প্রস্তাবিত স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন-২০১৮’ তে চিকিৎসক রোগী কেউই নিরাপদ নন। এই কারণে আইনটিকে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করার পরামর্শ দিয়েছেন দেশের শীর্ষ গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও তরুণ চিকিৎসকেরা। মঙ্গলবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ফাউন্ডেশন ফর ডক্টরস সেফটি এন্ড রাইটস (এফডিএসআর) আয়োজিত গোলটেবিল আলোচনায় এই পরামর্শ দেন তারা।

গোলটেবিল আলোচনায় লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও এফডিএসআর-এর উপদেষ্টা ডা. আব্দুন নূর তুষার। আলোচনায় অংশ নেন বিএমএ’র সাবেক প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. রশিদ-ই মাহবুব, বিএমডিসির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সহিদুল্লাহ, সাংবাদিক সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা, সাপ্তাহিক সম্পাদক গোলাম মুর্তজা, অধ্যাপক ডা. সারিয়া তাসনিম। অস্ট্রেলিয়া থেকে ভিডিও-কলে অংশ নেন এফডিএসআর-এর চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. আবুল হাসনাৎ মিল্টন ।

আলোচনার শুরুতে প্রস্তাবিত আইনটির নানা অসঙ্গতি তুলে ধরে লিখিত বক্তব্য দেন গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও এফডিএসআর-এর উপদেষ্টা ডা. আব্দুন নূর তুষার। তিনি সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের সকল স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবার সর্বোচ্চ স্থানে কর্মরত ডাক্তারদের পেশাগত সামগ্রিক সুরক্ষার দাবি জানান। একইসাথে ডাক্তারদের শারীরিক, মানসিক, আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মত আইন প্রণয়নের দাবি জানান তিনি।

একইসঙ্গে, প্রস্তাবিত স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন ২০১৮ কে সংশোধন করে ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক ব্যবসা পরিচালনার জন্য আলাদা আইন ও চিকিৎসক ও রোগীর সুরক্ষার জন্য আলাদা আইন করার দাবি জানান ডা. আব্দুন নূর তুষার।

বিএমএ’র সাবেক প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. রশিদ-ই মাহবুব বলেন, কিছু অজ্ঞ লোক মিলে বিশেষজ্ঞ আইন তৈরি করেছে। এটিকে ডাক্তার-রোগী নির্মূল আইন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিএসএমএমইউ’র অধ্যাপক ডা. মোশরারফ হোসেন বলেন, লাইসেন্স ছাড়া পৃথিবীর কোন দেশেই ভিনদেশী চিকিৎসকেরা রোগী দেখতে পারেন না। তাহলে বাংলাদেশ বিদেশী চিকিৎসকদের জন্য এত উদার ভূমি হবে কেন? কেন তাদের জন্য বিধি নিষেধ করা হচ্ছে না?

গোলটেবিল আলোচনায় চিকিৎসকেরা দুঃখ করে বলেন, এদেশে গৃহকর্মী নির্যাতন মামলার দ্রুত বিচার হয়। কিন্তু চিকিৎসক হামলা-নির্যাতনের শিকার হলে অনেক ক্ষেত্রে মামলাও করতে পারেন না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *