ডেঙ্গু প্রতিরোধে যথেষ্ট প্রচার করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল হাই। তিনি বলেছেন, ‘জনগণ এখন জানে কেন ডেঙ্গু হয় এবং কীভাবে প্রতিরোধ করতে হয়। এরপরও যদি কেউ সচেতন না হন তাহলে আইন অনুযায়ী জেল-জরিমানা করা হবে।’
রবিবার (৪ জানুয়ারি) গুলশানে ডিএনসিসির’র কার্যালয়ে কিউলেক্স ও এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে করণীয় নিয়ে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
আবদুল হাই বলেন, ‘ভালোবাসা দেওয়ার দিন শেষ। প্রয়োজনে আইন প্রয়োগ করে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে রাখা হবে। মশা নিয়ন্ত্রণে মাঠ পর্যায়ে যারা নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন তাদেরকে ধন্যবাদ জানাই।’
ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোমিনুর রহমান মামুন বলেন, মশক নিয়ন্ত্রণে ইতিমধ্যে ডিএনসিসির রিসোর্স বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া সার্বক্ষণিক কীটতত্ত্ববিদদের কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে সে অনুযায়ী কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। কিউলেক্স মশা নির্মূলে গবেষণা করে সম্ভাব্য প্রজননক্ষেত্র (হটস্পট) চিহ্নিত করে সেগুলো ধ্বংস করা হয়েছে। বাড়ি বাড়ি চিরুনি অভিযান অব্যাহত থাকবে। ডেঙ্গুর কারণে যাতে আর কোনও প্রাণহানি না ঘটে সেজন্য ডিএনসিসি সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
কীটতত্ববিদ ড. মঞ্জুর আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘এটা মনে করাটা ভুল হবে যে,গত বছর ডেঙ্গুর পাদুর্ভাব বেশি ছিল। এবছর কমে যাবে। আমাদেরকে সারা বছর কাজ করতে হবে। এখন থেকে প্রস্তুত হতে হবে। সামাজিক সংগঠনগুলোকে মশা নিয়ন্ত্রণে আরও বেশি করে সম্পৃক্ত করতে হবে।’
রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদা সাবরিনা ফ্লোরা বলেন, ‘ডেঙ্গুর কারণে গতবছর আমরা অনেক সাফার করেছি। আবার আমরাই সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ করেছি। মশার বংশ বিস্তার নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি আধুনিক ও কার্যকরী বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দিকে মনোযোগী হতে হবে।’
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কবিরুল বাশার বলেন, ‘শুধু ফগিং করে কাজ হবে না।, ইন্টিগ্রেটেড ভেক্টর ম্যানেজমেন্ট (আইভিএম) করতে হবে। গত বছরের বিভিন্ন ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদের এগুতে হবে।’
মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে ওয়ার্ড কাউন্সিলর শফিউল্লাহ, স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাপক ডা. সানিয়া তহমিনা, কীটতত্ববিদ ডা. সাইফুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।