জানুয়ারি মাসে পালিত হয়েছে জরায়ুমুখে ক্যানসার সচেতনাবিষয়ক বিভিন্ন আয়োজন। এ বছরের প্রতিপাদ্য হলো ‘বাল্যবিবাহকে জোর না বলুন’। বাংলাদেশ সরকার বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে জরায়ুমুখে ক্যানসার অপসারণ করার জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় ইনসেপ্টা ও প্রথম আলোর আয়োজনে ফেসবুক পেজে ওয়েবিনারের আয়োজন করেছে অবস্ট্রেটিক্যাল ও গাইনোকোলজিক্যাল অনকোলজি সোসাইটি অব বাংলাদেশ (জিওএসবি)।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই সঞ্চালকের বক্তব্যে অবস্ট্রেটিক্যাল অ্যান্ড গাইনোকোলজিক্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশের (ওজিএসবি) সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক গুলশান আরা বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থামতে, প্রতিবছর জরায়ুমুখে ক্যানসারের কারণে মৃত্যু হয় তিন থেকে চার লাখ নারীর। এর ৮৫ শতাংশই হয় কম বয়সী, অল্প শিক্ষিত এবং যারা বাস করে বিশ্বের স্বল্পোন্নত দেশে। আমাদের দেশে প্রতিবছর নতুন রোগী দেখা যায় ৮ হাজার ২৮০ জনের মতো এবং মৃত্যু হয় ৪ হাজার ৯৭১ জনের। কিন্তু রোগটি পুরোপুরি প্রতিরোধযোগ্য, এটি মেনে নেওয়া যায় না। উন্নত দেশে মৃত্যুহার অনেক কম, কিন্তু গরিব দেশে এর হার অনেক বেশি। অনুষ্ঠানে সহসঞ্চালক হিসেবে ছিলেন ওজিএসবির প্রেসিডেন্ট ইলেক্ট অধ্যাপক ফারহানা দেওয়ান।
অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্যে অবস্ট্রেটিক্যাল অ্যান্ড গাইনোকোলজিক্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশের (ওজিএসবি) প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ফেরদৌসী বেগম বলেন, ‘জরায়ুমুখে ক্যানসার নারীদের জন্য খুবই বেদনাদায়ক। এটি হলে মানুষ খুব কষ্ট পায় এবং মারা যায়। তাই আমাদের এ রোগ সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে।’

জাতীয় অধ্যাপক ও ওজিএসবির সাবেক প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক শাহলা খাতুন বলেন, ভালোভাবে চিকিৎসা করলে ক্যানসার ভালো হয়। তাই ক্যানসার নিয়ে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। এটি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। ওজিএসবির সাবেক প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক রওশন আরা বেগম বলেন, ‘ক্যানসার প্রতিরোধযোগ্য রোগ। আমরা ইচ্ছা করলেই ক্যানসার প্রতিরোদ করতে পারি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আমাদের বিভিন্ন শিক্ষা দিচ্ছে, ইচ্ছা করলেই ক্যানসার প্রতিরোধ করা সম্ভব।’

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ক্যানসার রিসার্চ অ্যান্ড হসপিটালের (এনআইসিআরএইচ) পরিচালক অধ্যাপক স্বপন কুমার বন্দ্যোপাধ্যায় বক্তব্যে বলেন, ‘সবার আগে আমাদের সচেতনা বাড়াতে হবে। ওয়েবিনারে বক্তব্য দেন ডিরেক্টরেট জেনারেল অব হেলথ সার্ভিসের (ডিজিএইচএস) প্রোগ্রাম ম্যানেজার, ম্যাটারনাল হেলথ চিকিৎসক মো. আজিজুল আলিম। এ সময় তিনি বলেন, ‘আমাদের সবাইকে মিলে কাজ করতে হবে। যেকোনো রোগ কারও একার পক্ষে নিরাময় করা সম্ভব নয়। সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করবে, সেটা ডাক্তারদের বাস্তবায়ন করতে হবে। তাহলে রোগ নিরাময় করা সম্ভব।’

গাইনোকোলজিক্যাল অনকোলজি সোসাইটি অব বাংলাদেশের (জিওএসবি) প্রেসিডেন্ট ও সাবেক প্রেসিডেন্ট ওজিএসবি অধ্যাপক টি এ চৌধুরী বলেন, ‘জরায়ুমুখে ক্যানসার দূর করতে কয়েকটা জিনিস লাগবে। আমরা ক্যানসারের টিকা শুরু করেছিলাম। কিন্তু এখন এটা বন্ধ আছে। যন্ত্রপাতির উন্নতির পাশাপাশি আমাদের জনবলও তৈরি করতে হবে।’

এ ছাড়া ওয়েবিনারে আরও আলোচনা করেন, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ক্যানসার রিসার্চ অ্যান্ড হসপিটালের (এনআইসিআরএইচ) গাইনোকোলজিক্যাল অনকোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক রোকেয়া আনোয়ার, ওজিএসবির সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক সাবেরা খাতুন, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ক্যানসার রিসার্চ অ্যান্ড হসপিটালের (এনআইসিআরএইচ) গাইনোকোলজিক্যাল অনকোলজি বিভাগের অধ্যাপক জান্নাতুল ফেরদৌস জোনাকি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) গাইনোকোলজিক্যাল অনকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ফৌজিয়া হোসেন ও ডিরেক্টরেট জেনারেল অব হেলথ সার্ভিসের (জিএইচএস) লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক রোবেদ আমিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *