ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) কার্ডিয়াক ক্যাথ ল্যাবের যাত্রা শুরু হয়েছে। শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১২টার দিকে এই ক্যাথ ল্যাবের উদ্বোধন করা হয়। ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার ৫৭ বছর পর এই ক্যাথ ল্যাব সংযোজিত হলো।
ক্যাথ ল্যাব উদ্বোধন উপলক্ষে এক কর্মশালার আয়োজন করা হয়। সিসিইউ ইউনিটের প্রধান অধ্যাপক ডা. এম এ বারীর সভাপতিত্বে কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. চিত্তরঞ্জন, হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডাক্তার লক্ষ্মী নারায়ণ মজুমদার, ইন্টারভেনশনাল অধ্যাপক ডা. আবুল হোসেন, বিএমএ সভাপতি ডাক্তার মতিউর রহমান ভূঁইয়া হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডের প্রধান ও মিড লেভেলের চিকিৎসকরা।
কর্মশালায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানান, ক্যাথল্যাব উদ্বোধন করার ফলে রোগীর এনজিওগ্রাম করার পর হার্টের ব্লক কিংবা ছিদ্র ধরা পড়লে প্রয়োজনীয় রিং পরানো, পেসমেকার স্থাপন এবং বাইপাস হার্ট সার্জারি করার সুবিধা থাকবে। তারা আরও জানান, শিশুদের হার্টের জন্মগত সমস্যা সমাধানেও কাজ করা যাবে।
বিএমএ,ময়মনসিংহ শাখার সভাপতি অধ্যাপক ডা. মতিউর রহমান ভুইয়া জানান, মুজিব বর্ষ উপলক্ষে ময়মনসিংহবাসীর জন্য এটি হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, ক্যাথ ল্যাবটি স্থাপন করা হয়েছে নতুন হাসপাতাল ভবনের ৪র্থ তলার হৃদরোগ বিভাগে। ইতোমধ্যে কার্ডিয়াক ক্যাথল্যাব স্থাপনসহ পাশে একটি ১০ বেডের পোষ্ট ক্যাথল্যাব ওয়ার্ড খোলা হয়েছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও প্রশিক্ষিত নার্সদের জন্য রাখা হয়েছে আলাদা কর্ণার। করোনারি কেয়ার ইউনিট-সিসিইউ এবং হৃদরোগ বিভাগের আলাদা ইউনিট ও ওয়ার্ডের পাশে একই ফ্লোরে বসানো হয়েছে এই ক্যাথল্যাব। দশটি বিছানার ক্যাথল্যাব ওয়ার্ডের প্রতিটি বিছানার পাশেই রয়েছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির মনিটরসহ এনজিওগ্রাম করার পর রোগীদের প্রয়োজনীয় সাপোর্টের চিকিৎসা সরঞ্জামাদি। হৃদরোগের সমস্যা নিয়ে রোগীদের ক্যাথল্যাবে এনজিওগ্রাম করার পর হার্টের ব্লক কিংবা ছিদ্র ধরা পড়লে প্রয়োজনে রিং পরানো, পেস মেকার স্থাপন কিংবা বাইপাস হার্ট সার্জারি পর্যন্ত করার সুবিধা থাকছে হাসপাতালের এই ওয়ার্ডে।
পর্যাপ্ত কার্ডিওলজিষ্ট ও নার্স টেকনেশিয়ান ছাড়াও এজন্য ইন্টারভেনশনারিষ্ট অধ্যাপক ডা. আবুল হোসেনকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। আরও একজন ইন্টারভেনশনারিষ্ট নিয়োগের জন্য মন্ত্রণালয়ে পত্র দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পুরোদমে ক্যাথল্যাব চালু হলে শিশুদের হাটের জন্মগত সমস্যা, মোটা ও চিকন ভাল্বের সমস্যা সমাধানসহ পেস মেকার স্থাপন ও হার্টের বাইপাস সার্জারি করা সম্ভব হবে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানান, সরকার নির্ধারিত নামমাত্র ফীয়ে এসব চিকিৎসা সেবা দেয়া হবে রোগীদের। বিগত ১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত এক হাজার শয্যার রেফারেল চরিত্রের ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগেই প্রতিদিন গড়ে ভর্তি থাকছে ৩ শতাধিক রোগী। বর্তমান পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাছির উদ্দিন আহমদের মেয়াদেই হাসনাতালের জরুরি বিভাগে চালু করা হয় বহুল প্রত্যাশিত ওয়ান স্টপ সার্ভিস। হাসপাতালের অন্তঃবিভাগে নামমাত্র ফীয়ে চালু করা হয় ব্যয়বহুল কিডনী ডায়ালাইসিস চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম।
সর্বশেষ সকল জল্পনা কল্পনা আর শঙ্কাকে পাশ কেটে চালু করা হলো কার্ডিয়াক ক্যাথল্যাব চিকিৎসা সেবা।
niramoy24