ইকবাল হাসান ফরিদ : দন্তচিকিৎসক আহমেদ মাহী বুলবুলের সন্দেহভাজন ঘাতকরা এখন পুলিশের কবজায়। তাদেরকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমের সামনে এ বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হতে পারে। রোববার ভোরে রাজধানীর কাজীপাড়ায় দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে বুলবুল নিহত হন। সোমবার রংপুরে গ্রামের বাড়িতে বাবার কবরের পাশে মাহীকে দাফন করা হয়। এদিন সংবাদ সম্মেলন করে ঘাতকদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন বুলবুলের পরিবার ও সহপাঠীরা। এর আগে বুলবুলের স্ত্রী শাম্মী আক্তার বাদী হয়ে মিরপুর মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা ৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ২৭ এপ্রিল দাখিলের দিন বেঁধে দিয়েছেন আদালত।
কাজীপাড়ায় মেট্রোরেল স্টেশনের কাছে ছুরিকাঘাতে নিহত হন ডা. আহমেদ মাহী বুলবুল। এরপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলের আশপাশের অন্তত ২০টি সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেন। ফুটেজ পর্যালোচনা করে তারা তিনজনকে চিহ্নিত করেন। এরপর অভিযান চালিয়ে সোমবার ঘাতকদের আটক করা হয়। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে মঙ্গলবার মিরপুর শেরেবাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিশেষ কনসার্ট হবে। সেখানে পারফর্ম করবেন অস্কারজয়ী সংগীতশিল্পী এ আর রহমান। এ কারণে এদিন বিষয়টি খোলাসা না করে একদিন পর আনুষ্ঠানিকভাবে আসামিদের বিষয়ে জানানো হতে পারে। যোগাযোগ করা হলে পুলিশের মিরপুর বিভাগের ডিসি মাহতাব উদ্দিন যুগান্তরকে বলেন, তদন্তে অনেক অগ্রগতি হয়েছে। আশা করছি দুয়েকদিনের মধ্যে ভালো কিছু জানাতে পারব।
রংপুর ব্যুরো জানায়, সোমবার সকালে রংপুর নগরীর রামপুরা ভগিবালাপাড়ার নিজ বাড়িতে বুলবুলের লাশ পৌঁছালে সেখানে হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। কান্নায় ভেঙে পড়েন তার স্বজনরা। প্রিয় বুলবুলকে শেষবারের মতো দেখতে ছুটে আসেন এলাকাবাসী ও বন্ধুবান্ধবরা। বাদ জোহর স্থানীয় জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত জানাজায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন।
বুলবুলের ছোট ভাই বকুল জানান, বাদ জোহর জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সামাদের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে সন্তান হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন আহমেদ মাহী বুলবুলের মা বুলবুলি বেগম। তিনি বুলবুলের সন্তানদের পড়ালেখার দায়িত্ব সরকারকে নেওয়ার অনুরোধ জানান। এ সময় তিনি বুলবুলের সন্তান কোলে নিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
সংবাদ সম্মেলনে ডা. বুলবুলের সহপাঠী ও এসএসসি ৯৭ ব্যাচের বন্ধুরা বলেন, দন্তচিকিৎসক আহমেদ মাহী বুলবুল একজন সামাজিক ও মানবিক মানুষ ছিলেন। শিশুদের নিয়ে কাজ করতেন। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পেছনে আরও কোনো উদ্দেশ্য আছে কি না, সেটা গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা উচিত। তার মৃত্যুতে দুটি সন্তান, স্ত্রী-মাসহ পরিবারটি এখন অসহায়। বুলবুলের পরিবারের পাশে সরকারের দাঁড়ানো উচিত। বুলবুলের সহপাঠী ডা. মোস্তফা আলম বলেন, আমরা অকালে একজন ভালো মানুষকে হারালাম। আমাদের এসএসসি ৯৭ ব্যাচের সারা দেশের বন্ধুদের দাবি, আওয়ামী লীগ নেতা টিপু হত্যাকারীকে যেভাবে দ্রুত গ্রেফতার করা হয়েছে, সেভাবেই ডা. বুলবুল হত্যাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, ছিনতাইকারীর হাতে বুলবুল খুন হয়েছেন। তবে স্বজনদের দাবি, বুলবুল চিকিৎসা পেশার পাশাপাশি ঠিকাদারি ব্যবসাও করতেন। ঠিকাদারি নিয়ে কোনো বিরোধের জেরেও তিনি খুন হয়ে থাকতে পারেন।
আদালত সূত্র জানিয়েছে, সোমবার দুপুরে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইশরাত জাহানের আদালতে বুলবুল হত্যা মামলার এজাহারটি পৌঁছায় পুলিশ। এরপর আদালত মিরপুর থানার এসআই রফিকুল ইসলামকে তদন্ত করে ২৭ এপ্রিল প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।