ডা. মাহিদুর রহমান সা’দ : সাদা ঝকঝকে পরিপাটি দাঁত, নির্মল হাসি প্রত্যেকেরই কাম্য। কিন্তু একটি সমস্যা যা সবকিছুকে ম্লান করে দিতে পারে এবং তা হল, কথাবার্তার সময় মুখে দূর্গন্ধের উপস্হিতি।
দাঁত ব্রাশ করার পরও মুখে দুর্গন্ধ, এমন অভিযোগ অনেকেরই। অনেক সময় ব্যক্তি নিজেও বুঝতে পারেন না যে সমস্যাটির মূল কোথায়।
আসুন জেনে নেই কেন মুখে দুর্গন্ধ হয়।
প্রথমেই দাঁত বা মুখগহ্বরের কথায় আসিঃ
১. সঠিকভাবে দাঁতের যত্ন না করার দরুণ দাঁতের ফাঁকে ফাঁকে এবং গোড়ায় আঠালো খাবার একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত লেগে থাকলে তাতে ব্যাকটেরিয়া আক্রমণ করে তাতে এসিড নিঃসরণ করে এক প্রকার আঠালো পদার্থ তৈরি যা প্লাক নামে পরিচিত। পরবর্তীতে তা ক্যালকুলাস বা টারটার নামে শক্ত আবরণে পরিণত হয়ে মাড়ির প্রদাহ সৃষ্টি করে মুখে দূর্গন্ধ তৈরি করতে পারে।
২. মুখের ভিতর ছত্রাক বা ফাঙ্গাসের কারণে গালে, জিহ্বা বা মাড়িতে দীর্ঘদিন যাবত ঘা বা ক্ষত থাকলে তা থেকে দুর্গন্ধ হতে পারে।
৩. ইনফেকশন বা আঘাতের দরুন দাঁত ক্ষতিগ্রস্ত হলে এবং তা অনেকদিন চিকিৎসাবিহীন থাকলে ক্রমান্বয়ে আক্রান্তস্থানে পুঁজ জমে মুখের দূর্গন্ধ সৃষ্টি করতে পারে।
৪. মুখে সিস্ট, টিউমার হলে তা থেকেও দূর্গন্ধ হতে পারে।
মুখ বা দাঁত ছাড়া অন্য যেসব কারণে হতে পারেঃ
১.পানি কম খেলে, অভ্যাস বা ঠান্ডাজনিত কারণে মুখ দিয়ে শ্বাস-প্রস্বাস নিয়ে থাকলে, লালাগ্রন্থিতে প্রদাহ থাকলে মুখে লালা কম নিঃসরণ হয় এবং মুখ শুকিয়ে গিয়ে ব্যাকটেরিয়ার পরিমাণ বাড়তে থাকে। ফলশ্রুতিতে মুখে দূর্গন্ধ হয়।
২. সাইনোসাইটিসের সমস্যা থাকলে গলবিলে মিউকাস নামক কিছু পদার্থ জন্মে মুখে দূর্গন্ধ সৃষ্টি করে।
৩. টনসিলে প্রদাহ থাকলে ঐস্থানের ব্যাকটেরিয়া সালফার জাতীয় উপাদান তৈরি করলে মুখে দূর্গন্ধ হয়।
৪. পাকস্থলীতে গ্যাস্ট্রিক আলসার বা এসিডিটির সমস্যা থাকলে টকজাতীয় গ্যাস সৃষ্টি হয়ে মুখ দিয়ে বের হওয়ার দরুণ মুখে দূর্গন্ধ হয়।
৫. কিডনিতে সমস্যা থাকলে অ্যামোনিয়ার মত ঝাঁঝালো গন্ধ সৃষ্টি হয়।
৬. লিভারের সমস্যায় মুখে পচা ডিমের মত দূর্গন্ধ তৈরি হয়।
৭. মহিলাদের গর্ভাবস্থায়, ডায়াবেটিস, নাকে বা গলায় সমস্যা থাকলেও মুখে দূর্গন্ধ হতে পারে।
প্রতিকারঃ
১. দিনে অন্তত দু’বার নিয়মিত দাঁত ব্রাশ, মাঝে মাঝে মাউথওয়াশ ব্যবহার করা।
২. দাঁতের ফাঁকে ফাঁকে জমে থাকা খাদ্যকণার পরিষ্কারের জন্য ইন্টারডেন্টাল ব্রাশ বা ফ্লস ব্যবহার করা।
৩. দাঁত, মাড়ি বা মুখে কোন সমস্যা ও রোগ হলে ডেন্টাল সার্জনের পরামর্শ নিয়ে চিকিৎসা নেয়া।
৪. দাঁত বা মুখ ব্যতীত শরীরের অন্যত্র সমস্যা থাকলে রোগের সাথে সম্পর্কিত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সরণাপন্ন হওয়া।
৫. প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি গ্রহণ এবং কোন খাবার খাওয়ার পরপর মুখ ধুয়ে ফেলা।
মুখে দূর্গন্ধ কেন হয় – এই বিষয়ে সচেতন থাকা এবং সঠিক সময়ে চিকিৎসা গ্রহণ করলে আশা করা যায় মুখের দূর্গন্ধ থেকে রেহায় পাওয়া সহজ হবে।
ডা. মাহিদুর রহমান সা’দ
ডেন্টাল সার্জন