অধ্যাপক ডা. এম এস জহিরুল হক চৌধুরী : পারকিনসন্স- এক প্রকারের মস্তিষ্কের ক্ষয়জনিত রোগ যেখানে মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট কিছু অংশের কার্যক্ষমতা কমে যায়। এ রোগের প্রথম বর্ণনা দেন ১৮১৭ সালে ডা. জেমস পারকিনসন। যদিও ৫৫ বছর ঊর্ধ্ব মানুষই বেশি আক্রান্ত হয় কিন্তু তরুণরাও এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে। এ রোগকে সাধারণত প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি পারকিনসনস এই দুই ভাগে ভাগ করা হয়। প্রাইমারি পারকিনসনসের সাধারণত কারণ জানা যায় না। সেকেন্ডারি পারকিনসনস সাধারণত মস্তিষ্কের প্রদাহ পরবর্তী সময়ে, বিভিন্ন টক্সিন (এমপিটিপি, ম্যাঙ্গানিজ, কার্বন মনোক্সাইড), কিছু ওষুধ, আমাদের মস্তিষ্কে টিউমার কিংবা যে কোনো আঘাত, স্ট্রোক ইত্যাদি কারণে হতে পারে। এছাড়া এ রোগ মস্তিষ্কের নিউট্রোন্সমিটার তৈরিকারী বিশেষ কোষকে ধ্বংস করে দেয়। ফলে মস্তিষ্কে নিউট্রোন্সমিটারের আনুপাতিক ভারসাম্যহীনতার সৃষ্টি হয় এবং চলাচলে অসুবিধা হয়।

উপসর্গ : সাধারণত বয়স্ক (৫০ ঊর্ধ্ব) লোকদের এ রোগের লক্ষণগুলো দেখা দেয়। লক্ষণগুলো আস্তে আস্তে প্রকাশিত হয়। বিশ্রাম অবস্থায় হাত-পায়ের কম্পন। হাত-পায়ের মাংসপেশি শক্ত বা দৃঢ় হয়ে যাওয়া। হাত-পায়ের সঞ্চালন বা নড়াচড়া কমে যাওয়া বা ধীরগতি হয়ে যাওয়া। হঁ্যাঁ-চলাফেরার ভারসাম্য হারিয়ে ফেলা। স্মরণশক্তি কমে যাওয়া, অনিদ্রা, মানসিক দুশ্চিন্তা হওয়া এবং যৌনশক্তি হ্রাস পাওয়া।

অন্য লক্ষণগুলো : ভাবলেশহীন মুখ-অবয়ব। মুখ দিয়ে লালা পড়া। হঁাঁটা বা চলাচল শুরু করতে দেরি হওয়া। স্লো পদক্ষেপ, হঁাঁটার সময় হাত না নড়া। হাঁটতে হাঁটতে ঘুরতে গেলে ভারসাম্য হারিয়ে ফেলা। সবসময় হাত-পা কাঁপা, মাংসপেশি শক্ত হয়ে যাওয়া। সূক্ষ্ম কাজ করার ক্ষমতা হারানো ইত্যাদি নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত থাকে পারকিনসনস রোগীদের জীবন।
চিকিৎসা : ওষুধ ও পুনর্বাসন হচ্ছে পারকিনসনের প্রাথমিক চিকিৎসা। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা রোগের তীব্রতা অনুযায়ী ওষুধের ডোজ ঠিক করেন এবং ডোজ বাড়িয়ে থাকেন। আর পুনর্বাসন চিকিৎসা হচ্ছে ফিজিওথেরাপি যা চলাফেরা, ভারসাম্যহীনতা, কথা বলা, গিলতে সাহায্য করবে এবং দৈনন্দিন কাজগুলো করতে সাহায্য করবে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে কিছু রোগীর ক্ষেত্রে সার্জারি অথবা ডিপ ব্রেইন স্টিমুলেশন ইত্যাদির প্রয়োজন হতে পারে। তাই এ বিষয়ে আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে।

অধ্যাপক ডা. এম এস জহিরুল হক চৌধুরী

অধ্যাপক (ক্লিনিক্যাল নিউরোলজি), ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হসপিটাল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *