ট্রমা বা আঘাতপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা সহায়তায় এভারকেয়ার হাসপাতাল, বাংলাদেশের সেন্টার অব এক্সিলেন্স ফর ইমার্জেন্সি অ্যান্ড ট্রমা সেন্টার প্রস্তুত রয়েছে। এখানে ট্রমায় আক্রান্ত রোগীদের জরুরি সেবার জন্য রয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা। রয়েছে প্রয়োজনীয় অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা।
এভারকেয়ার হাসপাতালের ঢাকা ও চট্টগ্রাম শাখায় সারা দেশ থেকে আসা ট্রমায় আক্রান্ত রোগীদের সেবা দেওয়া হচ্ছে। এ জন্য দুটো হাসপাতালেই বিশেষ ট্রমা টিম গঠন করা হয়েছে। এ দলের প্রত্যেক সদস্যকে অ্যাডভান্সড ট্রমা লাইফ সাপোর্টের (এটিএলএস) বিষয়ে মৌলিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। ট্রমা টিমে নানা বিষয়ের বিশেষজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
রয়েছেন—
জেনারেল ও ল্যাপারোস্কোপিক সার্জন
নিউরোসার্জন
অর্থোপেডিক সার্জন
প্লাস্টিক, রিকনসট্রাকটিভ সার্জন
কার্ডিওভাসকুলার ও থোরাসিক সার্জন
ফিজিক্যাল মেডিসিন ও রিহ্যাবিলিটেশন বিশেষজ্ঞ
ক্রিটিক্যাল কেয়ার বিষয়ক বিশেষজ্ঞ
৪৫ বছরের কম বয়সী মানুষের মৃত্যুর অন্যতম কারণ আঘাতজনিত অসুস্থতা বা ট্রমা ইনজুরি। একই সঙ্গে একাধিক আঘাতের ঘটনা রোগীকে গুরুতর বিকলাঙ্গতার দিকে নিয়ে যেতে পারে। বিশেষত অনভিজ্ঞ স্বাস্থ্যকর্মী কিংবা বিভিন্ন বিষয়ের বিশেষজ্ঞদের অসংগঠিত চিকিৎসা দলের কাছে এসব রোগীর ক্ষতির মুখে পড়ার আশঙ্কা বেশি।
এভারকেয়ার অ্যাকসিডেন্ট অ্যান্ড ইমার্জেন্সি সেন্টার সপ্তাহে ৭ দিনই ২৪ ঘণ্টা ট্রমায় আক্রান্ত রোগীদের সেবায় অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধাসহ জরুরি সহায়তা দিয়ে থাকে। একই সঙ্গে এখানে বিশেষজ্ঞ ট্রমা দলের মাধ্যমে ভেন্টিলেটর ও লাইফ সাপোর্ট সংবলিত অ্যাম্বুলেন্স, স্ট্রোক ব্যবস্থাপনা, লাইফ সাপোর্ট, কার্ডিয়াক সাপোর্ট পাওয়া যায়। হাসপাতালটি জরুরি ও ট্রায়াজ বেডসহ ট্রমায় আক্রান্ত রোগীদের লাইফ সাপোর্ট প্রটোকল দেয়। এ ছাড়া এভারকেয়ার হাসপাতালে ডায়াগনস্টিক, মেডিকেল ও সার্জিক্যাল স্পেশালিটির তাৎক্ষণিক ব্যবস্থাও রয়েছে।
বুকে ব্যথা রয়েছে, তবে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলক কম—এমন রোগীদের জরুরি ব্যবস্থাপনার জন্য এভারকেয়ার হাসপাতালের অ্যাকসিডেন্ট অ্যান্ড ইমার্জেন্সি সেন্টারে চেস্ট পেইন অবজারভেশন ইউনিট (সিপিওইউ) রয়েছে। এর লক্ষ্য কম ঝুঁকিপূর্ণ রোগীদের অযথা হাসপাতালে ভর্তি না করে তাঁদের সেবা প্রদানের দক্ষতা উন্নত করা। এ জন্য হাসপাতালটিতে নয়টি জরুরি নীতি (কোড) অনুসরণ করা হয়। এর মধ্য দিয়ে দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বিভিন্ন জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব হয়।
আমাদের সেবাসমূহ
১. ২৪/৭ ঘণ্টা দ্রুততম সময়ে ট্রমায় আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসা।
২. জরুরি বিভাগে তাৎক্ষণিকভাবে সাধারণ ও কার্ডিয়াক শাখায় উন্নত সেবার সুবিধা।
৩. প্রশিক্ষিত চিকিৎসক ও পেশাদার স্বাস্থ্যসেবীদের মাধ্যমে ট্রমায় আক্রান্ত রোগীদের জন্য এক্স-রে, আলট্রাসনোগ্রাফি, সিটি-স্ক্যানসহ বিভিন্ন সেবা। রয়েছে এমআরআই ও ক্রমাগত কার্ডিয়াক মনিটরিং সেবা। এ ছাড়া সিটি এনজিওগ্রামের মাধ্যমে অ্যাডভান্স ভাসকুলার ডায়াগনোসিস , ডিএসএ, উচ্চ মানের পরীক্ষাগার পরিসেবা, নিবিড় পরিচর্যা, মডুলার ওটিসহ নানান সেবা।
৪. ২৪ ঘণ্টা ট্রমা আক্রান্ত রোগীদের অপারেশন সুবিধা। যার মধ্য রয়েছে পেট, বুক, পেডিয়াট্রিক সার্জারি, নিউরোসার্জারি, অর্থোপেডিকস ও ইএনটি সার্জারি।
৫. দ্রুত ও মানসম্পন্ন অর্থোপেডিকস জরুরি ব্যবস্থাপনা।
৬. সাধারণ ও উন্নত পেডিয়াট্রিক ও নিউনেটাল রিসেসসিটেশনের সুবিধা।
৭. প্রশিক্ষিত প্যারামেডিকদের নেতৃত্বে এসিএলএস অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে রোগীদের জরুরি আনা ও নেওয়ার সেবা।
গোল্ডেন আওয়ার
যখন ট্রমায় আক্রান্ত কোনো রোগী হাসপাতালে আসেন এবং তাঁর জীবন বাঁচানোর জন্য জরুরি অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয়, তখন প্রথম কয়েক মিনিট বা ঘণ্টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয় ওঠে। এই সময়টা রোগীর পুরোপুরি সুস্থতা কিংবা যেকোনো জরুরি ক্লিনিক্যাল ব্যবস্থার ফলাফলের একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্ধারক হয়ে উঠতে পারে। এ সময়টা ‘গোল্ডেন আওয়ার’ নামে পরিচিত। জরুরি সেবার ক্ষেত্রে এ সময়টুকু রোগীর বেঁচে থাকা ও মৃত্যুর মধ্যকার পার্থক্য গড়ে দিতে পারে। কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে যে গোল্ডেন আওয়ারে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে পারলে ট্রমায় রোগীর মৃত্যু কমিয়ে আনা সম্ভব।
আক্রান্তের প্রতি করণীয়
ট্রমায় আক্রান্ত রোগীর জরুরি সেবার ক্ষেত্রে গোল্ডেন আওয়ার একটি অপরিহার্য অংশ। আপনি এমন পরিস্থিতিতে পড়লে নিচের পদক্ষেপগুলো অনুসরণ করুন—
১. সহায়তার জন্য ঘটনাস্থলে সবার আগে ছুটে যাওয়ার প্রবণতা নিয়ন্ত্রণ করুন। কিছুটা সময় নিন। পরিস্থিতি দেখুন, এরপর প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিন।
২. পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের সময় ঘটনাস্থল ও রোগীর জন্য কোন ধরনের প্রাথমিক সহায়তা প্রয়োজন হবে, সেই সম্পর্কে ধারণা নিন। যেমন: দেখার সময় ভুক্তভোগীর জন্য কোন ধরনের সাড়া বা সহায়তা নিরাপদ হবে, তা পর্যালোচনা করতে হবে। যেমন আগুন, দ্রুত গতিতে যান চলাচল, বিদ্যুতের লাইন ভেঙে পড়া ইত্যাদি।
৩. সহায়তার জন্য কল করুন। যিনি ঘটনাস্থলে যাবেন, তাঁকে ঘটনাস্থল সম্পর্কে সঠিক তথ্য দিন। সহায়তাকারী দল এলে রোগীকে স্থিতিশীল করার পাশাপাশি দ্রুত সঠিক হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।