দেশে যথেষ্ট সংখ্যক মানসম্মত চিকিৎসক থাকা সত্বেও ভাড়া করে ভারতীয় ডাক্তার আনার খবরে চটেছেন সচেতন চিকিৎসকসমাজ। তাদের নিন্দা ও ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ করছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। অথচ এ বিষয়ে সম্পূর্ণ নিরব রয়েছে চিকিৎসকদের অভিভাবক সংগঠন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) ও সরকার দলীয় চিকিৎসকদের সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ)। চিকিৎসকদের নতুন সংগঠন ফাউন্ডেশন ফর ডক্টরস সেফটি এন্ড রাইটস (এফডিএসআর) এর নেতারা এঘটনার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগতভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষের অনুরোধে ভাড়া করে ভারতীয় ডাক্তার আনার অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি)। সে অনুযায়ী, আগামী ৩০ নভেম্বর ও ১ লা ডিসেম্বর এই দু’দিন অবস্থান করে তারা চিকিৎসা দেবেন রোগীদের।

ভাড়া করে ভারতীয় চিকিৎসক আনার বিরুদ্ধে ফেসবুকে ক্ষোভ ঝরাচ্ছেন চিকিৎসকেরা।

ফাউন্ডেশন ফর ডক্টরস সেফটি এন্ড রাইটস (এফডিএসআর) এর সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. জাহিদুর রহমান লিখেছেন, বিএমডিসি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সুপারিশ ছাড়া শুধুমাত্র একজন প্রিন্সিপালের অনুরোধে বিদেশি ডাক্তারকে এভাবে নিবন্ধন দিতে পারে না। বিশাল চক্র কাজ করছে এখানে। সুতরাং কোন ছাড় নাই।

ফাউন্ডেশন ফর ডক্টরস সেফটি এন্ড রাইটস (এফডিএসআর) এর উপদেষ্টা ও বিশিষ্ট মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ডা. আবদুন নূর তুষার লিখেছেন, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজে ভারতের ব্যাঙ্গালোরের বেসরকারি হাসপাতাল কোশিস বা কসাইস হাসপাতাল (উচ্চারন জানি না) থেকে চারজন ডাক্তার আসবেন। একই হাসপাতাল থেকে আসা এই চারজন শনি ও রবিবার, ৩০ নভেম্বর ও ১ ডিসেম্বর। কি কাজ করবেন বলে আপনাদের মনে হয়? তারা আসবেন রোগীদের ভারত যাবার পরামর্শ দিতে।

বিএমডিসি তাদের অস্থায়ী রেজিস্ট্রেশন দিয়েছে। কিভাবে দিল? তাদের দেশে গিয়ে আপনি এটা পারবেন? পরীক্ষা না দিয়ে রেজিস্ট্রেশন পাবেন অস্থায়ী? তারা কার খরচে আসবে? আপনারা বিশ্বাস করেন যে ব্যাঙ্গালোরের প্রাইভেট হাসপাতালের চারজন ডাক্তার নিজ খরচে সাতক্ষীরা আসবেন পড়াতে?

আমার দেশের বিশেষজ্ঞ ছুটির দিনে এক জেলা থেকে অন্য জেলায় গিয়ে রোগী দেখতে অনুমতি লাগবে বলে আইন বানানো হচ্ছে। কেন? যাতে শনি-রোববারে ভারতের ডা. এসে রোগী দেখে ব্যাঙ্গালোরে নিয়ে যেতে পারে? রোববারে কোন দেশে ছুটি বলেন তো?

শিক্ষা প্রশিক্ষণের নামে চাপাবাজী করার অবকাশ নাই। কারণ, তারা সব একটা হাসপাতাল থেকে আসছেন। নিশ্চয় সব ভাল ডাক্তার এক হাসপাতালের থাকে না, আর তারা কেউ এমন কোন বিশেষজ্ঞ না, যে বিষয়ে বাংলাদেশে ঘাটতি আছে। নিউরোলজিস্ট, অর্থপেডিক সার্জন, ল্যাপারোস্কপিক সার্জন, পেডিয়াট্রিশিয়ান, এই বিশেষজ্ঞ বাংলাদেশে অনেক। বিএমডিসিকে তীব্র নিন্দা জানাই। সাতক্ষীরা মেডিকেল নাকি সরকারী? তাদের জন্যও নিন্দা।

বাংলাদেশ ডক্টর’স ফাউন্ডেশনের (বিডিএফ) মূল উদ্যোক্তা ডা. নিরুপম দাশ নিজ ফেসবুক ওয়ালে লিখেছেন, বিএমডিসির রেজিস্ট্রার স্যার অফিসে না থাকায়, ডেপুটি রেজিস্ট্রার ডা. লিয়াকত স্যারের সাথে, আমাদের কথা হয় , আমরা প্রতিবাদ জানাই। এই পর্যন্ত বেশ কয়েকবার ফোন করি। স্যার আমাদের জানায় বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হওয়াতে, আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। পরবর্তী BMDC এর নীতিনির্ধারণী বোর্ড সিদ্ধান্ত নেবে। উনি আরো জানায় সিদ্ধান্ত আসে অধিদপ্তর থেকে। উনারা শুধু অনুমতি প্রদান করেন। ভারতীয় চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে আমাদের তৎপরতা চলবে।

ফাউন্ডেশন ফর ডক্টরস সেফটি এন্ড রাইটসের (এফডিএসআর) কার্যকরী পরিষদের সদস্য ডা. রাশেদুল হক তার ফেসবুক টাইমলাইনে লিখেছেন, ভারতীয় ৪ চিকিৎসককে বাংলাদেশে চিকিৎসা দেয়ায় আমরা ক্ষুব্ধ। বাংলাদেশের স্বাস্থ্য সেক্টর ধ্বংসের পায়তারা বন্ধে এবং সরকারি হাসপাতালে বিদেশি চিকিৎসক দিয়ে চিকিৎসা দেয়ার মতো হটকারী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আজ চিকিৎসক সমাজ একতাবদ্ধ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *