বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৪৯তম মহান বিজয় দিবসকে সামনে রেখে রোববার (১৫ ডিসেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয় চত্ত্বরে সকাল ১১টায় শিশুদের অংশগ্রহণে এক চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। পরে দুপুর ১২টায় শুরু হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এ-ব্লকের অডিটরিয়ামে আলোচনা সভা। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ ও বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অফ প্রফেশনালস এর অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন।
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর মহান মুক্তিযুদ্ধ শেষ হয়েছে। তবে মুক্তির যুদ্ধ শেষ হয়নি। ১৯৭১ সালের ১৭ই ডিসেম্বর থেকে মুক্তির যুদ্ধ শুরু হয়েছে এবং যা আজও চলমান রয়েছে। মহান বিজয় দিবসের অর্জনকে সফল করতে হলে সমগ্র বাঙালি জাতিকে বঙ্গবন্ধু ঘোষিত মুক্তির সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। ১৯৭২ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর ঐতিহাসিক ভাষণে বাঙালির সামগ্রিক মুক্তির সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছিলেন। তাই এই কথা জোর দিয়ে বলা যায়, বঙ্গবন্ধু ঘোষিত মুক্তির সংগ্রামে সমগ্র জাতিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে ১৬ই ডিসেম্বরের মহান বিজয়কে সম্পূর্ণ করতে হবে।
তিনি বলেন, আজও আমরা মুক্তির সংগ্রামে সফল হতে পারিনি। সাম্প্রদায়িকতা, ধর্মান্ধতা, অশিক্ষা, বৈষম্য থেকে আমরা মুক্ত হতে পারিনি। এখনও সমাজে মানবিক মূল্যবোধ ও ন্যায় বিচারকে সম্পূর্ণ রূপে প্রতিষ্ঠিত করতে পারিনি। এ জন্যই আমাদেরকে মুক্তির সংগ্রাম অব্যাহত রাখতে হবে।
অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন আরো বলেন, বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণই ছিল বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের স্বাধীনতার যথার্থ ঘোষণা।
আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া বলেন, মহান বিজয় দিবসের অর্জনকে রক্ষা করা অবশ্যই কঠিন। বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশকে অসম্প্রদায়িক ও বৈষম্যহীন ধারায় এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। আমাদের সকলকে অসম্প্রদায়িক ও বৈষম্যহীন এবং ধর্ম নিরপেক্ষ বাংলাদেশ গড়তে সম্মিলিত প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সম্মানিত উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোঃ শহীদুল্লাহ সিকদার, সম্মানিত উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ডা. সাহানা আখতার রহমান, সম্মানিত কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান। সঞ্চালনা করেন রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল হান্নান।
চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় দেয়া বক্তব্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ শিক্ষা, চিকিৎসাসহ সংস্কৃতি ও সাহিত্যে উন্নতি ও সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আজকের সোনামনি শিশুরাই আগামীদিনের উজ্জ্বল ভবিষ্যত গড়বে এবং সোনালী বাংলাদেশ নির্মাণ করবে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়তে সক্ষম হবে। সংস্কৃতি চর্চার মধ্য দিয়ে দেশপ্রেম জাগ্রত ও বিকশিত হয়ে থাকে। সেজন্যই প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা সংস্কৃতি চর্চার উপর গুরুত্বারোপ করেছেন। সংস্কৃতি চর্চার সাথে সাথে আমাদেরকে খেলাধুলার উপরও গুরুত্ব দিতে হবে। চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিশুরা বাংলাদেশের মহান বিজয় দিবসের ইতিহাস ও তাৎপর্য সর্ম্পকে অবহিত হওয়ার সাথে সাথে তাঁদের মননে ঐতিহাসিক এই বিজয়কে ধারণ করে দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হয়ে মেধার বিকাশ ঘটাতে পারবে বলে মত দেন তিনি।
উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোঃ শহীদুল্লাহ সিকদার বলেন, সুকুমার চর্চা ও রুচি ও মননশীলতা বিকশিত করা জন্য সংস্কৃতি চর্চার বিকল্প নেই। বাঙালি সংস্কৃতি বিশ্বজুড়ে নন্দিত। এই সংস্কৃতিকে আরো এগিয়ে নিতে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।
বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী মনিরুজ্জামান বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। দেশ থেকে রুচির দুর্ভিক্ষ দূর করতে সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড জোড়দার করতে হবে। চিত্রাঙ্কন সংস্কৃতি চর্চার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। এর মধ্য দিয়ে বাঙালি সংস্কৃতি আরও বিকশিত ও সমৃদ্ধি হবে।
চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা উদ্বোধনকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ডা. সাহানা আখতার রহমান, বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী ইমরান হোসেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল হান্নান, প্রক্টর অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মোজাফফর আহমেদ, গ্রন্থাগারিক ও কবি অধ্যাপক ডা. মোঃ হারিসুল হক, শিশু নিউরোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মোঃ মিজানুর রহমান, ইপনার পরিচালক অধ্যাপক ডা. শাহীন আকতার, বক্ষব্যধি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এ কে এম মোশাররফ হোসেন, ইপনার সহযোগী অধ্যাপক ডা. গোপেন কুমার কুন্ডু, সহযোগী অধ্যাপক ডা. কানিজ ফাতেমা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন নিউরোসার্জারী বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. কে এম তারিকুল ইসলাম ও শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. দেবাশীষ সাহা। চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় গ্রুপ-ক-তে বিশেষ শিশু, গ্রুপ-খ-তে ৬ বছর বয়সের কম এবং গ্রুপ-গতে ৬-১২ বছর বয়সের শিশুরা অংশ নেন। চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা, নার্স ও কর্মচারীগণের ছেলেমেয়েরা অংশগ্রহণ করেন এবং প্রত্যেক গ্রুপে ৩টি করে পুরস্কার প্রদান করা হয়।
এছাড়াও, মহান বিজয় দিবসকে সামনে রেখে “স্বাধীন বাংলাদেশে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়নে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদান” শীর্ষক রচনা প্রতিযোগিতায় আয়োজন করা হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীগণ অংশগ্রহণ করেন। আলোচনা সভা শেষে বিজয়ী রেসিডেন্ট চিকিৎসকদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
সব শেষে কবিতা আবৃত্তিসহ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উদযাপিত হয়।