স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, মুজিববর্ষে দেশের সব মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও জেলা হাসপাতাল ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার (সিসি ক্যামেরা) আওতায় আনা হবে। যাতে হাসপাতালের চিকিৎসক-কর্মচারীরা যার যার কাজ ঠিকমতো করছে কিনা সেটি প্রত্যক্ষ করা যায়।

রোববার রাজধানীর ওয়েস্টিন হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘ওয়ার্ল্ড ভিশন রিপোর্ট’-এর প্রকাশ উপলক্ষে বাংলাদেশ ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর দি ব্লাইন্ড এবং স্বাস্থ্য অধিদফতরের ন্যাশনাল আই কেয়ার এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

জাহিদ মালেক বলেন, মানবদেহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ চোখ। একজন মানুষের দৃষ্টিশক্তি না থাকলে তার আর কিছুই থাকে না। তার জীবন স্থবির হয়ে পড়ে। দেশে এখনও ৬ থেকে ৭ লাখ মানুষ অন্ধত্ব নিয়ে জীবন ধারণ করছে। যাদের ৮০ ভাগই গ্রামে বাস করে। শিশুদের মধ্যে এই হার অনেক বেশি হলেও আগের তুলনায় কমে এসেছে। আগে দেশের ৪ শতাংশের বেশি শিশু রাতকানা রোগে আক্রান্ত ছিল, বর্তমানে সেটি ১ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। এক্ষেত্রে ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

তিনি বলেন, দেশে চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞের অভাব রয়েছে। আরও বেশি করে বিশেষজ্ঞ চক্ষু চিকিৎসক তৈরি করতে হবে। যাতে বেশি বেশি ক্যাটারেক্ট (ছানি) অপারেশন করা যায়। তাহলে দেশে ক্যাটারেক্টজনিত অন্ধত্ব শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা সম্ভব হবে। প্রত্যেক জেলায় চক্ষু বিশেষজ্ঞ যেন থাকে সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি দেশের প্রতিটি উপজেলায় ভিশন সেন্টার করতে সংশ্লিষ্টদের পরামর্শ দেন তিনি।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের ন্যাশনাল আই কেয়ারের লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক ডা. গোলাম মোস্তফার সঞ্চালনায় এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর প্রাক্তন উপদেষ্টা কমিউনিটি ক্লিনিক ট্রাস্টের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম, অধিদফতরের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ, চিকিৎসা শিক্ষা বিভাগের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এএইচএম এনায়েত হোসেন, বিএমএ’র প্রাক্তন মহাসচিব অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ, স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রাক্তন মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. দীন মোহাম্মদ নুরুল হক, বিশিষ্ট সাংবাদিক নাইমুল ইসলাম খান প্রমুখ।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে ‘ওয়ার্ল্ড ভিশন রিপোর্ট’-এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়। এছাড়া কেক কেটে এটি উদযাপন করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *