দেশে প্রাপ্তবয়স্ক প্রতি চারজনের মধ্যে একজন উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন। এ ক্ষেত্রে পুরুষের মধ্যে ২০১১ সালে যে হার ছিল ১৯ শতাংশ তা ২০১৭ সালে উঠে আসে ৩৪ শতাংশে। নারীদের ক্ষেত্রে তা ৩২ শতাংশ থেকে বেড়ে দাঁড়ায় ৪৫ শতাংশে। আবার গ্রামের তুলনায় শহরে এর মাত্রা বেশি। এমন চিত্র পাওয়া গেছে ১৮ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে। এ ক্ষেত্রে ১৮ থেকে ৩৫ বছর ও ৩৫ বছরের বেশি বয়সের নারী-পুরুষের মধ্যে ওই রোগের প্রকোপে তারতম্য রয়েছে।
হাইপারটেনশন ও ডায়াবেটিসের পরিস্থিতি দেখতে গিয়ে এমন চিত্র পেয়েছেন নিপোর্ট, আইসিডিডিআরবি, ইউএসআইডি, ডাটা ফর ইমপ্যাক্টসহ আরো কয়েকটি সংস্থার গবেষকরা। গতকাল মঙ্গলবার আইসিডিডিআরবিতে এক অবহিতকরণ সভায় ওই প্রতিবেদনের তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদন অনুসারে, ৩৫ বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সী নারীদের মধ্যে শহরে ৪৮ ও গ্রামে ৪৩ শতাংশের হাইপারটেনশন রয়েছে। পুরুষের মধ্যে তা শহরে ৩৮ ও গ্রামে ৩৩ শতাংশ। অন্যদিকে ১৮ বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সী নারীদের মধ্যে শহরে ২৯ ও গ্রামে ২৮ এবং পুরুষের শহরে ২৮ ও গ্রামে ২৬ শতাংশ প্রবণতা দেখা গেছে।
২০১৭-১৮ সালে দৈবচয়ন পদ্ধতিতে এক সার্ভের মাধ্যমে সাত হাজার ৪২৯ জন পুরুষ ও পাঁচ হাজার ৭০০ নারীর উচ্চ রক্তচাপ এবং ছয় হাজার ৯৯৭ জন নারী ও পাঁচ হাজার ২৯৯ জন পুরুষের ডায়াবেটিস পরীক্ষায় এই তথ্য উঠে আসে।
আইসিডিডিআরবির জ্যেষ্ঠ পরিচালক (মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য) শামস এল আরেফিন বলেন, শিশু থেকে সব বয়সের মানুষের মধ্যেই ডায়াবেটিসের প্রবণতা দেখা যায়। পাশাপাশি শিশুদের জন্য ভবিষ্যৎ ঝুঁকি খুব বেশি।
আইসিডিডিআরবির অসংক্রামক রোগ বিষয়ক পরামর্শক ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক ডা. খালেদা ইসলাম বলেন, ডায়াবেটিস ও হাইপারটেনশন প্রতিরোধে ব্যক্তিসচেনতা বাড়ানোর পাশাপাশি সরকারের তরফ থেকে মাঠপর্যায়ে নানা উদ্যোগ নিতে হবে।
ইউএসএআইডির পরামর্শক ড. কান্তা জামিল জানান, ২০১১ সালে যেখানে দেশে হাইপারটেশনে আক্রান্ত ছিলেন ৩৫ ঊর্ধ্ব বয়সের এক কোটি ২০ লাখ মানুষ, সেখানে ২০১৭ সালে তা দাঁড়ায় দুই কোটি ৩০ লাখে। অন্যদিকে ২০১১ সালে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ছিল ৫০ লাখ মানুষ, যা ২০১৭ সালে উঠে যায় ৮০ লাখে।
সভায় আরো নানা তথ্য উপস্থাপনা করেন ডাটা ফর ইমপ্যাক্টের সুস্মিতা খান ও আইসিডিডিআরবির গবেষক ডা. আফরিন ইকবাল।