইকে অনুরোধ করলাম যেন কোন শব্দ না করা হয়। অর্থাৎ হ্যাপি নিউ ইয়ার বলে উদযাপন বা তালি জানো না দেওয়া হয়। নিঃশব্দেই, আমাদের জুনিয়র ডাক্তার, নার্স এবং আয়োজনকারি রোগী ও স্বজনদের দিয়ে কেক কাটার মাধ্যমে, ইংরেজি নববর্ষের প্রথম দিনেই একটা অন্যরকম অভিজ্ঞতা অর্জন করার সৌভাগ্য হলো।
আমাদের হাসপাতালে রোগীদের মত সবাই আসলে চিকিৎসক এবং চিকিৎসা সেবার সাথে জড়িত সবার প্রতি কৃতজ্ঞ। কিন্তু কুলাঙ্গারদের একটি অংশের কারণে, মন বিষিয়ে তুলেছে আমাদের অনেকের। তাই ভিশন 2020 হোক আমাদের সবার জন্য একটা অন্যরকম ল্যান্ডমার্ক।

যাতে রোগীদেরকে নির্দ্বিধায় আমরা বলতে পারি, “We are thankful to you, for choosing us to serve the humanity”

ফেসবুক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *