ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার হরষপুরে ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যদের (মেম্বার) টোকেন নিয়ে টিকা নিতে হয়েছে। এতে রেজিস্ট্রেশন করেও অনেকে টিকা নিতে পারেননি। আবার টিকা শেষ হয়ে যাওয়ার কারণেও উপস্থিত অনেকে ফিরে যান। এ নিয়ে স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এলাকার মানুষের সুবিধার্থে এটা করা হয়েছে। যাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দেওয়ার কথা তাদেরকে টোকেন দেওয়া হয়েছে। এতে টিকা কেন্দ্রে ভিড় কম হয়। স্বাস্থ্যবিধিও নিশ্চিত থাকে। যারা ফেরত গেছেন তাদেরকে পরে নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সারা দেশের ন্যায় শনিবার বিজয়নগরের হরষপুর ইউনিয়ন পরিষদ কেন্দ্রে শনিবার সকাল ৯টা থেকে টিকা দেওয়া শুরু হয়। টিকা দিতে আগ্রহীদের মধ্যে যারা মেম্বারদের টোকেন নিয়ে এসেছেন তাদেরকেই শুধু টিকা দেওয়া হয়। এর আগে ইউনিয়ন পরিষদের সভা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

পাশাপাশি একজন পদস্থ কর্মকর্তার পরামর্শে এটি বাস্তবায়ন করা হয়। ওই ইউনিয়নের ১, ২, ৪ এবং ৭ নম্বর ওয়ার্ডে ৮০টি, ৩, ৮ এবং ৯ নম্বর ওয়ার্ডে ৬৫ টি টোকেন দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ৫ নম্বর ওয়ার্ডে ৬০টি, ৬ নম্বর ওয়ার্ডে ২৫টি টোকেন দিয়েছে মেম্বারা। টোকেনে মেম্বারদের সিলসহ স্বাক্ষর ও সিরিয়াল নম্বর দেওয়া ছিলো।

ঋষিপাড়ার উমা চরণ ঋষি অভিযোগ করেন, তিনি রেজিস্ট্রেশন করে এসেও টিকা নিতে পারেননি। কেন্দ্র থেকে বলে দেওয়া হয়েছে, টিকা শেষ ১৪ তারিখ এসে যেন টিকা নেওয়া হয়। উমা চরণের কাছে মেম্বারদের কোনো টোকেন ছিলো না বলে জানান তিনি।

৩ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার মো. মধু মিয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পরিষদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক এভাবে টোকেন দেওয়া হয়েছে। কারণ মাত্র ৬০০ টিকা বরাদ্দ ছিলো। কিন্তু টিকা নিতে আগ্রহীর সংখ্যা হাজার হাজার। যে কারণে বয়স্কদেরকে অগ্রাধিকার দিয়ে টোকেন দেওয়া হয়। অন্য যারা কার্ড নিয়ে এসেও টিকা পায়নি তাদেরকে পরে এসে নিতে বলা হয়েছে।’

হরষপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সারোয়ার হোসেন ভূঁঞা সাংবাদিকদেরকে জানান, উপজেলার একজন পদস্থ সরকারি কর্মকর্তার সঙ্গে পরামর্শ করে এটা করা হয়েছে। চাহিদার তুলনায় টিকা কম বলে বয়স্কদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দেওয়ার জন্য এটা করা হয়েছে।

kalerkantho

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *