DR. Mohd.Mosharraf Hossain Khandaker : MRCP part 1 এবং part2 written নিয়ে লিখেছিলাম, সেটারই ধারাবাহিকতায় এই লেখা।
PACES অর্থ Practical Assessment of Clinical Examination Skills। বেশিরভাগ পরীক্ষার্থীই PACES পরীক্ষা সব শেষে দিয়ে থাকলেও কেউ ইচ্ছা করলেই part2 written exam এর আগেই এই পরীক্ষা দিতে পারেন, যদিও সেটা অনেকেই রিকমেন্ড করেন না, কারন part2 written exam এর প্রস্তুতির সময় আপনার যে ক্লিনিক্যাল নলেজ তৈরী হবে সেটা PACES পরীক্ষার সময় কাজে লাগে। সুতরাং এক অর্থে এটাই MRCP(UK) EXAM এর শেষ ধাপ।
কতবার দিতে পারবেন PACES?– আপনাকে MRCP part 1 পাশ করার ৭ বছরের মধ্যে PACES পাস করতে হবে এবং এর মধ্যে আপনি সর্বোচ্চ ৬ বার পরীক্ষায় বসতে পারবেন। বিশেষ ক্ষেত্রে আপনি যুক্তিযুক্ত কারন দেখিয়ে এবং আপনার প্রপোজারের রিকমেন্ডেশন লেটার সহ অতিরিক্তি আর একবার পরীক্ষার জন্য আবেদন করতে পারেন। তবে এরকম ঘটনা কমই ঘটে। আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, যারা লেগে থাকে,তাদের বেশিরভাগই প্রথম, দ্বিতীয় কিংবা তৃতীয় প্রচেষ্টাতেই পাস করে যায়।
পরীক্ষার ফরম্যাট কি?—পরীক্ষাতে ৫ টা স্টেশনে পরীক্ষা হয়, এর মধ্যে যে কোন স্টেশন থেকেই আপনার পরীক্ষা শুরু হতে পারে। প্রতিটা স্টেশনের জন্য ২০ মিনিট করে বরাদ্দ এবং দুই স্টেশনের মাঝে ৫ মিনিটের ব্রেক থাকে, অর্থাৎ টোটাল পরীক্ষার টাইম ১২৫ মিনিট। স্টেশন ১,৩,৫ এ আবার ১০ মিনিট করে দুইটা পেশেন্ট এনকাউন্টার থাকে। সব মিলিয়ে মোট ৮ টা পেশেন্ট এনকাউন্টার। প্রতিটা স্টেশনে ২ জন করে ৫টা স্টেশনে মোট ১০ জন এক্সামিনার থাকেন। ১০ জন এক্সামিনার ইন্ডিপেন্ডেন্টলি মার্কিং করার কারনে পরীক্ষা বায়াসলেস। ধরুন একটা স্টেশনে আপনি খুব ভাল কিংবা খারাপ করলেন, কিন্তু তার কোন ইফেক্ট পরের স্টেশনে পড়বে না, কারন তারা আপনার আগের স্টেশনের কোন খবর জানেন না। আরো ডিটেইলস জানার জন্য এই লিংক এ দেখতে পারেন– https://www.mrcpuk.org/mrcpuk-ex…/…/paces-examination-format
কিভাবে এপ্লিকেশন করবেন?— PACES এর এপ্লিকেশন অনলাইনেই করা যায় এবং সেটাই সবচেয়ে সহজ উপায়। যদিও পরীক্ষার আগে অন্তত ২ বছরের ট্রেনিং রিকমেন্ডেশন করে যেটা UK এর FY1, FY2 এবং CMT (CORE MEDICAL MEDICAL TRAINIG) এর ইকুইভ্যালেন্ট। অনেকেই প্রশ্ন করেন পরীক্ষার এপ্লিকেশনের সময় কোন ট্রেনিং সার্টিফিকেট জমা দিতে হয় কিনা। উত্তর হল, না, জমা দিতে হয় না। তবে আপনার এপ্লিকেশনে আপনি যার অধীনে রিসেন্টলি কাজ করেছেন তার নাম প্রপোজার হিসবে দিতে হবে। এপ্লিকেশন সাবমিট করার সময় আপনাকে পেমেন্ট করতে হবে না। আপনার এপ্লিকেশন এক্সেপ্টেড হলে তারা আপনাকে পেমেন্টের লিংক পাঠিয়ে ই-মেইল করবে সেখান থেকে আপনি পেমেন্ট করবেন, অথবা আপনার mymrcp accunt এ লগ-ইন করেও আপনি পেমেন্ট এর অপশন পাবেন। পেমেন্ট হয়ে গেলেই ওরা আপনাকে সিট কনফার্ম করে পরীক্ষার তারিখ, ভেনু সব জানিয়ে ই-মেইল করবে। আপনার যদি কোন নির্দিষ্ট তারিখের মধ্যে পরীক্ষা দেওয়ার প্রয়োজন হয় তাহলে সেটা এপ্লিকেশন করার সময় উল্লেখ করে দিতে পারেন, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, তারা আপনার রিকুয়েস্ট রাখার চেষ্টা করবে (এটা মূলত UK সেন্টারগুলোর জন্য, কারন সেখানে প্রায় ৩ মাস ধরে পরীক্ষা চলে)।
কোন সেন্টারে পরীক্ষা দিবেন?—ইন্টারন্যাশনাল কিংবা UK, যে কোন সেন্টারেই পরীক্ষা দিতে পারেন। ইন্টারন্যাশনাল সেন্টারগুলোতে সিট কম থাকে এবং অনেক ক্যান্ডিডেট থাকায় সিট পাওয়া কঠিন, ফলে অনেকেই UK গিয়ে পরীক্ষা দিয়ে আসেন। UK তে পরীক্ষার ফি বাইরের থেকে প্রায় অর্ধেক। কম বেশি পরীক্ষার কেস গুলো প্রায় একই রকম থাকলেও, রিজিয়ন ভেদে কিছুটা তারতম্য হতে পারে। যেমন-ইন্ডিয়াতে টিউবারকুলোসিস কেস, মিডল ইস্টে সিকল সেল ডিসঅর্ডার কেস প্রায়ই থাকে, যেগুলো আবার ইউকে তে কম পাবেন। তাছাড়া সব জায়গায় পরীক্ষার ধরন একই। UK সেন্টার গুলোতে সবাই বৃটিশ এক্সামিনার থাকেন, আর বাইরের সেন্টারগুলোতে প্রতিটা স্টেশনে সাধারনত একজন বৃটিশ এবং একজন লোকাল এক্সামিনার থাকেন।
কিভাবে প্রস্তুতি নিবেন?- স্টেশন ২(হিস্টরি টেকিং স্টেশন) এবং স্টেশন ৪ (কমুনিকেশন এবং এথিক্স) এর প্রস্তুতি আপনি শুধু বই পড়ে এবং অন্য ক্যান্ডিডেট দের সাথে প্র্যাক্টিস করেই নিতে পারেন। একজন সিরিয়াস স্টাডি পার্টনার থাকলে সবচেয়ে ভাল হয়। এক্ষেত্রে আপনি Ryder এর An Aid to the MRCP PACES সিরিজের বইগুলোর সাহায্য নিতে পারেন। প্রতিটা কেস ধরে পার্টনারের সাথে প্র্যাকটিস করতে পারেন। স্টেশন ৫ ও আপনি অনেকটাই এভাবে প্রিপারেশন নিতে পারেন।
স্টেশন ১ এবং ৩ এর ক্ষেত্রে কমন কেস যেগুলো সাধারনত থাকে, সেসব কেস দেখে নিজ হাতে এক্সামিনেশন করার কোন বিকল্প নেই। টারশিয়ারী লেভেলের হাসপাতাল গুলোতে অনেক কেসই পাবেন, তারপরেও কিছু কিছু কেস দেখার জন্য সবচেয়ে ভাল হয় পরীক্ষার আগে কোন কোর্স করার। একটা উদাহরন দেই, UK তে আমার পরীক্ষায় station 5 এ একটা কেস ছিল pseudoxanthoma elasticum। তো আমি এই কেস আগে কখনও দেখিনাই, কিন্তু অনেক ছবি দেখেছি। পেশেন্টের হিস্টরি ছিল ভিজুয়াল প্রবলেম। অনেকক্ষন পর্যন্তই আমি বুঝতে পারিনাই কেসটা কি, কিন্তু যখন সে বলল তার স্কিন প্রবলেম আছে এবং তার দিকে তাকাতেই সব ক্লিয়ার হয়ে গেল, একেবারে typical lax skin with yellowish popular lesion. তো, এই কেস যদি আমার আগেই দেখা থাকত, তাহলে হয়ত অনেক আগেই বুঝে ফেলতাম এবং তখন patient concern এবং clinical communication এ আরো অধিক সময় ব্যয় করতে পারতাম। কোর্স করলে এধরনের কেস, যেগুলো সহজে পাওয়া যায় না, সেগুলো দেখার একটা সুযোগ হয় এবং আপনার কনফিডেন্স লেভেল বাড়ানোর জন্য বেশ উপকারী, বিশেষ করে আপনি যদি ইউকে সেন্টারে পরীক্ষা দিতে চান।
আরেকটা গুরুত্বপূর্ন বিষয় শেয়ার করি, সেটা হচ্ছে হিস্টরী এবং কমুনিকেশন স্টেশনের অনেক সিনারিও কিন্তু প্রায়ই রিপিট হয়। হয়ত ব্রুনেই সেন্টারে আগের বছরের একটা সিনারিও এই বছরের কলকাতার সেন্টারে একটু এদিক সেদিক করে দিয়ে দিতে পারে। সুতরাং শেষ ২/৩ বছরের সিনারিও গুলো জোগাড় করুন এবং প্র্যাকটিস করুন, বার বার।
কি বই পড়বেন?— PACES এর জন্য বই পড়ার চেয়ে প্র্যাকটিস করাটা গুরুত্বপূর্ন। কারন এখানে পরীক্ষায় থিওরিটিক্যাল জ্ঞান যাচাইয়ের স্কোপ নেই বললেই চলে। আপনার পরীক্ষায় যে কেস থাকবে, এক্সামিনারের প্রশ্নও হবে সেই কেস রিলেটেড। ধরুন, abdomen স্টেশনে আপনার splenomegaly কেস পড়ল । আপনাকে splenomegaly এর ১০ টা কারন জিজ্ঞাসা করবে না, করবে ঐ নির্দিষ্ট কেসের ক্ষেত্রে seplenomegaly এর কি কি কারন হতে পারে সেটা। আর স্টেশনগুলোতে এক্সামিনাররা ক্রস করার সময় পান খুব কম, সুতরাং বেশিরভগ ক্ষেত্রেই প্রশ্নগুলোও থাকে ঐ কেসের ডিফারেন্সিয়াল, ইনভেস্টিগেশন, ম্যানেজমেন্ট রিলেটেড।
প্র্যাকটিস করার সময় যেসব বই থেকে সাহায্য নিতে পারেন, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল-
১।Ryder এর An Aid to the MRCP PACES এর তিনটা ভলিউম
২।OST (Oxford Specialty Training) এর Clinical Medicine for the MRCP PSCES-volume1 and 2
৩।THE POCKETBOOK FOR PACES – RUBA BESSANT
৪।Cases for Paces- Stephen Hoole—পরীক্ষার আগে রিভিশন দেওয়ার জন্য এটা খুব কার্যকরী বই
উপরের চারটা বই ছাড়াও আব্দুল্লাহ স্যারের Short cases in CINICAL MEDICINE বইটাও বেশ কাজে দেয়।
সময় থাকলে Pastest এর MRCP PACES manual বইটাও উলটে পালটে একটু দেখতে পারেন।
Tim Hall এর PACES FOR THE MRCP বইটা একটু বেশি ডিটেইলস, না পড়াটাই ভাল।
mrcpuk এর ওয়েবসাইটে st2 এবং st4 এর বেশ কিছু scenario আছে। এগুলা দেখলে আপনার কি ধরনের scenario পরীক্ষায় থাকে, তার একটা ধারনা হবে। লিংক এইটা- https://www.mrcpuk.org/mrcpuk-examinatio…/…/sample-scenarios
এছাড়া pastest এর প্রায় ১৭০ টা ভিডিও আছে যা সবগুলো স্টেশন কাভার করে। এগুলো দেখলে বিভিন্ন কেস সম্বন্ধে একটা ভাল ধারনা তৈরি হবে। তাছাড়া কিভাবে কম সময়ে এক্সামিনেশন করা যায়, এক্সামিনেশন সিকুয়েন্সগুলো কেমন হবে সে সম্বন্ধেও ভাল ধারনা পাবেন।
মার্কিং ক্রাইটেরিয়া—PACES এর মার্কিং করা হয় বিভিন্ন স্কিলের উপর ভিত্তি করে। Physical Examination , Identifying Physical Signs, Clinical Communication, Differential Diagnosis Clinical Judgment , Managing Patient Concerns , Maintaining Patient Welfare- এই সাতটা স্কিলের উপর এক্সামিনারগন মার্কিং করেন। প্রতিটা স্কিলের টোটাল মার্ক এবং পাস মার্ক আবার ভিন্ন। যেমন Physical Examination এ টোটাল মার্ক ২৪ এবং পাস মার্ক ১৬, আবার Maintaining Patient Welfare এ টোটাল মার্ক ৩২ এবং পাস মার্ক ২৮। টোটাল ১৭২ মার্কের পরীক্ষা, পাস করার জন্য সব মিলিয়ে কমপক্ষে ১৩০ মার্ক থাকতে হবে এবং প্রতিটা স্কিলে আলাদা ভাবে পাস করতে হবে। যেমন ধরুন কেউ টোটাল ১৪০ মার্ক পেল, কিন্তু Maintaining Patient Welfare এ ২৭ পেল, সেক্ষেত্রে টোটাল মার্ক পাস মার্কের উপরে থাকলেও রেজাল্ট আসবে ফেইল। কোন স্টেশনে যদি আপনার খুব খারাপ হয়, তারপরেও অন্য স্টেশনে যদি আপনি ভাল করেন, তাহলেও আপনার পাস হয়ে যেতে পারে। st5 খুব গুরুত্বপূর্ন এইজন্য যে এখানে ৭ টা স্কিলের সব গুলোই আছে, এজন্য টোটাল ১৭২ মার্কের মধ্যে শুধু এই st5 এই রয়েছে ৫৬ মার্ক। এ বিষয়ে বিস্তারিত রয়েছে এখানে- https://www.mrcpuk.org/…/do…/Marking%20of%20PACES%202017.pdf
সবগুলো স্টেশন নিয়ে আলোচনা করার স্কোপ নেই এই স্বল্প পরিসরে। তবে st4(communication and ethics) নিয়ে দুচারটা কথা বলতে চাই। এখানেই আমাদের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা, কারন আমাদের দেশীয় কারিকুলামে এই বিষয়টা চরমভাবে উপেক্ষিত।st4 এ মূলত কয়েক ধরনের সিনারিও থাকে যেমন- breaking bad news, explaining disease, explaining procedure and taking consent, managing angry patient, medical error, end of life care and related issues ইত্যাদি। সুতরাং এই বিষয়ের উপর সিনারিও গুলো বেশি বেশি প্র্যাকটিস করুন। এ বিষয়ে কিছু general tips—
1. Be gentle and polite
2. Let the patient/surrogate express their feelings
3. Address every concerns
4. Be honest and acknowledge any error or negligence
5. If the patient want to complain, even against you, explain them how to do so (like PALS etc)
6. Maintain eye contact with the pt/surrogate
7. At the end always ask their understanding and summarize
লেখাটা মূলত যারা PACES এর প্রিপারেশন কেবল শুরু করেছেন, কিংবা বুঝতে পারছেননা কিভাবে পড়বেন তাদের জন্য। ধন্যবাদ।
DR. Mohd.Mosharraf Hossain Khandaker (MRCP UK)
RMC-38