ডা. আহাদ আদনান: যেসব প্রাণী থেকে জলাতঙ্ক জীবাণু ছড়ায়
* গৃহপালিত: কুকুর, বিড়াল

* গৃহ-পরিবেষ্টিত: গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া, শূকর, গাধা, ঘোড়া, উট

* বন্য: শেয়াল, বানর, নেকড়ে, বাদুড়, ইঁদুর, কাঠবিড়ালি, বেজি, চিকা, বনবিড়াল, খরগোশ

জীবাণুর সংস্পর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা
ক্যাটাগরি ১: পশু যদি শুধু স্পর্শ করে বা অক্ষত চামড়ায় লেহন করে, তবে কিছু করতে হবে না।

ক্যাটাগরি ২: আঁচড়, রক্তপাতহীন ছুলে গেলে চামড়ার যত্ন নেওয়া এবং টিকা নিতে হবে।

ক্যাটাগরি ৩: চামড়া ভেদ করা কামড়, ছুলে যাওয়া চামড়া কিংবা দেহাভ্যন্তরে লেহন, মুখমণ্ডল বা পিঠে মেরুদণ্ডের কাছাকাছি আঁচড়, রক্তখেকো বাদুড়ের আঁচড়ে চামড়ার যত্ন, টিকা ও ইমিউনোগ্লোবিন ইনজেকশন নেওয়া লাগবে।

চামড়ার যত্নে করণীয়
* তীব্র জলের ঝাঁপটায় ধুয়ে ফেলুন।

* সাবান, জীবাণুনাশক ব্যবহার করুন।

* গভীর ক্ষত হয়ে গেলে আক্রান্ত স্থানে ক্যাটাগরি ৩-এর ব্যবস্থা নিতে হবে।
চামড়ার যত্নে বর্জনীয়

* হাত দিয়ে সরাসরি স্পর্শ করবেন না।

* মাটি, কয়লা, তেল, চক লাগাবেন না।

* সেলাই, বৈদ্যুতিক কটারি (পুড়িয়ে দেওয়া) করবেন না। প্রয়োজনে সেলাই লাগলেও একটু আলগা করে করতে হবে।

* টিকা ও ইমিউনোগ্লোবিন একই সিরিঞ্জে দেওয়া যাবে না। ইমিউনোগ্লোবিন দেওয়ার আগে ত্বক পরীক্ষা (স্কিন টেস্ট) করে নেওয়া উচিত।

টিকার ধরন এবং ডোজ
জলাতঙ্কের দুই ধরনের টিকা রয়েছে। একধরনের টিকা মাংসপেশিতে (শুধু বাহুতে) এবং অন্যটি চামড়ায় দিতে হয়। চামড়ায় দেওয়া টিকা বেশি কার্যকর, কম খরচ হলেও প্রশিক্ষিত জনবলের অভাবে মাংসপেশির টিকাই বেশি প্রচলিত।

আগে কিংবা গত পাঁচ বছরে টিকা দেওয়া হয়নি, এমন ব্যক্তি বা শিশুর জন্য ডোজ: ০ (কামড় নয়, টিকা দেওয়ার দিন), ৩, ৭, ১৪ ও ২৮তম দিন। আরেকটি সূচি হচ্ছে ০, ৭ ও ২১তম দিনে দুই বাহুতে ২ টিকা করে।

* পশু আক্রমণের সঙ্গে সঙ্গে অন্তত ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই টিকা নিয়ে নেওয়া উচিত।

* কোনো কারণে ইমিউনোগ্লোবিন পাওয়া না গেলে (ক্যাটাগরি ৩) ০তম দিনে দুই বাহুতে ২ টিকা নিতে হবে। ৩, ৭, ১৪ ও ২৮তম দিনে নিয়ে ডোজ পূর্ণ করতে হবে।

* পাঁচ বছরের মধ্যে টিকা নেওয়া থাকলে ০ ও তৃতীয় দিনে বুস্টার টিকা নিলেই হবে।

* ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তির ক্ষেত্রে কামড়ের আগেই টিকা—০ ও তৃতীয় দিন; এরপর আক্রান্ত হলে ০, ৭ ও ২১/২৮তম দিন।

* শুধু গৃহপালিত কুকুর ও বিড়ালের কামড়ের পর যদি সেই প্রাণী পরবর্তী ১০ দিন সম্পূর্ণ সুস্থ থাকে, তবে ১৪ ও ২৮তম দিনের টিকা না দিলেও হবে।

একটি কথা বলা উচিত, জলাতঙ্ক মস্তিষ্কের এমন একটি গুরুতর অসুখ, যেটা প্রতিরোধের জন্য কোনো ধরনের অবহেলা করা যাবে না। অন্তঃসত্ত্বা, স্তন্যদানকারী মা, নবজাতক শিশু, অতিবয়স্ক ব্যক্তিও টিকা নিতে পারবেন। কোনো রকম সন্দেহ, প্রশ্ন থাকলেও অসুখের ভয়াবহতা বিবেচনা করে টিকা নিয়ে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

রেজিস্ট্রার (শিশু বিভাগ), বাংলাদেশ শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট (আইসিএমএইচ), মাতুয়াইল, ঢাকা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *