ডাঃ আমির আজম : মনটা ছুঁয়ে গেল। এত সুন্দর একটা ভিডিও। মানুষ এত ভাল হতে পারে কিভাবে?
বলছি ডাক্তার ভাইয়ের কথা। ‘ডাক্তার ভাই’ এখন নাই। তার জায়গায় আরেক ভাই এসেছেন। সাথে এনেছেন এক ডাক্তার আপুকেও। আরো এনেছেন কিছু ভাতিজা ভাতিজিও।
.
ইত্যাদিকে ধন্যবাদ তাদের কথা প্রচারের জন্য এবং তাদের হাতে দুই লাখ টাকা দেয়ার জন্য।
.
কিছু প্রশ্নের উত্তর জানতে ইচ্ছা করছিল, যেগুলা ভিডিও দেখার পর মনে উদয় হয়েছিল, কিন্তু পুরো ভিডিওর কোথাও উত্তর ছিল না।
১. তারা কি রোগীদের কাছ থেকে কোন ভিজিট রাখেন কি না? না রাখলে ভাল। রাখলে সেটা কত?
২. তারা কি শুধুই রোগী দেখেন? নাকি রোগী দেখার পাশাপাশি ঔষধপত্র কিছু দেন।
৩. সেখানে কি কোন ধরণের অপারেশন হয়? হলে কি ধরণের অপারেশন হয়?
৪. ডাক্তার ভাই, আপু আর ভাতিজা ভাতিজিরা চলেন কিভাবে? আই মিন তাদের পেট চলে কিভাবে? তাদের দৈনন্দিন জীবিকা মিটানোর জন্যে যে অর্থ দরকার সেটার উৎস কী?
৫. বিএমডিসির অনুমোদন আছে কি না? না থাকলে তাদের কাজটা অবৈধ হবে।
এবার ঘটনার পেছনের ঘটনা বলি।
এটা একটা মিশনারী হাসপাতাল। কিছু মিশন এবং ভিশন নিয়ে তারা এদেশে এসেছে। খালি চোখে হয়তো দেখছেন ডাক্তার সাহেব ফ্রি রোগী দেখতেছে। কিন্তু তার ব্যাংক ব্যালেন্সের খোঁজ নিয়ে দেখেন। তাদের গোড়ায় গিয়ে দেখেন। তাদের ভিত্তি কতটা মজবুত।
এই কাজ করার জন্যে, ফ্যামিলিসহ জীবন উৎসর্গ করার জন্যে তাদের কোন প্রতিষ্ঠান কত করে স্যালারি দিচ্ছে? আপনি আমি হয়তো টাকা দিচ্ছি না, কিন্তু অনেক শক্তিশালী খুঁটি তাদের পেছনে লাগানো আছে।
তারা যদি কোন ঔষধ বিতরণ করে, সেগুলাকে সাপ্লাই করছে? কোথা থেকে আসছে? জানাটা দরকার কি না?
এবার দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোর দিকে তাকাই-
১. ১০ টাকা টিকেট, উপজেলায় ৫ টাকা, অনেক উপজেলায় একদম ফ্রি টিকেট কেটে ডাক্তার দেখানো যায়, দেখানোর পরে ওষুধ যেগুলা সাপ্লাই থাকে ফ্রি পাওয়া যায়।
কয়জন জানি? প্রচার করি?
২. ৫০ টাকায় টিকেট কেটে, উপজেলায় ২০ টাকায়, হাসপাতালে ভর্তি হয়ে ফ্রি ডাক্তার, সাপ্লাইয়ের ঔষধ ফ্রি,সকালের নাস্তা ( রুটি, ডিম সেদ্ধ ১ টা, কলা), দুপুরের খাবার, রাতের খাবার, (ভাত, তরকারি, খিচুরি) পাওয়া যায়। আশ্চর্যের বিষয় হলো যতোদিন ভর্তি থাকবে ততোদিন পাবে। কোন মিডিয়ায় কখনো দেখাইছিল। ইত্যাদি, হানিফ সংকেত এনারা কি এই বিষয়টা জানেন?
৩. যত জটিল অপারেশন হোক, অপারেশনের জন্যে কোন ফি দেয়া লাগে না সরকারি হাসপাতাল গুলোতে। যেসব ঔষধ সাপ্লাই থাকে না শুধু সেগুলাই কেনা লাগে। টেলিভিশন চ্যানেল, পেপার পত্রিকায় কখনো এসব প্রচার হয়?
৪. নাম মাত্র মূল্যে সকল ধরণের টেস্ট হাসপাতালগুলোতে হয়। বাইরের তুলনায় হয়তো ১০ ভাগের ১ ভাগ মূল্যে। কিন্তু জানি না আমরা? জানলেও খুঁজে পাই না।
…………
দিন শেষে দেশ এবং সরকারের এসব অবদান বিফলে যায় প্রচারের অভাবের কারণে। আর সিস্টেম লসের কারণে। যেমন :
১. টিকেট অল্প মূল্যে পেলেও ডাক্তারের রুম দেখায় দেয়া এবং বিশাল লম্বা লাইন এড়িয়ে আগে দেখাতে গেলে খরচ হয়ে যায় ২০০-৩০০ টাকা।
২. ২০ অথবা ৫০ টাকায় ভর্তি হলেও, ওয়ার্ড দেখায় দেয়া বা রোগীকে ওয়ার্ডে নিয়ে যেতেই খরচ হয়ে যায় ৪০০-৫০০ টাকা।
৩. অপারেশন বিনামূল্যে হলেও রোগীকে অপারেশন রুম থেকে ওয়ার্ডে নিয়ে আসার জন্যে গুনতে হয় ১০০০-১৫০০ টাকা।
৪. নরমাল ডেলিভারি বা সিজারের জন্যে কোন টাকা খরচ না হলেও বাচ্চাকে কোলে নিতে বের হয়ে যায় ১৫০০-২০০০ টাকা।
৫. স্বল্প মূলে টেস্ট হলেও টেস্ট করতে যেতে এবং আসতে দিতে হয় ৪০০-৫০০ টাকা। আর অধিকাংশ সময় দরকারি মেশিনগুলো নষ্ট হয়ে পড়ে থাকে অজানা এক কারণে। কবে ঠিক হবে সেটাও অজানা।
৬. আর সব থেকে বড় অভাব আন্তরিকতার। কেউ হাসি মুখে কিছু বলে না। বিদেশি ডাক্তার ভাইয়েরা সাধারণ ভাবে চলাফেরা করলেও আমাদের ভাব থাকতে হয় প্রচুর। ডাক্তারদের ভাব একটু মেনে নিলেও চুনুপুটিদের ভাব দেখে সহ্য করা কঠিন হয়ে যায়। তাই দিন শেষে সব অবদান মলিন হয়ে সাধারণ মানুষের ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি অবস্থা হয়ে যায়।
.
আমরা যদি দেশের যেসকল সুযোগ-সুবিধা আছে, সেগুলোর সঠিকভাবে প্রচার করতে পারি আর সিস্টেমটার একটু পরিবর্তন করতে পারি, তাহলে বিদেশ থেকে আমদানি করা, আলগা পিরিত দেখানো এসব ভাই-আপুদের কোন দরকার আছে বলে মনে হয় না।
.
প্রিয় ইত্যাদি কি জানে দেশে কত হাজার হাজার মানুষ টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছে না? তারা কি কোনদিন কোন সরকারি হাসপাতালে গিয়ে ধুকতে থাকা কোন গরিবের হাতে ২০ টাকা দিয়েছিল? আর তারা হুট করে কিছু বিদেশীর হাতে ২ লাখ টাকা দিয়ে দিল। আর আমরাও আবেগের ঠেলায় চোখের পানি নাকের পানি সব এক করে দিলাম!