রংপুর মেডিকেল কলেজে (রমেক) যন্ত্রপাতি কেনায় ৪ কোটি ৪৮ লাখ ৮৯ হাজার ৩০০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়েরকৃত মামলায় সাবেক অধ্যক্ষ ডা. নূর ইসলামের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণ করেছে আদালত।
মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) দুপুরে আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে রংপুর জেলা ও সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বেগম রাশেদা সুলতানা জামিন আবদেন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
বৃহস্পতিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সংস্থাটির রংপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলাটি করেন উপসহকারী পরিচালক মো. ফেরদৌস রহমান।
দুদকের আইনজীবী পিপি হারুন-উর রশীদ গণমাধ্যমকে জানান, রংপুর মেডিকেল কলেজে যন্ত্রপাতি কেনাকাটায় টাকা আত্মসাতের অভিযোগে কলেজের অধ্যক্ষ ডা. নূর ইসলামসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে গত ১২ সেপ্টেম্বর মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় রংপুরে মামলাটি করেন দুদক প্রধান কার্যালয়ের উপ-সহকারী পরিচালক ফেরদৌস রহমান।
জানা গেছে, এ মামলায় রমেক অধ্যক্ষ মো. নূর ইসলাম ছাড়াও আসামি করা হয়েছে সহকারী অধ্যাপক সারোয়াত হোসেন, বেঙ্গল সায়েন্টিফিক অ্যান্ড সার্জিক্যাল কোম্পানির মালিক জাহের উদ্দিন সরকার, তাঁর বাবা ও মার্কেন্টাইল ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের মালিক আবদুস সাত্তার সরকার, ছেলে আহসান হাবীব এবং ভগ্নিপতি ও ইউনিভার্সেল ট্রেড করপোরেশনের মালিক আসাদুর রহমানকে।
মামলার এজাহারে বলা হয়, রমেকে ভারী যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামের প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়াই সেসব কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। অধ্যক্ষ নূর ইসলাম বিধিবহির্ভূতভাবে বিভিন্ন কমিটি গঠন করেন। যথাযথ চাহিদাপত্র ও নমুনা ছাড়াই দরপত্র আহ্বান করেন এবং পছন্দের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স বেঙ্গল সায়েন্টিফিক অ্যান্ড সার্জিক্যাল কোম্পানিকে কার্যাদেশ দেন। ২০১৮ সালের ২১ জুন দরপত্র মূল্যায়ন করে একই তারিখে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে নোটিফিকেশন অব অ্যাওয়ার্ড দেন এবং চুক্তিপত্র স্বাক্ষর করেন। ২৩ জুন কার্যাদেশ দেন। যন্ত্রপাতি সরবরাহ না করলেও কার্যাদেশ পাওয়ার পঞ্চম দিনেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিল জমা দেয়, যা অধ্যক্ষ ওই দিনই পাস করেন। প্রশাসনিক মঞ্জুরি পাওয়ার আগেই জেলা হিসাবরক্ষণ অফিসে পাঠিয়ে দেন। এভাবে মেসার্স বেঙ্গল সায়েন্টিফিক অ্যান্ড সার্জিক্যাল কোম্পানির মালিক জাহের উদ্দিন সরকারকে সরকারের ৪ কোটি ৪৮ লাখ ৮৯ হাজার ৩০০ টাকা আত্মসাতে সহায়তা করেন।
দরপত্রে অংশগ্রহণকারী ও দরপ্রস্তাব দাখিলকারী মেসার্স বেঙ্গল সায়েন্টিফিক অ্যান্ড সার্জিক্যাল কোম্পানির মালিক জাহের উদ্দিন সরকার, মার্কেন্টাইল ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের মালিক আবদুস সাত্তার সরকার (জাহের উদ্দিনের বাবা) ও আহসান হাবীব (জাহের উদ্দিনের ছেলে) এবং ইউনিভার্সেল ট্রেড করপোরেশনের মালিক আসাদুর রহমান (জাহের উদ্দিনের ভগ্নিপতি) পরিচয় গোপন করে পরস্পর যোগসাজশে সাজানো দরপত্র জমা দেন। এরপর কার্যাদেশ পেয়ে শর্ত অনুযায়ী যন্ত্রপাতি সরবরাহ না করে অপ্রয়োজনীয় ও নিম্নমানের ব্যবহারের অনুপযোগী যন্ত্রপাতি সরবরাহ করে সরকারের ৪ কোটি ৪৮ লাখ ৮৯ হাজার ৩০০ টাকা আত্মসাৎ করেন।