প্রফেসর ডা. শুভাগত চৌধুরী : মস্তিষ্ক সত্যি এনার্জি ক্ষুধার্ত যন্ত্র। ওজন মাত্র ৩ পাউন্ড, দেহ ওজনের মাত্র ২ শত ভাগ, অথচ এটি শুষে নেয় দৈনিক এনার্জি বাজেটের ২০ শতাংশ। যদি প্রতিদিন ক্যালোরি পুড়ে ১৩০০ তাহলে মগজ ঠিকঠাক থাকার জন্য গ্রহণ করে ২৬০ ক্যালোরি। প্রতি ঘণ্টায় ১১ কিলো। কার্ডিয়াক আউট পুটের ১৫ শতাংশ আর মোট অক্সিজেন সবররাহের ২০ শতাংশ যায় মগজকে শক্তিশালী রাখতে। এত ছোট যন্ত্র তবু এত জ্বালানি কেন তার লাগে? আমরা যখন বিশ্রামে থাকে তখন কি এনার্জি কম লাগে?
মগজ অসংখ্য স্নায়ু কোষ বা নিউরনের সমন্বয়। এরা পরস্পর সংকেত বিনিময় করে করে দেহ টিস্যুর সাথেও। নিউরন উৎপন্ন করে রাসায়নিক নিউরো ট্রান্সমিটার সঙ্কেত পরিবহনের জন্য। নিউরো ট্রান্সমিটার উৎপাদনের জন্য মগজ শুষে নেয় ৭৫ শতাংশ গ্লুকোজ আমাদের আহার থেকে আর ২০ শতাংশ অক্সিজেন রক্ত থেকে। বাকি এনার্জি লাগে সুস্থ মগজ কে বজায় রাখার জন্য আর অসুস্থ কোষ পরিষ্কারের জন্য। গবেষকরা দেখেছেন ৯০ শতাংশ এনার্জি যা ব্যবহৃত হয় এর হিসাব নাই। তাহলে মস্তিষ্ক অকাজে ব্যবহার করে এনার্জি? মানব মগজ সবসময় সংকেত সম্প্রচার করে। সর্বক্ষণ চেতনা, ইমোশন ,আচরন অনুসন্ধান করছে অবিরাম এমন কি বিশ্রামে, নিদ্রায়। মনে হবে মগজ কিছুই করছেনা কিন্তু অবিরাম এই অনুসন্ধান, আমাদের দৈনন্দিন সিদ্ধান্ত গ্রহনে সহায়তা করে চলেছে। ঘুমে বিশ্রামে একই রকম এনার্জি দহন চলে। এত কাজ কর্ম শয়নে স্বপনে, নিদ্রা, জাগরণে এনার্জি গ্রহণ এত এজন্যই লাগে।
প্রফেসর ডা. শুভাগত চৌধুরী
ঢাকা, বাংলাদেশ