ডা. উম্মে সালমা সীমা : মাত্র ২ বছর বয়সী নিষ্পাপ শিশুকে ৪০ বছর বয়সী গৃহকর্মী কর্তৃক একের পর এক লাথি , লাথির পর ছুড়ে ফেলা সহ ভয়াবহ নির্যাতনের দৃশ্য ধরা পড়েছে সিসি ক্যামেরায়।রাজধানী ঢাকায় এ ঘটনা।
এই ভিডিও দেখে শিউরে উঠেছি আমরা সকলে। কর্মজীবি মা হিসেবে প্রচন্ডরকম আতঙ্কে ভুগছি।
এ কোন সমাজে আমরা বাস করছি। আমরা কি সকলে মানসিক রোগী হয়ে যাচ্ছি।
রাজধানী সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শিশু কিশোরী গৃহকর্মী নির্যাতিত হয়। কিছু দিন আগে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের স্পিড মাস্টার শাহাদত হোসেন তার স্ত্রী সহ শিশু গৃহকর্মীকে লোম হর্ষক নির্যাতন করে দেশবাসীকে স্তম্ভিত করেছিল। এখন সৌদী আরবে আরব শেখরা বাংলাদেশী নারী গৃহকর্মীকে নিয়ে ধর্ষণ করছে। বাপ ছেলে মিলে সবাই ধর্ষণ করছে। সে খবর পাচ্ছি মিডিয়ায়। কয়েক শ বাংলাদেশী নারীকে ধর্ষণ করে হত্যা করেছে আরব শেখরা। সেটা না হয় আরবের ঘটনা। একাত্তরে পাকিস্তানীরা যা করেছিল, সেরকমই করছে আরবরা। আমরা গরিবদেশ
বলে কিছু বলি না। আবার একাত্তরে গর্জিয়েও উঠেছিলাম। আরবরা না হয় ঐতিহাসিকভাবে বর্বর , ধর্ষণলোলুপ। সে জন্য আল্লাহ ওদের হেদায়েতের জন্য নবী রসুল পাঠিয়েছেন। তারপরও হাজার হাজার বছরে ওরা শুধরায় নি।
কিন্তু আমরা তো আরবদের মত বর্বর ছিলাম না । নারী মায়ের জাতি। সেই নারী কেমন করে ২ বছরের শিশুকে এভাবে কঠিন অত্যাচার করে। এ ঘটনা দেখে আমি সার্জারির ডাক্তার হয়েও গুমড়ে গুমড়ে কেদেছি।
মিডিয়ায় জানলাম, বাবা-মা দুজনেই চাকরি করেন। ছোট্ট শিশুটিকে রেখে যান বাসায় কাজের মহিলার কাছে। বাংলাদেশের বহু পরিবার বর্তমানে এভাবেই সংসার চালিয়ে যাচ্ছেন।

রাজধানীর শাহজাহানপুর এলাকার ইঞ্জিনিয়ার আল আমিন একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত । শিশুটির মা লুৎফুন্নাহার উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা। এই দম্পতির একমাত্র শিশু আবদুল্লাহর বয়স মাত্র দুই বছর।

স্বামী-স্ত্রী দুজনেই চাকুরি করায় শিশু আবদুল্লাহ থাকত বাসায় কাজের মহিলার কাছে। সেই বয়স্ক মহিলাই কিনা এমন নৃশংস ঘটনা ঘটাল। আমরা বিশ্বাস করব কাকে!
মিডিয়ায় জানলাম, কিছুদিন ধরেই সন্তানকে দেখে এমনই কিছু একটা আশংকা হয়েছিল বাবার। যে কারণে তিনি দ্রুত নিজের বাসায় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করেন।ঘরের দৃশ্য তিনি নিজের স্মার্টফোনেই লাইভ দেখতে পারতেন। যে কারণে নিজের সন্তান আবদুল্লাহ চোখে চোখেই থাকত। কিন্ত এমন ঘটবে কে ভেবেছিল। আমাদের সন্তানরা কত অনিরাপদ। এটা কি একান্নবর্তী ফেমিলি ভাঙার কুফল। আবার ঢাকায় চাইলেই একান্নবর্তী পরিবার প্রতিষ্ঠা কি সম্ভব।

অবশেষে এল ১৪ নভেম্বর ২০১৯! অফিসে বসে ভয়ংকর এক দৃশ্য চোখে পড়ল আল আমিন সরকারের। সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়ে কাজের মেয়ে দ্বারা সন্তানকে নির্যাতনের দৃশ্য! বাথরুম থেকে ঘরের ভেতর ছুড়ে ফেলে দিয়ে ওইটুকু শিশুকে একের পর এক লাথি মারতে থাকে সেই গৃহকর্মী! অতঃপর ক্রন্দনরত শিশুকে সেভাবে ফেলে দিয়েই আবারও নিজের কাজে মন দেয় সে।
সঙ্গে সঙ্গেই বাবা ছোটে বাসায়। গৃহকর্মীর হাত থেকে উদ্ধার করেন নিজের সন্তানকে।
১৫ নভেম্বর রাত সোয়া ৯টার দিকে শাহজাহানপুর থানায় শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন আমিন । অভিযুক্ত গৃহকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

কথা হল আমাদের নাগরিক জীবন কত বিভৎস বিকৃত হয়ে উঠেছে দিন দিন। সিসিটিভি লাগিয়ে , মামলা করে কি এই নাগরিক অভিশাপ থেকে মুক্তি সম্ভব!
অনেক ননসেন্স হয়তো বলবে, দুজনার চাকুরি করার দরকার কি। অনেক ছাগলকে এধরণের প্রশ্ন করতে দেখি।
ওই ছাগলদের কথায় যাচ্ছি না। ছাগল সব সময় ছাগলই থেকে যাবে। আমাদের কাজ আমাদের করে যেতে হবে।
আমার মনে হয়, এই গৃহকর্মী মানসিকভাবে সুস্থ নন। কাকে বাসায় নিয়োগ দিচ্ছি সেটা দেখা দরকার।
আর সবচেয়ে বড় কথা, আমরা কষ্ট করে হলেও বাসায় যেন নিজেদের মা বাবা আপন ভাইবোনদের ঠাঁই দেই। তাতে গৃহ নিরাপত্তা বাড়বে বই কমবে না।

ডা. উম্মে সালমা সীমা ।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ প্রাক্তন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *