ডা. আসিফ সৈকত : নয়ন নামক ফরিদপুর মেডিকেলের একজন ছাত্র সুইসাইড করেছে। সে ফাইনাল প্রফ দিচ্ছিলো। আর কিছুদিন পরই সে চিকিৎসক হতো।
জীবনের কোনো এক স্তরে আমিও প্ল্যান করেছিলাম সুইসাইড করার। সব বিরক্ত লাগতো। আমার চারপাশ, পরিস্হিতি আমাকে এতোটাই নাজুক করে দিয়েছিলো, আমি বেঁচে থাকার কোনো প্রেরণা বা রসদ পাইনি তখন।
আমার নিজেকে এখন রামছাগল মনে হয়, বড় মাপের শংকর গোত্রীয় রামছাগল। সেদিনের সেই ছাগলামী মানসিকতা আমাকে প্রচুর হাসায়। মেডিকেল নামক কারাগারে প্রতিটা ছাত্রেরই কোনো না কোনো সময় সুইসাইডের ইচ্ছা জাগে। আমাদের দেশের মেডিকেল শিক্ষা ব্যবস্হাটা এতো বাজে এবং নোংরা- ছাত্রকে পিষে মারাতেই আনন্দ সবার। একজনও ছাত্রের কষ্ট বুঝতে চান নাও।
মধ্যবিত্ত একটা পরিবারের ছেলে কতো কষ্ট করে মেডিকেলে পড়ে, কতো প্যারা সহ্য করে নীরবে এসব আসলে ইতিহাস।
জীবনে আপস এন্ড ডাউনস থাকবেই। আপনার ক্যারিয়ার আপনাকে গুছিয়ে নিতে হবে। স্লো আগান। কাওকে বদার করার প্রয়োজন নেই। কে কি বললো না বললো গায়ে মাখবেন না। ক্যারিয়ার হবেই, হতেই হবে। গার্লফ্রেন্ড আপনার সাথে একই ইয়ারে পড়ে! আপনি ফেল করেছেন, সে পাশ করেছে !!! বিয়ের জন্য চাপ দিচ্ছে? ইগনোর ম্যান!
ছাত্ররাজনীতি করেছেন? একবছর ধ্বসিয়ে দিয়েছে প্রতিপক্ষ আপনার জীবন থেকে! ইগনোর ম্যান!
আপনার ব্যাকস্টেজের গল্প কেউ শুনবেনা, সবাই success দেখবে। Nobody will ask you – ‘ How painful or hard the road was? ‘
Nobody will ask, the bitter truth!
জীবনে নিজের যোগ্যতায় দাঁড়াতে হবে, খুব কম মানষ আপনাকে push করবে। Push করলেও ১ বারের বেশি ২ বার করবেনা।
জীবনের প্রতিটা মুহূর্ত মূল্যবান। সময়ের মূল্য দিন। ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিন। বহু ধোঁকাবাজ, টাউট বাটপার আপনাকে ঠকিয়ে যাবে, আপনার শ্রম, অর্থ মেরে দেবে। পেছনে তাকাবেন না, ধোঁকাবাজদের সময় দেবার জন্য আপনার জন্ম হয়নি, ব্যর্থতার হিসাব করার সময়ও নেই। একটা কথা মনে গেঁথে রাখুন- ‘মানুষ মানুষের বর্তমান চুরি করে। ভবিষ্যৎ চুরি করার সামর্থ্য কারো নেই। স্বপ্ন কখোনো চুরি করা যায়না।’
Success শব্দটা শুধুমাত্র আপনার নিজের। কাউকে ভাগ দেবেন না, দিলেও শুধু তাকে বা তাদেরকে দেবেন – যে আপনার কষ্টগুলাকে feel করেছে। কানে কানে বলেছে- ‘হুম! তুমি পারবা! হতাশ হবানা!’
নিজেকে নিজে সময় দিন, জেদ রাখুন, একাগ্রতা রাখুন, টার্গেট ফিক্সড করুন।
সাফল্য আসবেই, No worries. নিজের জীবনকে ভালোবাসুন, প্রেমিকার চেয়েও অন্তত ১০০ কোটি গুণ বেশি।