এফডিএসআর সকলের সাথে বন্ধুতা ও কারো সাথে শত্রুতা নয়, এই নীতিতে বিশ্বাসী। ডাক্তারদের স্বার্থে সাধ্যের সবটুকু দিয়ে চেষ্টা ও কাজ করার জন্য এর জন্ম।
ডাক্তার ও রোগীদের অধিকার নিশ্চিত করে ও তাদের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়ন করে , দেশে চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত সকল মানুষের জন্য কাজের সুন্দর পরিবেশ গড়ে তুলতে এর সাথে জড়িত সকলে কাজ করছেন।
মনে রাখতে হবে এই জঞ্জাল এক বছরের বা কয়েক বছরের না। এটা বৃটিশ আমল থেকে তৈরী হওয়া জঞ্জাল। এসব একদিনে দুর হবে না এবং কোন একজন বা দুজন এটা দুর করবেন না।
দেশে সকল চিকিৎসক সংগঠন ও তাদের নেতৃবৃন্দকে এফডিএসআর চিকিৎসকদের জন্য কাজ করতে উৎসাহ ও প্রয়োজনে চাপ দিতে চায়। চাপ দেয়া মানে দুর্ব্যবহার বা অশোভনীয় আচরন করা নয়। তাই আমি সকল চিকিৎসককে সনির্বন্ধ অনুরোধ জানাই, ভাষার ব্যবহারে সতর্ক হোন। আপনি নিজেকে সংযত না করলে অন্যের কাছ থেকে সংযত আচরন প্রত্যাশা করতে পারেন না।
যাকে দিয়ে যে কাজ হবে , তাকে দিয়ে সেটাই করাতে হবে। যার যা সাধ্য আছে, যার যতটুকু ক্ষমতা আছে তাকে ততটুকু নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। ফেসবুকে পোষ্ট দিয়ে কে কি করলো কেবল সেটার ছিদ্র না খুঁজে যদি মনে করেন এফডিএসআর আপনার জন্য কাজ করছে, তবে তার সদস্য হয়ে শারিরীক ও মানসিকভাবে এই সংগঠনকে সাহায্য করুন।
কোন পদে যদি কেউ থাকেন তবে তার কাছে কাজ করার জন্য যাওয়া, তাকে কাজ করতে বলা আমাদের অধিকার । কারন এটা তার পদের দায়িত্ব। তিনি সেটা না করলে সেটার সমালোচনা করাও আমাদের অধিকার। ডাক্তারদের স্বার্থে নিজের অহংকারকে যদি সরিয়ে রাখতে না পারেন, ব্যক্তিগত পছন্দ অপছন্দকে যদি সরিয়ে রাখতে না পারেন তবে বহু কাজ অসমাপ্ত থেকে যাবে।
মাওলানা জালালুদ্দিন রুমী বলেছিলেন , বড় হতে গেলে শুণ্য হতে হয়। এই শুণ্য মানে অহংকার, গরিমা, লোভ ও লাভ থেকে পরিত্রান। সবার মঙ্গল চাইলে এসব দুরে ঠেলে সকলকে সাথে নিয়ে কাজ করতে হবে।
যদি কোন নেতাকে আপনার ব্যর্থ বা অযোগ্য মনে হয়, তবে তার বিকল্প নেতৃত্ব আপনি নির্বাচন করতেই পারেন। কিন্তু তিনি যদি আপনার কাজে সাহায্য করতে চান , তাকে অবহেলা করা মানে নিজেদের ক্ষতি করা।
আমরা কোন ব্যক্তির কাছে যাই না, কারো তদবির করি না। আমরা পদে যারা আছেন তাদের কাছে পদ অনুযায়ী কাজ করার অনুরোধ নিয়ে যাই।
পদে থাকলে আমাদের জন্য কাজ করতে হবে, না করলে পদ ছাড়তে হবে। আমরা কাউকে বাসায় দাওয়াত দেই নাই। কাজের জায়গায় একসাথে কাজ করি, করেছি ও করবো।
একথা মনে রাখতে হবে যে ডাক্তারদের অধিকার অর্জনে উপকার সবার হবে। যে ডাক্তার আমাদের সমালোচনা করেন রোজ তিনিও এর উপকার পাবেন। তিনি আমাদের ধন্যবাদ দিলেন কি দিলেন না তাতে কিছুই আসে যায় না। তিনি কাজ না করেও উপকারের ভাগ পাবেন , তাতেও কিছু আসে যায় না।
এটাই নিয়ম। আমার আপনার মতো কেউ প্রাণ দিয়েছিল বলে আজ আপনি স্বাধীন দেশের নাগরিক। আপনি মেট্রো রেলে চড়বেন, আপনি ফ্লাইওভারে হাসপাতালে যাবেন। আপনি অধ্যাপক হবেন… এসব আপনি পারছেন নাম না জানা বহু মানুষের প্রাণের বিনিময়ে। তারা না থাকলে এখন কোন উর্দুভাষী আপনার অধ্যাপক হতো, আপনার প্রমোশণ দিতো কোন পাঞ্জাবী শাসক।
তাই এফডিএসআরও জানে , আমাদের কাজের ফলাফল সবচেয়ে স্বার্থপর লোকটিও পাবে। তাতে আমাদের কিছু আসে যায় না।
তবে ঘরে বসে কেবল কমেন্ট করলে, আপনি সুযোগ হারাচ্ছেন। নিজের মেরুদন্ড শক্ত করে নিজের দাবী আদায়ের সুযোগ হারাচ্ছেন। মনে রাখবেন নিজে থেকে এগিয়ে না আসলে কখনো অধিকার অর্জন করা যায় না।
আপনাদের সকলেরই কম বেশী ক্ষমতা আছে। সেই ক্ষমতাকে মানুষের কাজে লাগান, ডাক্তারদের মঙ্গলে কাজে লাগান। কাজের আনন্দের জন্য কাজ করেন, আত্মতৃপ্তির জন্য কাজ করেন। পরের হাতে ভাত না খেয়ে নিজের হাতে খান।
আমাদের সবার কাজ আছে। আপনি আপনার কাজ থেকে সময় দেবেন না। আমরা দেবো। দিতেই থাকবো। এটা ভাবা কি ঠিক? আপনি থাকবেন চেম্বারে আর আপনার চেম্বারে চেয়ারের জরিমানা ঠেকাতে আমরা কথা বলবো, বলেই যাবো এমনটা ভাবলে সেটা ঠিক হবে না।
নিজের জন্য না এসে নিজেদের জন্য আসেন। সারাক্ষন নিজেকে নিয়ে না ভেবে, জুনিয়রদের কষ্ট নিয়ে ভাবেন। নিজে মেডিকেল কলেজের মালিক হয়ে নিজের ছেলেকে ডাক্তার বানালেই হবে না। সেই ছেলে যাতে মার খেয়ে না মরে, সেটার জন্য আসেন।
আর যদি নিজের কোন লোভ থাকে তবে লোভীদের সাথে চলেন, আমাদের সাথে না।
কেবল ইতিহাসে নাম লেখার লোভ থাকলে নিঃস্বার্থ হয়ে কাজ করেন , এফডিএসআরের সাথে।