ডা. মো. আসাফুজ্জোহা রাজ : নারীদের জীবদ্দশায় বিশেষ পাঁচটি সময়ে শরীরে হরমোনের তারতম্যের জন্য মুখগহ্বরে নানা উপসর্গ দেখা দিতে পারে। আর তাই নারীদের এ সময়গুলোতে মুখের যত্নে অধিকতর সচেতন থাকার বিষয়ে পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। তা না হলে স্বাভাবিক ও ক্ষণস্থায়ী পরিবর্তন নানা অপূরণীয় ক্ষতির কারণ হতে পারে।

পর্যায় ১, বয়ঃসন্ধিকাল

ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরনে অধিকতর কারণে মাড়িতে রক্তপ্রবাহ বেশি থাকে। তাই সামান্য কিছুতেই মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়তে পারে, মাড়ি ফুলে যেতে পারে, মুখে দুর্গন্ধ হতে পারে, ডেন্টাল ক্যারিজের প্রবণতাও বাড়তে পারে।

পর্যায় ২, মেনস্ট্রুয়েশন সময়কাল

মাসের বিশেষ দিনগুলোতে রক্তে প্রোজেস্টেরন হরমোনের আধিক্যের জন্য মাড়ি উজ্জ্বল দেখায় এবং ফুলে যায়। মাড়িতে এপথাস আলসারসহ কিছু ঘা বা ক্ষত হতে পারে, লালাগ্রন্থি ফুলে যেতে পারে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে মাসিকের দুই থেকে তিন দিন আগে উপসর্গগুলো শুরু হলেও ক্ষণস্থায়ী হয়।

পর্যায় ৩, জন্মনিয়ন্ত্রক ওষুধ সেবনকাল

প্রোজেস্টেরন সম্পর্কীয় ওষুধে মাড়িতে নানা ধরনের প্রদাহ দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে ওষুধ গ্রহণের প্রথম কয়েক মাস। ইস্ট্রোজেন সম্পর্কীয় ওষুধ শরীরে প্রাকৃতিক ইস্ট্রোজেন কমিয়ে কৃত্রিম ইস্ট্রোজেন বাড়িয়ে দেয়। ফলে মুখের একমাত্র নড়াচড়াক্ষম জয়েন্ট, টেম্পোরোম্যান্ডিবুলার জয়েন্টে নানা সমস্যার কারণে মুখ খুলতে, খাবার চিবাতে এমনকি মুখ নাড়াচাড়া করতে কষ্ট হতে পারে।

পর্যায় ৪, গর্ভকাল

গর্ভাবস্থায় হরমোনের ব্যাপক তারতম্য ঘটে। বিশেষ করে প্রোজেস্টেরনের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার কারণে মুখের মধ্যকার জীবাণু সক্রিয় হয়ে ওঠে। ফলে গর্ভাবস্থার দুই থেকে আট মাসের মধ্যে দাঁতে গর্ত, দাঁত শিরশির করা, মাড়ি ফুলে গিয়ে রক্ত পড়া বা প্রেগনেন্সি ইপিউলিস খুব সাধারণ ঘটনা। মুখ পরিষ্কারে অনীহা বা বমি বমি ভাবের জন্য মুখগহ্বর রোগের অভয়ারণ্য হয়ে ওঠে।

পর্যায় ৫, মেনোপজকাল

বয়স্ক নারীদের মেনোপজকালে মুখে বিভিন্ন ধরনের জটিলতা খুব সাধারণ। এর সঙ্গে আরও যোগ হয় অন্যান্য রোগে নিয়ন্ত্রণে সেবন করা ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া।

সাধারণত মুখের স্বাদ কমে যাওয়া, মুখে জ্বালাপোড়া করা, একটুতেই ঝাল অনুভূতি, ঠা-া বা গরম খাবারে অতিসংবেদনশীলতা, মুখ শুষ্ক হয়ে যাওয়া থেকে শুরু করে নানা পরিবর্তন স্পষ্ট হয় মুখে। এ সময় ক্যারিজ বা দাঁত ক্ষয়, মাড়িরোগ, চোয়ালের হাড় ক্ষয় থেকে নানা রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটতে পারে।

করণীয়

 প্রত্যেকদিন নিয়ম মেনে সকালে নাশতার পর ও রাতে ঘুমানোর আগে নরম টুথব্রাশ ও ফ্লোরাইডযুক্ত উন্নতমানের টুথপেস্ট দিয়ে মুখ পরিষ্কার, বিশেষ প্রয়োজনে জীবাণু ধ্বংসকারক মাউথ ওয়াশ ব্যবহার।

 দুই দাঁতের মধ্যবর্তী স্থানে ডেন্টাল ফ্লস দিয়ে পরিষ্কার রাখা।

 ছয় মাস পরপর অনুমোদিত ডেন্টাল চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া।

 স্বাস্থ্যবান্ধব খাবার গ্রহণ।

 গর্ভাবস্থায় চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে মুখ পরিষ্কার নিশ্চিত করা।

 মেনোপজকালে গাইনি চিকিৎসকের পরামর্শে হরমোন থেরাপি।

 শরীরের অন্যান্য রোগকে নিয়ন্ত্রণ ও দুশ্চিন্তামুক্ত থাকার চেষ্টা।

০০ প্রতিদিন সময় করে হাঁটা বা ব্যায়ামের অভ্যাস করা।

ডা. মো. আসাফুজ্জোহা রাজ

রাজ ডেন্টাল ওয়ার্ল্ড, ধানমণ্ডি-১৩

রাজ ডেন্টাল সেন্টার, কলাবাগান

সদস্য সচিব, বিএফডিএস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *