নির্যাতন ও যৌতুক দাবির অভিযোগে স্ত্রীর দায়ের করা মামলায় চট্টগ্রামে পুলিশের এক সার্জেন্টের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। বুধবার চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭ এর বিচারক বেগম ফেরদৌস আরা এ পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।

সার্জেন্ট ইকবাল হোসেন বর্তমানে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশে কর্মরত আছেন। তিনি চাঁদপুর জেলার শাহরস্তি উপজেলার দিকধাইর এলাকার মৃত আবুল হোসেনের ছেলে।

বাদীপক্ষের আইনজীবী এজেডএম আরমান হাবিব যুগান্তরকে বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে গত ২৬ আগস্ট মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। মামলার বাদী ডা. সোনিয়া সামাদ জেলার মীরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জ বারইয়ারহাট এলাকার ঢালী আবদুস সামাদের মেয়ে। এ মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয় মীরসরাই উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তাকে। তিনি তদন্ত শেষে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেন। তদন্তে ডা. সোনিয়া সামাদকে মারধরের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। এ কারণে আদালত স্বামী সার্জেন্ট ইকবাল হোসেনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

মীরসরাই উপজেলার মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার দেয়া প্রতিবেদনে দেখা যায়, মামলার বাদী সোনিয়া সামাদ ও বিবাদী সার্জেন্ট ইকবাল হোসেন উভয়েই পূর্বে বিবাহিত ছিল। বাদী-বিবাদী উভয়ই একে অপরের সম্পর্কে জেনে-শুনে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। উভয়ের সম্মতিতে চলতি বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি তারা বিয়ে করেন। বিয়ের পর সার্জেন্ট ইকবাল স্ত্রী সোনিয়া সামাদের ব্যবহৃত গাড়ি ও তার সাভারের বাড়িটি তার নামে লিখে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন এবং না দেওয়ায় মারধর করেন। বাদী বর্তমানে তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা।

মামলার বাদী ডা. সোনিয়া সামাদ বলেন, সম্পর্ক করেই চলতি বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি সার্জেন্ট ইকবাল হোসেনকে বিয়ে করেছিলাম। বিয়ের পর থেকে সে একটা দিনও আমাকে শান্তি দেয়নি। শুধু চায় আমার গাড়ি-বাড়ি লিখে দিই। একাধিকবার মারধরও করে। বিষয়টি আমি পুলিশ ডিপার্টমেন্টকে জানিয়েছি। এ কারণে তাকে বারবার বদলি করা হয়। তার মারধরে আমার প্রথম সন্তান নষ্ট হয়েছে।

তিনি বলেন, এখন আমি পুনরায় তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এ সন্তানকেও সে নষ্ট করার চেষ্টা করেছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে প্রথমে জোরারগঞ্জ থানায় গিয়েছিলাম। থানা মামলা নেয়নি। এ কারণে ২৬ আগস্ট তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করি। মামলা তুলে নিতে পুলিশের বিভিন্ন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে দিয়ে আমাকে হুমকি-ধমকি দিয়ে যাচ্ছে। হুমকির কারণে নিরাপত্তা চেয়ে মামলাও দায়ের করেছি।

যুগান্তর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *