চিকিৎসকদের সঙ্গে বিরোধের জের ধরে পাকিস্তানের লাহোরে একটি হাসপাতালে তাণ্ডব চালিয়েছে শতাধিক আইনজীবী। এক আইনজীবীকে পিটানোর অভিযোগে ওই আইনজীবীরা বুধবার হাসপাতালে চড়াও হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

গোলযোগের মধ্যে বয়স্ক এক রোগীসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

লাহোরের পুলিশ প্রধান জুলফিকার হামিদ জানান, বিক্ষুব্ধরা হৃদরোগ হাসপাতালের জানালা, দরজাসহ যন্ত্রপাতি ভাঙচুর করেছে। কয়েকটি গাড়িতেও আগুন ধরিয়ে দেয়।

হাসপাতালের এক চিকিৎসক জানান, বিক্ষোভকারীদের কেউ কেউ ছুড়েছে গুলিও। তারা পুলিশের দিকে ইট-পাথর ছুড়ে মারে। কয়েকঘণ্টা ধরে বিপর্যয়কর পরিস্থিতি বিরাজ করেছে। এ পরিস্থিতিতে ৭০ বছরের এক নারী রোগীসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।

তবে সহিংসতায় কমপক্ষে ১২ জন রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছে ইয়ং ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন (ওয়াইডিএ)।

হাসপাতালে অনেক রোগীই কয়েকঘণ্টা ধরে আসতে পারেনি। তাদের তাণ্ডবে ডাক্তার, নার্সরা ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটের রোগীদেরকে রেখেও পালাতে বাধ্য হয়েছে।

পুলিশ পরে টিয়ারগ্যাস ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় কয়েকজন আইনজীবীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আইনজীবীদের এই ফুঁসে ওঠার কারণ ব্যাখ্যা করে লাহোরের এক সরকারি কর্মকর্তা বলেন, এক আইনজীবী হাসপাতালে রোগীদের লাইনে দাঁড়াতে অস্বীকৃতি জানালে চিকিৎসকদের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে তাদের সঙ্গে ওই আইনজীবীর ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটে। এতে আইনজীবীরা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। মোবাইল ফোনে তোলা ওই মারধরের ভিডিও চিকিৎসকরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিলে ক্ষোভ আরো চরমে উঠেছে।

প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের কার্যালয় ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। হাসপাতালে আক্রমণের বিষয়টি লজ্জার বলে মন্তব্য করেছেন ইমরানের মুখপাত্র নাদিম আফজাল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *