ড. মাহমুদুর রহমান : রোগ যাতে না হয় সে জন্য সবাইকে নিজ নিজ জায়গা থেকে সতর্ক ও সচেতন থাকতে হবে। আমরা যেহেতু জানি আমাদের আবহাওয়া ভালো নয়; দূষণ বেশি, শুকনো বা শীত মৌসুমে এর মাত্রা আরো বেশি থাকে, তাই সে অনুযায়ী ঘর থেকে বের হওয়ার সময় ঠাণ্ডা বা ধুলাদূষণ প্রতিরোধী ব্যবস্থা নিয়ে

নিলে ঝুঁঁকি কম থাকে। আবার পরিবারের সদস্যরা শিশু ও বয়স্কদের দিকে বেশি নজর রাখবেন, তাদের যাতে ঠাণ্ডা না লাগে।

যারা আগে থেকে রোগে আক্রান্ত তাদের ক্ষেত্রে সতর্কতা বেশি রাখতে হবে। বিশেষ করে বেশি ঠাণ্ডা, বেশি গরম, ধুলাদূষণ থেকে সবারই সতর্ক থাকা জরুরি। এ ছাড়া শীতের সময়ে রোটাভাইরাসের দাপট বেশি থাকায় শিশুরা সহসাই ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়। তাই সেদিকেও সতর্ক থাকবে হবে। এ ছাড়া যেসব ভ্যাকসিন পাওয়া যায় সেগুলো চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে দিয়ে নেওয়া উচিত। ছোটদের জন্য যেমন ভ্যাকসিন আছে, আবার বড়দের জন্যও আছে। ইনফ্লুয়েঞ্জার জন্য বড়দের ভ্যাকসিন বেশ কার্যকর।

আমরা দেখি আমাদের দেশে সেকেন্ডারি ইনফেকশন বেশি থাকে। অ্যান্টিবায়োটিক ঠিকভাবে কাজ করে না। আমাদের হাসপাতালগুলোতে অতি ভিড় থাকে। ঘনবসতি বেশি। রাস্তাঘাটেও মানুষের ঠাসাঠাসি থাকে। হাঁচি-কাশিতে বেশির ভাগ মানুষ সচেতন থাকে না। ফলে ভাইরাস-জীবাণু ছড়ানোর সুযোগ থাকে বেশি। আবার আক্রান্ত হলেও বেশির ভাগই ডাক্তারের কাছে বা হাসপাতালে দেরি করে আসে। খরচের বিষয় আছে। অনেকেই খরচের ভয়ে উপসর্গ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তারের কাছে যায় না। ফলে রোগের জটিলতা বেড়ে যায়।

শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা আমাদের দেশে খুবই বেড়ে যাচ্ছে। বেশির ভাগই ভাইরাল ডিজিজ। এমনিতেই নানা ধরনের ভাইরাসের ঝুঁকি রয়েছে। ফলে শ্বাস-প্রশ্বাসের ক্ষেত্রে একে অন্য থেকে সতর্ক থাকা, হাঁচি-কাশির সময় দূরত্ব বজায় রাখা। প্রয়োজন অনুযায়ী রুমাল বা টিস্যু ব্যবহার করা উচিত। অসুস্থদের ক্ষেত্রে মাস্ক ব্যবহার করা ভালো।

অভিজ্ঞতা অনুসারে দেখি, কখনো কখনো কোনো কোনো রোগের প্রকোপ বাড়ে। শীতের সময় এর মাত্রা বেড়ে যায়। দূষণ থেকেও রোগ বাড়ে। হয়তো কোনো রোগ এক বছর বাড়ে আবার পরের বছর কমে যায়।

লেখক : রোগতত্ত্ব বিজ্ঞানী ও উপদেষ্টা, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *