ঝিনাইদহ ২৫ শয্যার শিশু হাসপাতাল ১৪ বছরেও চালু হয়নি। এতদিনে দ্বিতল বিশাল ভবন, স্টাফদের ৫টি বাসভবন জঙ্গলে ঢেকে গেছে। খসে পড়ছে জানালা-দরজা। ফাটল ধরেছে দেওয়ালেও। বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে তার ছিঁড়ে গেছে। পানি নেই, বিদ্যুৎ নেই। কাঠের তৈরি কিছু ফার্নিচারে ঠাসা কয়েকটি কক্ষ। হাসপাতালটি চালু না হলেও লাখ লাখ টাকার ইলেকট্রো মেডিকেল যন্ত্রপাতি ক্রয় করা হয়েছে। কিন্তু এখন সেই যন্ত্রপাতিও হাসপাতালে দেখা যায়নি।

জানা যায়, ২০০৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ঝিনাইদহ ২৫ শয্যার শিশু হাসপাতাল উদ্বোধন করেন। এর আগে ৮৮ লাখ এক হাজার ৯০৬ টাকায় তিন একর জমি ক্রয় করা হয়। হাসপাতাল ভবন স্টাফদের বাসভবন নির্মাণে খরচ হয় ৫ কোটি ৬৪ লাখ দুই হাজার ৮৭ টাকা। ২৭ মে ২০০৫ সালে তৎকালীন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন সিএমএমইউ নির্মাণ কাজ শুরু করে। শেষ হয় ২০০৬ সালের ৩০ এপ্রিল। ওই বছরের ৩০ আগস্ট ২৫ শয্যার শিশু হাসপাতালটি এইচইডির কাছ থেকে স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়। একই বছরের ১০ নভেম্বর প্রশাসনিক অনুমোদন দেয়া হয়। এরপরই থেমে যায় কার্যক্রম।

সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, ২০১৪ সালের ২৯ জানুয়ারি স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় নার্সিং শাখা থেকে স্থায়ী রাজস্ব খাতে ৭ জন সিনিয়র স্টাফ নার্সের পদ সৃষ্টি করে এ হাসপাতালে পোস্টিং দেয়া হয়। মজার বিষয় হল, ওই ৭ নার্স এ হাসপাতালে আজও যোগদান করেননি। অথচ ২০১৬ সালের ৮ ডিসেম্বর আরও ১১ জন সিনিয়র স্টাফ নার্স হাসপাতালটির জন্য নিয়োগ দেয়া হয়। এরা কেউ হাসপাতালটিতে যোগদান করেননি। তারা ঝিনাইদহের সিভিল সার্জনের কার্যালয়ে যোগ দিয়ে অন্য স্থানে পোস্টিং নিয়ে চাকরি করছেন।

জানা গেছে, স্বাস্থ্য অধিদফতর মহাখালী ঢাকার তৎকালীন পরিচালকের (হসপিটাল সার্ভিস ম্যানেজমেন্ট) কাছ থেকে ২০১৬ সালের ৬ ডিসেম্বর সিভিল সার্জন ঝিনাইদহ বরাবর পাঠানো ২৩০০নং স্মারকে একটি চিঠি দেয়া হয়। ওই চিঠির সূত্র ধরে জানা যায়, ২৫ শয্যার শিশু হাসপাতাল ও ঝিনাইদহ সদর উপজেলার হাটগোপালপুরে ২০ শয্যার হাসপাতালের জন্য ১০ লাখ এক হাজার ৫১৭ টাকার ইলেকট্রো মেডিকেল যন্ত্রপাতি ক্রয় করা হয়েছে। অথচ হাটগোপালপুরে ২০ শয্যার হাসপাতালের কোনো অস্তিত্বই পাওয়া যায়নি। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় হাটগোপালপুর হাসপাতালের জন্য জমি কেনা হলেও অবকাঠামো গড়ে ওঠেনি। গত ২৯ ডিসেম্বর সরেজমিন ২৫ শয্যার শিশু হাসপাতালটির জরাজীর্ণ ভবন ঘুরে সেই সব যন্ত্রপাতির সন্ধান মেলেনি।

এ ব্যাপারে কথা বলতে ঝিনাইদহ সিভিল সার্জন ডা. সেলিনা বেগমকে ফোন করে পাওয়া যায়নি। তার দফতরের মেডিকেল অফিসার ডা. প্রসেনজিৎ বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক কোড বা বেতন কোড না থাকায় হাসপাতালটি চালু করা যায়নি। তবে যন্ত্রপাতির বিষয়ে তিনি কোনো তথ্য দিতে পারেননি।

সিভিল সার্জনের দফতরের প্রধান সহকারী আবুল হোসেন বলেন, সরবরাহ করা কিছু ইলেকট্রো মেডিকেল যন্ত্রপাতি স্বাস্থ্য অধিদফতর ফেরত নিয়ে গেছে। কিছু হাসপাতালের স্টোরে জমা আছে।

ডেপুটেশনে থাকা উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার রোকসানা ওয়াজির রূপালী ও এমএলএসএস মো. নজরুল ইসলাম জানান, হাসপাতালটির যন্ত্রপাতিগুলো কোথায় তা তারা জানেন না। বিশাল এ হাসপাতাল ভবনের একটি কক্ষে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বসে থাকেন তারা। প্রতিদিন অন্তত ৬-৭ জন শিশু রোগী আসে বলে জানান তারা। এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদফতর খুলনা বিভাগের পরিচালক ডা. রাশিদা সুলতানা যুগান্তরকে বলেন, ইতিমধ্যে ঝিনাইদহ ২৫ শয্যার শিশু হাসপাতালের জন্য প্রতিষ্ঠানিক কোড সৃষ্টি করা হয়েছে। শিগগির জনবল নিয়োগ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *