ডা. রবি বিশ্বাস: মানুষের জীবন পরিবর্তনশীল। মাতৃগর্ভ থেকে শুরু হয় বৃদ্ধি। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের শরীরে নির্দিষ্ট কিছু পরিবর্তন হতে থাকে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বয়ঃসন্ধি, যা একজন শিশুকে পরিপূর্ণ মানুষে পরিণত করতে সহায়তা করে।

সাধারণভাবে মেয়েশিশুদের ৮ থেকে ১৩ বছর ও ছেলেশিশুদের ৯ থেকে ১৪ বছর বয়সে বয়ঃসন্ধিজনিত পরিবর্তন হয়ে থাকে। যদি কোনো মেয়েশিশুর ১৩ বছরে ও ছেলেশিশুর ১৪ বছর বয়সের মধ্যে এই পরিবর্তন শুরু না হয়, তখন তাকে ‘বিলম্বিত বয়ঃসন্ধি’ বলা হয়।
লক্ষণ

মেয়েদের স্তন ও ছেলেদের অণ্ডকোষ বড় হওয়ার মধ্য দিয়ে বয়ঃসন্ধির আগমন বোঝা যায়। সাধারণত ১০ বছর বয়সে মেয়ে ও ১১ বছরে ছেলেশিশুদের শরীরে এই পরিবর্তন দেখা যায়। তবে দেশ, জাতি, পরিবেশ, সামাজিক, পারিবারিক ও ব্যক্তিবিশেষের শারীরিক বৈশিষ্ট্যের তারতম্যের কারণে এই সময়ে পরিবর্তিত হতে পারে।

শারীরিক উচ্চতা বৃদ্ধি ও শরীরের বিভিন্ন জায়গায় লোম গজানো বয়ঃসন্ধির অন্যতম লক্ষণ। তাই ৯ থেকে ১১ বছর বয়সে এসেও শিশুর উচ্চতা না বাড়লে বা শরীরে লোম না গজালে অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে।

অনেক ক্ষেত্রে যথাসময়ে প্রাথমিক পরিবর্তন পরিলক্ষিত হলেও মেয়েশিশুর মাসিক শুরু হতে দেরি হয়। এই বিলম্ব ৪ বছরের বেশি হলে সেটাকে বিলম্বিত বয়ঃসন্ধি ধরা হয়।
কেন হয়
পারিবারিক বৈশিষ্ট্যের কারণে স্বাভাবিকভাবে বয়ঃসন্ধি বিলম্বিত হতে পারে। এ ছাড়া অপুষ্টি, দীর্ঘমেয়াদি রোগ, মানসিক ব্যাধি, হরমোনজনিত সমস্যা, জন্মগত রোগ, কোনো কারণে যৌন হরমোন নিয়ন্ত্রণকারী গ্রন্থি ক্ষতিগ্রস্ত হলে শিশুর বিলম্বিত বয়ঃসন্ধি হতে পারে। যে কারণেই হোক না কেন, শিশুর শারীরিক সমস্যা আগে থেকেই সমাধানের চেষ্টা করতে হবে। যাতে সে নির্দিষ্ট বয়সে ঝামেলা ছাড়াই বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছাতে পারে।

করণীয়
বিলম্বিত বয়ঃসন্ধি নির্ণয়ের জন্য শিশু ও তার পরিবারের সদস্যদের শৈশবের ইতিহাস পর্যালোচনা ছাড়াও কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন হয়। কেননা মা-বাবার বিলম্বিত বয়ঃসন্ধির ইতিহাস থাকলে সেটা শিশুরও হতে পারে।

শিশুর শারীরিক বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা, হাড়ের বয়স ও হরমোনের মাত্রা দেখে এটা অনেকটা নিশ্চিত হওয়া যায়। তবে বিলম্ব বেশি হয়ে
গেলে শিশু হরমোন রোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হতে হবে।

অপুষ্টি ও শিশুর শরীরে নির্দিষ্ট কোনো ভিটামিনের অভাব থাকলে তা সমাধান করতে হবে। জন্মগতভাবে শরীরে অন্য কোনো রোগ (টিউমার, স্থূলতা, সংক্রমণ), মানসিক সমস্যা কিংবা হরমোনের সমস্যা থাকলে চিকিৎসা করাতে হবে। মনে রাখবেন, বিলম্বিত বয়ঃসন্ধি নিরাময়যোগ্য। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

শিশু হরমোন রোগ বিশেষজ্ঞ, ঢাকা শিশু হাসপাতাল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *