চীনে রহস্যজনক করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দ্বিতীয় এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। এ বিষয়ে বিশ্বজুড়ে হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুত থাকার সতর্কতা দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সম্প্রতি, দেশটিতে অজানা এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রথম কোনো মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের বরাতে ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ানের এক অনলাইন প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উহান মিউনিসিপাল হেলথ কমিশন ঘোষণা দিয়েছে, মূত্রাশয়-সম্বন্ধীয় অস্বাভাবিকতা ও একাধিক অঙ্গে গুরুতর ক্ষত নিয়ে ৬৯ বছর বয়সী এক ব্যক্তি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। কিন্তু গত ১৫ জানুয়ারি তার মৃত্যু হয়েছে। নিউমোনিয়া সংশ্লিষ্ট নতুন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত অন্তত ৪১ জন চিকিৎসা নিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার উহান হেলথ কমিশন বলে, রহস্যজনক এই ভাইরাসে অনেকে আক্রান্ত হয়েছিলেন। তাদের মধ্যে ১২ জন হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলেও পাঁচজন এখনও চিকিৎসা নিচ্ছেন, যাদের অবস্থা বেশ গুরুতর। এছাড়া জাপান ও থাইল্যান্ডে আরও দুজনকে শনাক্ত করা হয়েছে।

উহান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সামুদ্রিক খাবারের এক বাজার থেকে এই রোগ ছড়িয়েছে। গত ১ জানুয়ারি ওই বাজার বন্ধ করে দেয়া হয়। বিগত চীনা চান্দ্রবর্ষের আগে আগে এই রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। মূলত দেশের জাতীয় ওই উৎসবে চীনের ১৪০ কোটি মানুষ তাদের নিজ শহর ছেড়ে অন্যত্র ঘুরতে যায়।

দেশটির এক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বলেন, এই ভাইরাসের কারণে যদি একজনের মাধ্যমে আরেকজন সংক্রমিত হয় তাহলে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই। বিশেষ করে পরিবারের মধ্যে যারা একে অপরের সংস্পর্শে থাকে তাদের ক্ষেত্রে আশঙ্কা বেশি।

এদিকে, চীনের বাইরে গত সপ্তাহে এই ভাইরাস শনাক্ত করা হয়েছে প্রথম থাইল্যান্ডে। চীন থেকে থাইল্যান্ড, জাপান ছড়িয়ে পড়ার পর এই ভাইরাস বিশ্বজুড়ে বিস্তার লাভ করার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। থাইল্যান্ডে ছুটি কাটাতে গিয়েছিলেন একজন চীনা নারী। বিমানবন্দরে নজরদারিতে তার দেহে এই ভাইরাস শনাক্ত করা হয়েছে। পশুর মাধ্যমে এই ভাইরাস স্থানান্তরিত হয়।

ডব্লিউএইচও বলছে, মানুষ থেকে মানুষে এর স্থানান্তর হওয়ার কোনো প্রমাণ এখন পর্যন্ত নেই। এ সপ্তাহের শুরুতে ডব্লিউএইচও’র জরুরি রোগ ইউনিটের ভারপ্রাপ্ত প্রধান ড. মারিয়া ভ্যান কারখোভে বলেছেন, এই ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়া নিয়ন্ত্রণ করতে বিশ্বজুড়ে হাসপাতালগুলোতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়টি আমাদের নজরে আছে। তাই আমাদের নিজেদেরই প্রস্তুত থাকা দরকার।

প্রতি বছর চীন সফরে যান প্রায় ৫ লাখ ৯৫ হাজার বৃটিশ। তাদের কাছে এটি পর্যটনের একটি প্রাণকেন্দ্র। তাই যেকোনো ব্যক্তির জ্বর হলে সে বিষয়ে চীনের কিছু হাসপাতালকে রিপোর্ট করতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *