অ্যাজমা, সিওপিডির মতো দীর্ঘমেয়াদী কিছু রোগ মোকাবেলা করে ফুসফুসের কার্যক্ষমতা ফিরিয়ে আনতে পুনর্বাসন কার্যক্রম পালমোনারি রিহ্যাবিলিটেশন বেশ গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যারা বহুদিন ধরে ফুসফুসের সমস্যায় ভুগছেন, ফুসফুসের শক্তি কমে যাওয়ায় যারা শারীরিক অক্ষমতার শিকার, সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিয়েও জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে যাদের, তাদের জন্য এই পুনর্বাসন কার্যক্রম বেশ উপযোগী। গোল্ড নির্দেশনা অনুযায়ী যাদের উপসর্গ যত বেশি, ফুসফুসের এই পুনর্বাসন কার্যক্রম গ্রহণ করলে তারা তত বেশি উপকৃত হবেন।

এই কার্যক্রমে রোগীদের রোগ সম্পর্কে ধারণা দেওয়া, মাংসপেশি নমনীয় ও প্রসারিত করার ব্যায়াম, কাঁধের ব্যায়াম, পায়ের ব্যায়াম, শ্বাস-প্রশ্বাসের মাংসপেশির শক্তি বাড়ানোর ব্যায়াম ইত্যাদি শেখানো হয়। এছাড়া পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ, ইনহেলারের সঠিক ব্যবহার, মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন, বিকল্প জীবিকা সম্পর্কেও ধারণা দেওয়া হয়। এতে অ্যাজমা বা সিওপিডি রোগীরা তুলনামূলক আগের চেয়ে ভালো জীবন যাপন করতে পারে। বাংলাদেশে প্রাইমারি কেয়ার ফিজিসিয়ানরা দীর্ঘমেয়াদি ফুসফুসের রোগের চিকিৎসা দিচ্ছেন। তবে পালমোনারি রিহ্যাবিলিটেশন সম্পর্কে সাধারণ চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ নেওয়া জরুরি।

শুক্রবার মহাখালীস্থ জাতীয় বক্ষব্যাধি হাসপাতালে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ প্রাইমারি কেয়ার রেসপিরেটরি সোসাইটি (বিপিসিআরএস) আয়োজিত পালমোকন ২০১৯ সম্মেলনে বক্তারা এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- জাতীয় সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান নূর, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ড. ইনামুল হক, বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার মোহাম্মদ আসলাম প্রমুখ।

এতে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ প্রাইমারি কেয়ার রেসপিরেটরি সোসাইটির (বিপিসিআরএস) সভাপতি ডা. জি এম মনসুর হাবিব, সাধারণ সম্পাদক ডা. এস এম রওশন আলম, ডা. রাজিবুল ইসলাম রাজন প্রমুখ। সম্মেলনে প্রায় তিন শতাধিক বক্ষব্যাধি চিকিৎসক অংশ নেন।

বিপিসিআরএস সাধারণ সম্পাদক ডা. এস এম রওশন আলম বলেন, পালমোনারি রিহ্যাবিলিটেশন বিষয়ে জেনারেল প্রাকটিশনারদের (জিপি) প্রশিক্ষণ দিলে রোগীরা আরো বেশি উপকৃত হবে। এ ব্যাপারে সেচ্ছাসেবী সংগঠন বিপিসিআরএস-এর উদ্যোগে নিয়মিত বিশেষ কোর্স চালু রয়েছে বলে তিনি জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *